আমি আর আমার স্ত্রী যৌন মিলন করার সময় যদি শরীরের সব জামা কাপড় খুলে ফেলি তাহলে কি কোন সমস্যা আছে বিস্তারিত বলবেন একটু?
আমি আর আমার স্ত্রী যৌন মিলন করার সময় যদি শরীরের সব জামা কাপড় খুলে ফেলি তাহলে কি কোন সমস্যা আছে?
বিস্তারিত বলবেন একটু।
3 Answers
যৌন মিলন করার সময় যদি শরীরের সব জামা কাপড় খুলে ফেলেন তাহলে কোন সমস্যা নেই।
ইসলামে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে যে, স্বামী স্ত্রীর মাঝে কোন পর্দা নেই। স্বামী স্ত্রীর সকল অঙ্গ একে অন্যের দেখার অধিকার রয়েছে। সহবাসের সময় শরীরে কাপড় রাখা বা না রাখা নিজের ইচ্ছার উপর।
কোরআনের বানীঃ তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য পোশাক স্বরূপ আর তোমরা তাদের পোশাক স্বরূপ। (সুরা আল-বাকারাহঃ ১৮৭)
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমাদের স্ত্রীরা হলো তোমাদের জন্য শস্য ক্ষেত্র”।
এরপর বলা হয়েছে, “অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার”।
এমনকি সহবাসের সময় স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের গোপনাঙ্গের দিকে তাকানো জায়েয আছে। হাদিসে এসেছে, বাহয বিন হাকীম তিনি তার পিতা তিনি তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, একদা তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের গোপনাঙ্গ কী গোপন করব, আর কী বর্জন করব?
তিনি বললেন, তুমি তোমার স্ত্রী ও ক্রীতদাসী ছাড়া অন্যের নিকটে লজ্জাস্থানের হেফাযত কর।
সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! লোকেরা আপোসে এক জায়গায় থাকলে? তিনি বললেন, যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, কেউ যেন তা মোটেই দেখতে না পায়।
সাহাবী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি নির্জনে থাকে?
তিনি বললেন, ‘মানুষ অপেক্ষা আল্লাহ এর বেশী হকদার যে, তাকে লজ্জা করা হবে। (আবূ দাঊদ ৪০১৯, তিরমিযী ২৭৯৪)।
উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেয ইবন হাজর আসকালানী (রহঃ) বলেন, ‘তুমি তোমার স্ত্রী ছাড়া’ এর দ্বারা বোঝা যায়, স্বামী- স্ত্রী পরস্পরের গোপনাঙ্গের দিকে তাকানো জায়েয। যুক্তিও বলে, এটা জায়েয হবে। (ফাতহুল বারী ১/৩৮৬)।
ইবন কুদামা আল মাকদেসী (রহঃ) বলেন, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সমস্ত দেহের দিকে তাকানো, স্পর্শ করা, এমনকি যৌনাঙ্গের ক্ষেত্রেও বৈধ। কেননা, যৌনাঙ্গে মিলন হালাল। সুতরাং শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মত তা দেখা ও স্পর্শ করাও জায়েয। ( আল মুগনী ৭/৭৭)।
স্ত্রী যৌন মিলন করার সময় যদি শরীরের সব জামা কাপড় খুলে ফেলেন তাহলে কোন সমস্যা নেই তৃপ্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে তা জায়েজ । তবে উপরে পাতলা কাপর দিয়ে নিবেন। এবং অন্ধকারে মিলন করতে হবে।
এছাড়াও স্ত্রী সহবাসের রয়েছে কতিপয় নিয়ম দেখে নিন।
-
০১. স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাক পবিত্র থাকবে।
০২. "বিসমিল্লাহ" বলে সহবাস শুরু করা মুস্তাহাব। ভুলে গেলে যদি বীর্যপাতের পূর্বে স্মরণ হয় তাহলে মনে মনে পড়ে নিতে হবে।
০৩. সহবাসের পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করা। যা আল্লাহর রাসুলের সুন্নাত।
০৪. সব ধরনের দুর্গন্ধ জাতীয় জিনিস পরিহার করা। উল্লেখ্য যে, ধূমপান কিংবা অপরিচ্ছন্ন থাকার কারণে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আর এতে কামভাব কমে যায়। আগ্রহের স্থান দখল করে নেয় বিতৃষ্ণা।
০৫. কেবলামুখি হয়ে সহবাস না করা।
০৬. একেবারে উলঙ্গ না হওয়া।
০৭. স্ত্রীকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দান করার পূর্বে বিচ্ছিন্ন না হওয়া।
০৮. বীর্যপাতের সময় মনে মনে নির্ধারিত দোয়া পড়া। কেন না যদি সে সহবাসে সন্তান জন্ম নেয় তাহলে সন্তান শয়তানের প্রভাব মুক্ত থাকবে।
০৯. স্ত্রীর হায়েজ-নেফাসের (ঋতুকালীন) সময় সহবাস না করা।
১০. চন্দ্র মাসের প্রথম এবং পনের তারিখ রাতে মিলিত না হওয়া।
১১. স্ত্রীর জরায়ুর দিকে চেয়ে সহবাস না করা।
১২. বিদেশে বা সফরে যাওয়ার আগের রাতে স্ত্রী সহবাস না করা।
১৩. সহবাসের সময় স্ত্রীর সহিত বেশি কথা না বলা।
১৪. জোহরের নামাজের পরে স্ত্রী সহবাস না করা।
১৫. ভরা পেটে স্ত্রী সহবাস না করা।
১৬. উল্টাভাবে স্ত্রী সহবাস না করা।
১৭. স্বপ্নদোষের পর গোসল না করে স্ত্রী সহবাস না করা।