না বলা অস্তিত্ব
অ্যাসেম্বলি হবার আগ পর্যন্ত স্কুলমাঠের কর্নারের আমগাছটাকে স্ট্যাম্প বানিয়ে প্রতিদিন শর্টক্রিজ ক্রিকেট খেলতাম। একদিন ক্রিকেট খেলছিলাম, আমি ছিলাম উইকেট কিপার। সেই মুহূর্তে, হঠাৎ আমার চোখ চলে যায় স্কুলের ২য় গেটের দিকে। একটা গোলাপি রঙের সোয়েটার পড়া মেয়ে দেখতে পাই। সে কোন এক অদ্ভুত আকর্ষনে আমাকে স্তব্দ করে দেয়। আমি তার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়েই ছিলাম হঠাৎ খেয়াল হলো আমি শুধু শুধু চেয়ে আছি মেয়েটা সেখানে নাই । তখন আমার বন্ধু ( তুষার) কে বললাম যে, “দৌড়া , একটা গোলাপি রঙের সোয়েটার পড়া মেয়ে যাচ্ছে তাকে দেখে আয়।” তুষার আমার কথা মত উসাইন বোল্ট স্টাইলে দৌড় দিলো। কিছুক্ষন পর ফিরে এসে মেয়েটির রূপের একগাদা প্রশংসা করলো। আমি তার কথার মাঝখানে বাধা দিয়ে বললাম, “মেয়েটাকে দেখলে চিনতে পারবি? ”। সে বলল , “ চিনতে পারবোনা মানে! তার মাথার চুল দেখেও তাকে চিনতে পারবো।” হয়তো তুষার একটু বেশিই বলছিলো। আবার হয়তো না। কারন মেয়েটা আসলেই সবার থেকে আলাদা ছিলো।
তুষার মেয়েটিকে ভালোমত দেখলেও আমার তেমন দেখার সুযোগ হয়নি। আমার থেকে ১৫০ মিটার দূর দিয়ে হেটে যাচ্ছিলো। আমি কেবল তার হাটার স্টাইল আর পেছন দিকটা দেখেছিলাম মাত্র।
ততক্ষণে আমার তো সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেছে। সব সময় মেয়েটার হেটে যাবার একটা প্রতিচ্ছবি আমার মনে ভেসে উঠে। লেখাপড়া, খেলাধুলা সব বাদ, চোখ বন্ধ করলে তাকে দেখি। এর পর তার সাথে দেখা হয় ৫ দিন পর। যদিও পাঁচ দিন মাত্র কয়েকটা দিন। আমার কাছে মনে হচ্ছিলো ৫ বছর কিংবা ৫ যুগ। ২২ শে ফেব্রুয়ারী আবার তার সাথে দেখা। তুষার আমার দিকে ইশারা করলো, দোস্ত ঐ দেখ সেই মেয়েটা। আমার চোখ তার বলার আগেই সেদিকে চলে গেছে। মনে হচ্ছিল সৃষ্টি কর্তা অদ্ভুদ সব উপাদানে পরম যত্নে নিজ হাতে তৈরি করেছেন। এর বেশী কিছু বলা পসিবল নাহ। “আমি তো পুরাই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম যে মানুষ এতো সুন্দর হতে পারে!!!! ?
আমরা যে কোচিং এ পড়তাম মেয়েটাও সেই কোচিং এ ভর্তি হয়েছে। আমার অবস্থা তো পুরাই পাংখা। নিজেকে মনে হচ্ছিলো আকাশে উড়তেছি। প্রতিদিন এই সুন্দর মুখ আমার সামনে দিয়ে ঘোরাফেরা করবে, আমার জন্য এর চেয়ে মধুর অনুভুতি কি বা হতে পারে?
