কোরান এবং হাদীসের বয়ান অনুযায়ী কাফের এবং সাহাবী সকলেই জানতো নবীজী লিখতে জানত, পড়তে বা লিখতে পারতো এবং সেটা কোরাণ হাদীস উভয় সমর্থন করে। ২৫ঃ৫ অনুযায়ী কাফেররা বলত নবীজী লিখে রাখত । আর হাদীসে নবীজী নিজে লিখতে চাইলো, আর সাহাবীরাও বলছে লেখার উপকরণ দিতে। https://sunnah.com/bukhari/64/454 পূর্ণ হাদীসঃ- মুহাম্মদ ইবনু রাফি ও আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুশয্যায় ছিলেন এবং ঘরে বেশ লোক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উমর ইবনু খাত্তাবও ছিলেন। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এসো, আমি তোমাদের এক কিতাব (পত্র) লিখে দেই। এরপরে আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। উমার (রাঃ) বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তোমাদের কাছে কুরআন বর্তমান আছে। আল্লাহর কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তখন ঘরের লোকজনের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় এবং তারা ঝগড়ায় লিপ্ত হন। তাদের কেউ কেউ বলেন, লেখার উপকরণ দাও, যাতে তিনি লিখে যেতে পারেন, যাতে আমরা বিপথগামী না হই।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের এমন এক কিতাব লিখে দিবেন, যার পরে আর তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর কেউ কেউ সে কথাই বলেন, যা উমার (রাঃ) বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যখন তাদের এ ঝগড়া ও কথা কাটাকাটি বৃদ্ধি পায়, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা উঠে যাও। উবায়দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, এরপর থেকে ইবনু আব্বাস (রাঃ) আক্ষেপ করে বলতেন, বিপদ কত বড় বিপদ! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাদের জন্য সেই কিতাব লিখে দেওয়ার মাঝখানে তাদের মতবিরোধ ও ঝগড়া যে অন্তরায় হয়ে পড়ল।
2794 views

2 Answers

না, নবীজী (সা) কে আল্লাহ তায়ালা নিজেই শিক্ষা দিয়েছেন জিবরাঈল (আ) এর মাধ্যমে । আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেন (পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন । )

2794 views

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মী বা নিরক্ষর ছিলেন। নবী হওয়ার পূর্বে নিরক্ষর থাকা তো কুরআন দ্বারা প্রমাণিত।যেমন কুরআনে এসেছে;সূরা আল আনকাবুত:48 - আপনি তো এর পূর্বে কোন কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় দক্ষিণ হস্ত দ্বারা কোন কিতাব লিখেননি। এরূপ হলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।

তবে নবী হওয়ার পর লিখতে ও পড়তে পারা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতানৈক্য দেখা যায়।একদল ওলামা লিখতে ও পড়তে পারার সক্ষমতার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা প্রমাণ স্বরূপ উল্লেখিত হাদীস এবং এজাতীয় হাদিস গুলো উপস্থাপন করেছেন।
তবে অধিকাংশ ওলামা এর বিপরীত মত ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা উল্লেখিত হাদীসের জবাবে বলেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লিখতেন বলতে লেখকের মাধ্যমে লিখে দিতেন।আর যে হাদিসে রাসূলের সাঃ লেখার কথা বর্ণিত হয়েছে; এর অর্থ রাসূলের সাঃ নির্দেশে লেখক লিখেছেন।আর এটাকেই রাসূলের সাঃ লেখা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমনটা বর্তমানেও প্রচলন রয়েছে। ফাতহুল বারীতে এই মতটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র,তাফসীরে ইবনে কাসীর ৬তম খন্ড পৃষ্ঠা নং২৮৫-৮৬ ফাতহুল বারী শরহু সহিহুল বুখারী ৭তম খন্ড পৃষ্ঠা নং ৫০৪-৫
2794 views

Related Questions