4 Answers
বিবাহের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পরিমাণ হল ১০ দিরহাম। যার বর্তমান পরিমাণ হল ৩০০ গ্রাম ৬১৮মিলি গ্রাম রূপা বা এর সমমূল্য। {জাদীদ ফিক্বহী মাসআলা-১/২৯৩}
মোহরে ফাতেমীর পরিমাণ কত?
রাসূল সাঃ আদরের কন্যা হযরত ফাতেমা রাঃ এর মোহর ছিল ৫০০দিরহাম।মুহাম্মদ বিন ইবরাহীম রহঃ থেকে বর্ণিত-
كان صداق بنات رسول الله صلى الله عليه وسلم ونسائه خمس مأة درهم اثنى عشرة اوقية ونصفا (طبقات ابن سعد-8/22
প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ইমাম নববী রহঃ বলেন,
المستحب ان لا يزيد على خمس مأة درهم وهو صداق ازواج النبى وبناته (شرح المهذب-16/327
মুস্তাহাব হল, মোহর পাঁচশত দিরহামের অতিরিক্ত না হওয়া, যা রাসূল সাঃ এর স্ত্রীগণ এবং মেয়েদের মোহর ছিল।বর্তমান ওজন অনুপাতে মুফতী মুহাম্মদ শফী রহঃ একে ১৩১ তোলা ৩ মাশা রূপা সমপরিমাণ বলে সাব্যস্ত করেছেন। {জাওয়াহেরুল ফিক্বহ-১/৪২৪}
যা বর্তমান প্রচলিত গ্রাম পদ্ধতি অনুপাতে এক কিলো ৫৩০ গ্রাম ৯০০ মিলিগ্রাম এর সমপরিমাণ। স্মর্তব্য যে, বর্তমানে ১২ গ্রামে তোলা প্রচলিত নয়। বরং১০ গ্রামে তোলা হিসেবে স্বর্ণ রোপা ক্রয় বিক্রয় প্রচলিত।সেই হিসেবে মহরে ফাতেমী বর্তমানে ১৫৪ তোলা রূপা বা এর সমমূল্য।
আসলে কাবিননামা বলতে বিবাহ সম্পাদনের লিখিত চুক্তি বোঝায়। একে নিকাহনামা বলেও উল্লেখ করা হয়। বিবাহ সম্পাদনের জন্য বা বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ‘কাবিননামা’ অপরিহার্য নয়। কাবিননামা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক মনোনীত কাজী সরকার নির্ধারিত ছকে কাবিননামা সম্পাদন করে থাকেন। স্ত্রীর প্রাপ্য দেনমোহর আদায়, স্ত্রীর ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের পিতৃত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে নিবন্ধিত কাবিননামা একটি আইনি দলিল।
সরকার নির্ধারিত কাজী সরকার নির্ধারিত ছকে বিবাহের নিবন্ধন করবেন। যে কাগজে এই নিবন্ধন করা হয় তা-ই কাবিননামা নামে পরিচিত। কাবিননামায় যা অবশ্যই থাকবে তা হলো: বিবাহের ও নিবন্ধনের তারিখ, স্বামী ও স্ত্রীর নাম, পরিচয় ও বয়স, বিবাহের সাক্ষীদের নাম ও পরিচয়, বিবাহের দেনমোহরের পরিমাণ এবং তা আদায়ের ও বাকীর পরিমাণ, কাজীর সাক্ষর ও সিলমোহর ইত্যাদি এবং এই বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বরপক্ষ নিবন্ধন ফি প্রদান করবে যা ধার্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১২.৫০ টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি। তবে রেজিস্ট্রেশন ফির পরিমাণ ২০০ টাকার কম ও চার হাজার টাকার বেশি হবে না।
আইনের ১০ ধারা মোতাবেক নিকাহ রেজিস্টার বিবাহ রেজিস্ট্রি করনের জন্য যদি ৪ লক্ষ টাকা দেনমোহর হয় তাহলে এক হাজারএর জন্য ১২.৫০ টাকা হারে ফি আদায় করতে পারবে। তবে দেনমোহরের পরিমান যাই হোক না কেন সর্বনিম্ন ফি ২০০টাকার কম হবে না। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের।
Ntv
আশা করি বুঝতে পারছেন।
ধন্যবাদ।
ভাই! কাবিননামা এবং দেনমোহর এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। নিম্নে এ দুইটির পরিচয় ও পার্থক্য প্রদান করা হলো;
কাবিননামাঃ কাবিননামা বলতে বিবাহ সম্পাদনের লিখিত চুক্তি বোঝায়। একে নিকাহনামা বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিবাহ সম্পাদনের জন্য বা বিবাহ বৈধ হওয়ার জন্য ‘কাবিননামা’ অপরিহার্য নয়। কাবিননামা একটি আইনি বাধ্যবাধকতা।
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক মনোনীত কাজী সরকার নির্ধারিত ছকে কাবিননামা সম্পাদন করে থাকেন। স্ত্রীর প্রাপ্য দেনমোহর আদায়, স্ত্রীর ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের পিতৃত্ব ইত্যাদি ক্ষেত্রে যথাযথভাবে নিবন্ধিত কাবিননামা একটি আইনি দলিল।
দেনমোহর বা মোহরানাঃ মুসলিম আইন অনুযায়ী দেনমোহর হলো বিয়ের অন্যতম শর্ত। এই শর্ত অনুযায়ী স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে বিয়ের সময় কিছু অর্থ বা সম্পত্তি পায় বা পাওয়ার অধিকার লাভ করে। দেনমোহর বিয়ের সময়ই ধার্য বা ঠিক করা হয়। এটি স্ত্রীর একটি বিশেষ অধিকার।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশী মনে। তারা যদি খুশী হয়ে তা থেকে অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তা তোমরা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর। (সূরা নিসা: ৪)।
প্রশ্নটা এভাবে হবে যে, সর্বনিম্ন মোহরানার পরিমাণ কত?
মোহরের নিম্নসীমা ইমামদের মতামতসহঃ
১। হানাফীদের মতে, মোহরের সর্বনিম্ন সীমা ১০ দিরহাম।
২। মালেকীদের মতে, মোহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হচ্ছে ১/৪ দীনার অথবা তিন দিরহাম অথবা।সমমূল্যের ব্যবসায়ী পণ্য।
৩। শাফেঈ ও হাম্বলীদের মতে, মোহরের কোন সর্বনিম্ন সীমা নেই। তাদের মতে, যে জিনিসের মূল্য রয়েছে তা মোহর হিসেবে গণ্য হতে পারে। আর যে জিনিস মূল্যহীন তা মোহর হতে পারে না। ইমাম শাওকানী এ মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
শেষকথা, মোহরের সুনির্দিষ্ট কোন পরিমাণ নেই। তা কমও হতে পারে। আবার বেশিও হতে পারে। পারস্পরিক সমঝোতা এবং সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে মোহর কম-বেশী হতে পারে।