সেদিনই আমার সকল বন্ধুকে বলি যে এই মেয়েটিকে দেখার পর আমার অন্যরকমের ফিলিংস কাজ করতেছে। তো যেভাবে পারিস এর সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নে। এই প্রথম কোন মেয়ে আমাকে আকর্ষিত করেছে। আমার বন্ধুরা মনে হয় আমার চেয়েও বেশি খুশি। তারা পূর্ন উদ্যোমে কাজে নেমে পড়লো। তার নমুনা হিসেবে পরেরদিনই মেয়েটার নাম ঠিকানা পেয়ে গেলাম। মেয়েটা আমার চেয়ে এক ব্যাচ নিচের ক্লাসে পড়ে। ভাগ্য ক্রমে আমার এক বান্ধবীও এক ক্লাস গ্যাপ খেয়ে ওর সাথেই পড়ে। আমার ইদানিং চলাফেরা দেখে সে কেমন করে জানি টের পেয়ে গেছে যে আমার মনের ভেতর আইলা ঘুর্ণিঝড় চলতেছে। সাধারনত আমি খুব লাজুক টাইপের ছেলে। কোন মেয়ের দিকে তাকাই না। হঠাৎ করেই একটা মেয়ে এসে আমার লজ্জার পর্দা চিড়ে দিলো। সেই ছেড়া পর্দাতে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো আমার সেই বান্ধবী। কোন ভনিতা না করে সরাসরি জিজ্ঞেস করলো, কি হইছে তোর? আমিও কোন ভনিতা না করে সরাসরি তার কাছে সব খুলে বলে দেই। সে বললো , প্রেম করবি? আমি ততক্ষনে হার্ট এট্যাকের পর্যায়ে চলে গেছি। ভেতরের আনন্দের সমস্ত স্নায়ুগুলো একসাথে নাড়া দিয়ে উঠলো। সে আমার অবস্থা দেখে বলল, একটা চিঠি লিখে দে।
আমি তো ভয়ে অস্থির। আমি লিখবো চিঠি? কি লিখবো চিঠিতে? আর সে চিঠি যদি অন্য কেউ দেখে ফেলে, তাহলে আমার কি হবে? আর যদি আমার মা জানে তাহলে তো কোন কথাই নাই, আমার আর আস্ত থাকা হবে না। যাই হোক, সে নির্ভয় দিয়ে বললো তুই একটা চিঠি লিখে দে, বাকিটা আমি দেখবো।
এই সময় যা ঘটেছে টা আমার কাছে ইতিহাস হয়ে থাকবে। আগে কখনো লাভ লেটার লেখি নাই। কারো লাভ লেটারও দেখি নি। তারপরেও নৈব্যত্তিক প্রশ্নের মত করে কয়েকটা প্রশ্ন করে সেটাকে আমার লাভ লেটার হিসেবে মেরে দিলাম। পরের দিন আমি আমার বান্ধবীকে দিলে সে ওকে দিয়ে দেয়। তখন প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছিল। সে আমার চিঠিটি হার্ডবোর্ডের উপর নিয়ে আরও দুজন বান্ধবীকে নিয়ে পড়তে থাকে সাথে আমার বান্ধবীও ছিল, তারা চিঠি দেখে হাসতে থাকে, আমি দূর থেকে ভাবলাম হয়ত রেজাল্ট পজিটিভ। এমসিকিউ হওয়াতে সে আমার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য সকল উত্তর ছিল না বোধক। ততোক্ষণে ওর বাবা ওকে নিতে আসে এবং সে তাড়াহুড়া করে ওর বান্ধবীকে লেটার টি দিয়ে দেয়, বান্ধবী আমাকে লেটার টি দিয়ে বলে কাল স্কুলে আয় আগে... আমি তো পুরাই অবাক, সেই আমারে দিতে বলল আবার সেই থ্রেট করে। পরের দিন বিষয় টা বুঝলাম যে আসলে অন্য কোন কারণে নয় ঘটনাটা ঘটেছে এমসিকিউ লাভ লেটার। সে হাসবে, কাঁদবে নাকি আমারে কাটবে বুঝতে পারতেছিল না।
আমার লাভ লেটার মিশন ব্যর্থ। হতাশ হয়ে কিছুদিন গেলো। আমার এই হতাশার মুখে ঝাটা মেরে আমার বন্ধুরা পরামর্শ দিলো, “দোস্ত সরাসরি অফার করে ফেল”। কিন্তু আমি তো তার সামনে গেলেই নিস্তব্দ হয়ে যাই, মনে হয় ঐ মুহুর্তে আল্লাহ আমার মুখ থেকে কথা কেড়ে নেয়। এই লজ্জার কথা কিভাবে আমার বন্ধুদের বোঝাবো? আমার বান্ধবী আমার জন্য পর পর তিন দিন মেয়েটাকে জাম গাছের নিচে দাড় করে রেখেছিলো।
কিন্তু আমি তিনদিনই তার সামনে দিয়ে দ্রুত হেটে পালিয়ে গেছি। তাকে প্রস্তাব দেবার মত যথেস্ট সাহস অনেক চেস্টা করেও আনতে পারি নাই। তখন আমার কাছে মনে হয়েছিলো। আচ্ছা সাহস কি কিনতে পাওয়া যায় না? যদি পাওয়া যেত তাহলে সবগুলা সাহস একাই কিনে নিতাম। তারপর সেই মেয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলতাম, “ভালবাসি তোমায়”। কিন্তু বাজারে সবকিছুই পাওয়া গেলেও সাহস নামক কোন পন্য পাওয়া যায় না।
বন্ধুরা এতটাই তার দিকে খেয়াল রাখত যেন প্রতিটি মুহূর্তের খবর তারা আমার কাছে পৌঁছে দিত। তার খোঁজখবর নিয়ে সরাসরি তার নাম বললে স্যারদের কাছে ঝামেলা হবার সম্ভাবনা ছিল, আবার অনেক সময় অনেক লোকের সামনে বলাও তাদের জন্য ঝামেলাদায়ক। তো নাম বলার সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য একদিন তাদের বলে দিলাম যে এর রিয়েল নাম বলার দরকার নেই, তোরা সুইচ নামে আমারে খবর দিবি। তাদেরও কেন জানি নামটা পছন্দ হয়ে গেল। সেই থেকে তারা সুইচ নামেই তাকে সম্বোধন করত। এ বিষয়টি অবশ্য আমার বন্ধুমহল ছাড়া আর কেউ জানত না।
তবে অনেক বন্ধুই আমাকে জিজ্ঞাস করত যে সুইস নাম কেন? অন্য নামও তো হতে পারত, কিন্তু আসল কাহিনী তাদের কখনই বলি নি। আসলে switch এর সমার্থক শব্দ হচ্ছে change তাকে প্রথম দিন দেখার পরই আমার ব্রেইন ব্যপক আকারে পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই সব মিলিয়ে সুইস নামটাই এখনও আমার বন্ধুদের মুখে মুখে। এখনও তারা খোঁজ খবর এই ভাবে নেয় যে "সুইস এর সাথে সর্বশেষ কবে দেখা হয়েছে?"
মেয়েটা তার নানা বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করতো। প্রতি শনিবার সে বাসা থেকে নানাবাড়ি আসতো। আবার এক সপ্তাহ কোচিং করে বৃহস্পতিবার নিজ বাসায় ফিরে যেত। তখন আমার বন্ধুরা মিলে এক মাস্টার প্লান বানালাম।
সে বাসায় যায় ভ্যান এ করে। আমরা মানে আমি আর আমার এক বন্ধু মিলে ঠিক করলাম সে যে ভ্যান এ করে বাসা যাবে আমিও সেই ভ্যান এ তার পাশে উঠবো। প্লান অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সে একটা ভ্যান এ উঠলো। এমন সময় আমার ফ্রেন্ড আলামিন আমাকে ফোনে মেসেজ দিলো “দোস্ত ভ্যানে উঠছে”। আমি তখন সেখান থেকে আধামাইল সামনে দাঁড়িয়ে। ভ্যানটা আমার সামনে আসলে আমি দাড়াতে বলি। কিন্তু মেয়েটা ভ্যানচালক কে দাড়াতে নিষেধ করে। আমার বন্ধু আলামিন থাকার কারনে ভ্যানচালক দাড়াতে বাধ্য হয়। আমি ভ্যানে উঠে পড়ি। যদিও প্লান অনুযায়ী আমার বসার কথার মেয়ের পাশে, কিন্তু আমি তার সামনে বসে পড়ি। সেদিনই আমি অনেক কিছুই বলতে চেস্টা করি কিন্তু আবার আমার মুখের শব্দ হারিয়ে যায়। আমি অনেকটা বোবার মত বসে থাকি। এদিকে আমার ফ্রেন্ড আমার নীরবতা দেখে আমাকে চিমটি দিতে থাকে। তার চিমটি আমি অতীষ্ট অথচ মেয়েটা থাকার কারনে আমি নীরবে সহ্য করে গেলাম।
