ডিমপোচ নাকি সিদ্ধডিম এ উপকারিতা বেশি
বিগত বছরের হিসেব কষলে দেখা যায়, বাঙ্গালির আমিষ-চৈতন্যে ডিম কখনোই একটা ‘সুষম খাদ্য’ বলে পরিগণিত হয়নি। অথচ ব্রেকফাস্ট থেকে শুরু করে ডিনার পর্যন্ত বাঙ্গালীর প্লেটে প্লেটে ডিম গড়াগড়ি খেয়েছে লাটাই সুতোর মতোই।
ডিম যেন তাদের কাছে স্রেফ ভাঙ্গা কুলা। প্রয়োজন হলেই ডিমের কাছে ছুটো। অার প্রয়োজন শেষ তো নাক সিঁটকিয়ে বলো ‘আমি ডিম খাই না’।
তবে অনেকেই আবার রক্তে চর্বির পরিমাণ কম রাখতে, অথবা হৃদরোগকে ভয় পেয়ে ডিম খান না। কিন্তু আসলেই কি ডিম এগুলো বাড়ায়? না। বাড়ায় না। বরং চিকিৎসকেরা বলেন তার উল্টো কথা।
তারা মতে, সকালের নাস্তায় একটি ডিম মাসে প্রায় ৩ পাউণ্ড পর্যন্ত ওজন কমাতে পারে! কী! অবাক হচ্ছেন? আসলে অবাক হওয়ারই কথা। সম্প্রতি ডিমের এইরকম অারো কিছু অবাক হওয়ার মতো কথা তুলে বলছেন পুষ্টিবিদগণ।
তারা বলেন, ছোট্টো একটা ডিমে রয়েছে হাজারো ভিটামিন। এর ভিটামিন বি খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে প্রচুর সাহায্য করে।
ডিমে আছে ভিটামিন এ। যা দৃষ্টিশক্তি করে উন্নত। এছাড়াও ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও জিয়েক্সেনথিন বয়সকালের চোখের অসুখ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। এই একই উপাদান চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।
মাঝে মধ্যে বার্ড ফ্লু আতংক হিসেবে দেখা দিলে অনেকেই মুরগি থেকে দূরে থাকেন। দূরে থাকেন ডিম থেকেও। যদিও গবেষকরা বলছেন, বার্ড ফ্লু ডিমের ওপর প্রভাব ফেলে না। সুতরাং বার্ড ফ্লুর সময়ও আপনি ডিম খেতে পারেন নিশ্চিন্তে ।
তবে কথা হচ্ছে ডিমতো খাবেন? কিন্তু কীভাবে খাবেন? পোচ, মামলেট না সেদ্ধ? কোনটা অাপনার সাস্থের জন্য উপকারী?
তাহলে আসুন এই দুই খাবারের গুণাগুণ ও অপকারিতা প্রসঙ্গে বাড়ডেম হাসপাতালের প্রধান পুষ্টিবিদ ‘শামসুন্নাহার নাহিদ’ কী বলেন তা জেনে নিই।
তিনি বলেন, তেলে ভাজার কারণে সেদ্ধ ডিমের চেয়ে ডিম পোচে ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। যারা ওজন ঠিক রাখতে চায় কিংবা বাড়াতে না চায় তাদের ডিম পোচ না খাওয়াই ভালো।
আর ব্লাডপ্রেশারের সমস্যা থাকলে এটি খাওয়া থেকে বিরত থাকাই বাঞ্ছনীয়। তবে বাচ্চাদের জন্য ডিম পোচ ভালো। কারণ সেদ্ধ ডিমের চেয়ে ডিম পোচের কুসুমে গুণাগুণ বেশি থাকে।
আর যাদের ব্লাডপ্রেশারের সমস্যা আছে, তাদের জন্য সেদ্ধ ডিমই উত্তম। সেদ্ধ ডিমে আছে ভিটামিন, প্রোটিন ও শরীরের জন্য উপকারী চর্বি উপাদান। ফলে সকাল বেলা একটি সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শরীরে শক্তি পাওয়া যায়।
সেদ্ধ ডিমে শরীরের জন্য উপকারী মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড চর্বি আছে। এগুলো স্যাচুরেটেড ফ্যাটকে সরিয়ে দিয়ে তার স্থান দখল করে এবং রক্তের কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলে।
ফলে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। হার্টের জন্য উপকারী এই চর্বিগুলো ইন্সুলিনও নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়বেটিসের জন্য এধরনের ফ্যাটগুলো খুবই উপকারী। সেদ্ধ ডিমের দুই তৃতীয়াংশই এ ধরনের উপকারী ফ্যাট দিয়ে গঠিত।
একটি বড় সেদ্ধ ডিমে প্রায় ৮০% ক্যালোরি আছে। এর মধ্যে ৬০% ক্যালরি আসে চর্বি থেকে। ফলে সকালের নাস্তায় একটি মাত্র সেদ্ধ ডিম খেলে সারাদিন শক্তি পাওয়া যায় এবং দূর্বলতা হ্রাস পায়।
তবে কেউ যদি ক্যালোরি কাট-ছাট করতে চান তাহলে ডিমের কুসুমটা না খেয়ে কেবল মাত্র সাদা অংশটা খান। তাহলে ডিমের ক্যালোরি অর্ধেকেরও বেশি কমে যাবে।
মনে রাখবেন ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। তাই যাদের অ্যালবুমিন কম তারা দিনে একাধিক ডিম খেতে পারেন এবং সেদ্ধ ডিম তাদের জন্য খুবই উপকারী।
আসলে বাইরে আমরা যতোই ডিম বিমুখতার ভান করি না কেন ভেতরে ভেতরে অামরা সবাই যে কম বেশি ডিমনির্ভর তা কিন্তু প্রমাণ হয়ে গেছে ‘বিশ্ব ডিম দিবসে’ই।
তিনটাকা পিছ ডিমের জন্য আমরা যেই দৃশ্য দেখিয়েছি তা অমর হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। তাই ডিমকে আর অবহেলা নয়। ডিমকে মর্যাদা দিতে শিখুন। তাহলে ডিমও অাপনাকে সু-সাস্থ দিতে কার্পণ্য করবে না।
ধন্যবাদ।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy