ভাই আমি অনেক হুজুরকে জিজ্ঞাস করলাম তাদের মধ্যে অনেকে বলছে ব্যাংকে চাকরি করলে সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে আবার অনেকে বলছে, না ব্যাংক সুদের সাথে জড়িত কিন্তু ব্যাংকে যারা চাকরি করে তারা যদি কেউ সুদের সাথে জড়িত না হয় তাহলে তারা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাদের উপার্জন হালাল। এখন কোনটা সঠিক? আমাকে একটু বিস্তারিত বলুন। অবশ্যই ভালোভাবে উত্তরটা দিবেন? 

2487 views

1 Answers

সূদমুক্ত ব্যাংকে চাকরী অবশ্যই হালাল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকই শতভাগ সূদমুক্ত নয়। ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাঝে কার্যক্রম পরিচালনা করে বিধায় তারা কিছু ক্ষেত্রে সুদমুক্ত লেনদেন করতে পারে না। যেমন- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে যে বাধ্যতামূলক সঞ্চিতি, (SRR) এবং Foreign Currency Clearing Account এ জমাকৃত বৈদেশিক মুদ্রার উপরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদ দেয়। বিদেশী ব্যাংকগুলোর সাথে ইসলামী ব্যাংকের যে Nostro Account থাকে, সেটা চলতি হিসাব হলেও Overnight lending থেকে তারা সেখান থেকে সুদ পায়। তবে, এসব উৎস থেকে আসা অর্থ ব্যাংক তার মূল আয়ের মাঝে অন্তর্ভুক্ত না করে শরীয়াহ কাউন্সিলের নির্দেশিত পন্থায় ব্যয় করে।

ব্যাংকে চাকুরীজীবি যা আয় করেছেন এবং ঐ অর্থ দিয়ে যেসব কাজ করেছেন তাতে কোন সমস্যা নেই, যদি এই বিষয়ে তিনি ইসলামের বিধান না জেনে থাকেন।‬

সূদী ব্যাংকের বিষয়টি স্পষ্ট। তাই এটি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। কেননা আল্লাহ তা‘আলা সূদকে হারাম করেছেন এবং সূদখোরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সূদগ্রহীতা, সূদ দাতা, সূদের দলীল লেখক এবং সূদের সাক্ষী সকলের উপর আল্লাহর লা‘নত। আর (পাপের দিক দিয়ে) তারা সকলে সমান....

অতএব, সূদী ব্যাংকে চাকুরীজীবি সূদ ভক্ষণকারীর ন্যায় গোনাহগার হবে এবং তার যাবতীয় উপার্জনও হারাম হবে। কিয়ামতের দিন পাপীদের কৃতকর্ম সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আর আমরা তাদের কৃতকর্মসমূহের দিকে অগ্রসর হব। অতঃপর সেগুলিকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব’।

১. বাক্বারাহ ২/২৭৮-৭৯
২. মুসলিম হা/১৫৯৮, মিশকাত হা/২৮০৭
৩. ফুরক্বান ২৫/২৩

2487 views

Related Questions