০৭ মার্চ ২০১০ বিকেল ৪ টা ৫৮ মিনিটে আমার ফোনে একটা মিস কল আসে। কেন জানি তৎক্ষণাৎ মন টা বলে উঠলো যে এ সেই মিস দিয়েছে, কিন্তু সেই সময় আমি আমাদের দোকানে বসেছিলাম আর আমার বাবা আমার পাশেই বসে ছিলেন। আমাদের মসজিদের তৃতীয় তলায় উঠে গ্রামীণফোন টাওয়ারের নিচে প্রায় সময়ই বসে থাকতাম। গরমের দিন সুন্দর বাতাস পাওয়া যেত। প্রায় ৩০ মিনিট পর আমি আমার বাবাকে ক্যাশে বসিয়ে সরাসরি চলে যাই মসজিদের তৃতীয় তলায় টাওয়ারের নিচে। সেখানে উঠে ফোন দেই আমার সেই বান্ধবীকে। ওকে বললাম যে একটা নাম্বার থেকে মিসকল এসেছিলো আমার মনটা বলছে যে এটা অই দিয়েছিল, সে নাম্বার টা শুনে কনফার্ম করল এটা আসলেই সে দিয়েছিল। তখন ওরে অনেক অনেক রিকুয়েস্ট করে কনফারেন্স করতে বললাম। সে কনফারেন্স করে আমারে শুনায়ে দিল।
“তুই আমার বন্ধুর ফোনে মিস্কল দিছলি,
সে বলল মনে হয়।
এ বলল ক্যান
সে বলল “এমনি দেখনু নাম্বার, তাই... ””
সে তার নানুর ফোন থেকে মিসকল দিয়েছিল। পরবর্তীতে অনেক চেষ্টা করেও তাকে আর ফোনে পাওয়া যায় নি। এরপর থেকে এখনও অচেনা নাম্বারের ফোন আসলেই হৃদপিণ্ডটা একটু কেঁপে উঠে। প্রতিটা মিসকলকে ব্যাক করি বহুল প্রতীক্ষিত "হ্যালো" কণ্ঠটা শুনব বলে। কিন্তু ভাগ্যে না থাকলে যা হয়......
ওকে দেখার পর থেকে অনেক অনেক অজানা বিষয়ের সাথে পরিচয় হই। অনেক না দেখা পথ দেখার সৌভাগ্য হয়। সেই সময় একটু বেশী আবেগের বশবর্তী ছিলাম, তাই আগে পিছে না ভেবে যে যেটা বলত সেটাই করতাম। তার মধ্যে অন্যতম একটা হচ্ছে ব্ল্যাক ম্যাজিক। যদিও এ বিষয়ের প্রতি আমার কোন বিশ্বাস ছিল না বা নিজেই বিশ্বাস করতে পারতাম না। কিন্তু আমার এক বন্ধু বলল অনেকের কাজ হয়েছে, ট্রাস্টেড। আমি বললাম যা করার তুই করবি যা যা লাগে আমি দিব। সে অনুযায়ী সে মাঝে মাঝে খরচপাতি চাইত আমিও দিতে দিতাম আর শুনতাম যে কতদূর, সে শুধু বলত আর কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। আসলে আমার বন্ধুটি আমাকে খুব ভালোবাসত, সে অনেক দূর দূরান্তের ব্ল্যাক ম্যাজিসিয়ানের সাথে সাইকেল মেরেই যোগাযোগ করত। অনেকদিন ওর হয়ে যাবে/হয়ে গেছে প্রায় শুনে শুনে নিজেই ব্ল্যাক ম্যাজিক সম্পর্কে ঘাটাঘাটি করতে লাগলাম। শেষে দেখি ম্যাজিসিয়ানরা আসলেই ধোঁকাবাজি করেছে। আর এই বিষয়টা সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহ বিরোধী। আর তখন থেকেই এই চ্যাপ্টার অফ।।।
যে কারণে ভালোবাসি ওকেঃ গবেষণা মতে, প্রেমে পড়লে মস্তিষ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ নিঃসৃত হতে থাকে ফিনাইল ইথাইল অ্যামিন (Phenyl ethylamine), অ্যামফিটামিন (Amphetamine) ও ডোপামিন (Dopamine) জাতীয় হরমোন। হরমোন তো আর নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। ওকে প্রথম দেখাতেই মস্তিষ্ক হরমোন নিঃসৃত করা শুরু করেছে, এবং দুনিয়াতে এত এত মেয়ে থাকা সত্তেও বিশেষ একজন কে দেখলেই মস্তিষ্ক হরমোন নিঃসৃত করছে যার কোন থামাথামি নাই।
এসএসসির সময় ৩ বছর পূর্তি হবে, ততদিনে মাথায় আমার একটু একটু করে বুদ্ধি গজাচ্ছিলো। ভাবলাম যে এবার একটা চিঠি দিব। ২ মাস আগেই প্লান। আবাসিকে ছোট্ট একটা রুম, এক বেডে আমরা দুজন বন্ধু ছিলাম, ওর সাথে বুদ্ধি করে প্রতি রাতেই চিঠি লিখি, এভাবে দেড় মাস ধরে সংযোজন বিয়োজন করে চিঠি লিখলাম। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক বাকি। এবার ফাইনাল লেখার পালা। এক ডজন A4 পেপার সেই মানের ৩ টা কলম নিয়ে আসা হল। রাতে লাইট অফ করে মোম বাতি জালিয়ে A4 কাগজে শুরু হল ফাইনাল চিঠি লেখার কাজ। হঠাথ ঘটে গেল বিপত্তি। এক স্যার রাতে টহল দিচ্ছিল রুমে রুমে। টিনের রুমের ফুটো দিয়ে আমার কাজকর্ম দেখে ফেলেছে। স্যার খুলতে বলল। ততোক্ষণে আমি জায়গামত সব সরিয়ে ফেলেছি। তিনি রুমে ঢুকে বলতেছেন যে চিঠি কই? আমি তো পুরাই অবাক! স্যার কেমনে জানে। আসলে সিনিয়র ও আমাদের সময় পার করার কারণে তারা তো সেটা বুঝতে পারবেই সেটা আমিও বুঝতে পারলাম তাই স্বীকার করে ফেললাম। কিন্তু আমি তো তারে দেখাবো না। প্রাইভেট ও সিক্রেট বলে একটা ব্যাপার আছে। কিন্তু তিনি নাছর বান্দা, শেষে আমাকে হেল্প করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চিঠিটি পড়লেন। দীর্ঘ এক সস্থির নিঃশ্বাস ফেলে গম্ভীর ভাবে বললেন “আরিফুল! যদি এই চিঠিটা সে পড়ে তাহলে সে তোর প্রেমে পড়বেই”। বলে রুম থেকে বেড়িয়ে গেল। চিঠি লেখা শেষ। খামে ভড়তে হবে। যেমন তেমন খাম হলে তো হবে না, স্পেশাল মানুষ বলে কথা। পরের দিন নিয়ে আসলাম মোটা আর্টপেপার। আবার রাতে বসে বসে খাম ডিজাইন করতাম। অবশেষে একটা খাম তৈরি হয়ে গেল। খামে ভরে চিঠিটা ঢুকিয়ে আঠা মেরে দিলাম। খামটি খুলার জন্য অদ্ভুদ এক সিস্টেম করা ছিল যাতে খামটি ছিঁড়ে না যায়।
আমাদের এসএসসি চলছে তাই স্কুল বন্ধ, সেই আগের বান্ধবী অন্য কোচিং সেন্টারে পড়ে। কার মাধ্যমে চিঠিটা দিব সেটা ভাবতেই মাথা নষ্ট ভাব। শেষে আমার পূর্বের রুমমেট আমাকে আশ্বস্ত করল যে এ দায়িত্ব ওর। এসে গেল সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, ভাগ্যক্রমে সেদিন আমার এক্সাম নেই। সকালেই চিঠিটি ছোটভাইকে দিলাম সে তার দুবান্ধবীকে দিয়ে দিল, তারা চিঠিটি দিয়ে দিবে টা পূর্বেই প্লান করা ছিল, আবাসিকের ২ নাম্বার রুমের জানালায় গ্লাস/আয়না সেট করে পুরো বিষয়টা আমি মনিটরিং করছিলাম। রুমে বসে বসে দেখলাম যে সব কিছুই ঠিক ঠাক হয়ে গেছে এবং চিঠিটা ও এক্সেপ্ট করেছে।
ভাগ্যে না থাকলে যা হয়, সকল প্লান পরিকল্পনা সব কিছুই ঠিক ঠাক থাকলে ওর এক বান্ধবীকে সেদিন কোচিং আসা বন্ধ করতে পারলেই হয়তোবা সফল হতে পারতাম, আসলে ওদিকে একটুও খেয়াল ছিল না। ওর অই বান্ধবীটা চাইত ওর রিলেটেড একজনের সাথে সম্পর্ক করুক। কোচিং ছুটি হয়ে গেল আবার আয়নায় (আমার সেই কালের সিসিটিভি) বসে সবার গতিবিধি দেখছিলাম। সে তো কোচিং থেকে বের হয়ে গেছে, তার মানে সাকসেস, কিন্তু রাস্তায় উঠে ওর বান্ধরি জানতে চায় যে ওরা কি দিল। সে দেখাল এবং যখনই দেখল আমার নাম তখই সে টা স্যারকে দিতে বলল। আমি তো আমার সিসিটিভি (আয়না) তে দেখতেছি। আবার ফিরে এসে স্যারকে দিল ততোক্ষণে আমি আবাসিক থেকে উধাও। যখন দেখালাম আবাসিকের পরিচালক আবাসিক থেকে বেড়িয়ে গেলেন তখন আমি রুমে ঢুকে শুয়ে পরলাম। কিছুক্ষণ পর সেই স্যার আমার রুমে এসে বলল এটা (চিঠির খামের একটা ছেঁড়া অংশ) কি? আমি বুঝলাম চিঠিটা পরিচালক স্যারকে দিয়েছে। বিলিভ ইট ওর নট স্যার আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে কিছু না বলে আমার রুম থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।
কয়েকদিন পর এসএসসি শেষ হয়ে যায়, আবাসিক থেকেও বের হয়ে যাই। পরবর্তীতে স্কুল/কোচিং এর মত এতো কাছে থাকার আর সুযোগ হয়ে উঠে নি।
তারপর আরও ৪ বছর কেটে যায় দূর থেকে দেখে দেখে। একদিন ঘুম থেকে উঠে ফেসবুক এ লগিন দিতেই ফেসবুক ওর আইডিকে সাজেস্ট করে। অনেক আসা নিয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিলাম, এক্সেপ্ট তো দুরের কথা মার্ক অ্যাজ স্পাম করে রাখে। মেসেজ স্প্যামে যাবে জেনেও আমি মাঝে মধ্যেই মেসেজ দিতাম। হঠাথ ৪ জুলাই ১৬ তে মেসেঞ্জার এলার্ট দেয় যে উনি মেসেজ রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করেছে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিন পড়ে যেদিন ২৭০০ ডে চলছিলো সেদিন দেখি আবারো ব্লক করে দিয়েছে।
তার সাথে কখনই আমার কথা হয়নি, সে আমার আওয়াজ শুনেনি, আমিও তার না। সে জানলেও আমি কখনো আমার মুখ দিয়ে তাকে বলতে পারিনি, বহুবার সুযোগ পেয়েছি, বলার চেষ্টা করেছি, কিন্তু মুখ থেকে কোন শব্দ নির্গত হয়নি। আসলে তার মুখে রিজেকশনের ভাষা হয়তো আমার কান সহ্য করতে পারবে না।
তাকেও যে আমাকে ভালবাসতে হবে তার কোন মানে/কথা নেই। তার নিজের স্বাধীনতা মত চলার অধিকার আছে। আমি আমার প্রেমের বশবর্তী করে তার স্বাধীনতাকে হরন করতে পারি না। আমার ভালো লাগে তাই ভালবাসি। হয়তো বাকি সময়টাও এভাবেই কেটে যাবে।
তিস্তা ছাত্রাবাস
রংপুর পলিটেকনিট ইন্সটিটিউট
8 Aug 2016
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy