উপদেশ দিন বিষয় হাসের খামার?
1 Answers
হাঁস পালনের পরিকল্পনা ও খরচের তথ্যাদি হাঁস পালন করে বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করে নেয়া যায়। নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে হাঁস পালন করে অনেকেই সচ্ছল জীবন ফিরে পেয়েছেন। উন্নত জাতের একটি হাঁস বছরে ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। এ হাঁসের নাম হলো খাকী ক্যাম্ববেল ও ইন্ডিয়ান রানার। নদীর তীর, পুকুর পাড় ও আর্দ্র ভূমিতে হাঁস পালন খুবই লাভজনক। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে হাঁসের বাচ্চা সংগ্রহ করা যাবে। নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াস্থ কেন্দ্রীয় হাঁসের খামার, খুলনার দৌলতপুর হাঁসের খামারসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাঁস-খামার থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করা যায়। নিম্নে ৫০০ হাঁস ও ৩০টি হাঁস পালনের তথ্যাদি উল্লেখ করা হলো। ডিম পাড়া ৫০০ হাঁস পালার যাবতীয় তথ্যাদি : প্রতি হাঁসের জন্য ২ বর্গফুট হিসেবে ১০০০ বর্গফুটের ঘর তৈরি করতে হবে। পাকা হলে প্রতি হাঁসের জন্য কমপক্ষে ২ বর্গফুট হিসেবে ১০০০ বর্গফুট। কাঁচা হলে প্রতি হাঁসের জন্য ১০ বর্গফুট হিসেবে ৫০০০ বর্গফুট। ওয়াটার চেনেলের গভীরতা ৯, প্রস্থ ২০ ইঞ্চি রাখুন। ৬ মাস পর্যন্ত প্রতিপালন করতে প্রতিটি হাঁসের জন্য ১৫ কেজি খাবার দরকার হবে। ৬ মাস পর প্রতি হাঁসের জন্য দৈনিক ১৬০ গ্রাম (আড়াই ছটাকের কিছু উপরে) হিসেবে খাবার লাগবে। আবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি : ক. ফিডার বা ফিড হপার টিন বা প্লাস্টিকের বা কাঠের তৈরি এবং উভয় দিক দিয়ে খেতে পারে এরূপ ৪ ফুট লম্বা ১০টি ফিডার; খ. লিটার: ধান বা গমের খড়, ধানের তুষ ব্যবহার করা যায়, তবে খড় ব্যবহার করাই উত্তম; গ. ডিম পাড়ার ঘর: হাঁসির জন্য ডিম পাড়ার ঘর তেমন দরকার হয় না। মূল ঘরের কোনায় বা দেয়ালের সঙ্গে ধানের খড় দিলে এতে হাঁসি ডিম দেবে এবং ওই ডিম পরিষ্কার থাকবে। ঝুড়ি বা ট্রেতে করে ডিম সংগ্রহ করতে হবে। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত খরচ (জমি ও ঘর বাদে): ১১০০ বাচ্চার দাম প্রতিটি ২০ টাকা হিসেবে ২২ হাজার টাকা। ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫৫০ বাচ্চার খাবার খরচ (খাবার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ১৫ কেজি এবং প্রতি কেজি খাবারের মূল্য ১৮ টাকা) ১,৪৮,৫০০ টাকা। অন্যান্য খরচ বাবদ ৫,০০০ টাকা। মোট বিনিয়োগ ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫০০ টাকা। ৬ মাস বয়সের পর ডিম ও খাবারের হিসাব (লাভ- লোকসান) দৈনিক ৫০০ হাঁসির খাদ্য (প্রতিটির জন্য ১৫০ গ্রাম) = ৭৫ কেজি। প্রতি কেজি ১৮ টাকা হারে ১৩৫০ টাকা। দৈনিক ডিম উত্পাদন (৬০% উত্পাদন হিসেবে) ৩০০টি। (১০০ ডিম = ৬০০ টাকা হিসেবে) ১৮০০ টাকা, ১ মাসের খাবার খরচ বাদে থাকে (১৮০০-১৩৫০) ঢ ৩০ = ১৩,৫০০ টাকা, ১ মাসে ১০০০.০০ টাকা শ্রমিক খরচ ধরলে লাভ থাকবে ১২,৫০০ টাকা। ছোট খামার হিসেবে জমির দাম, ব্যবস্থাপনা খরচা ইত্যাদি বিবেচনা না করে শুধু বাচ্চার মূল্য, খরচ ও শ্রমিক বিবেচনা করা হয়েছে। বাচ্চা মর্দা এবং মাদী শনাক্ত করা না থাকলে ১১০০ বাচ্চা ক্রয় করতে হবে। অন্যথায় ৫৫০টি বাচ্চা ক্রয় করলেই চলবে। মৃত্যুর হার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত ৫% ধরা হয়েছে বলে ৫০০ হাসির জন্য ৫০টি বাচ্চা বেশি ক্রয় করতে হবে। দুই মাস বয়স পর্যন্ত মর্দা বাচ্চা পালন করতে যা খরচ হবে, ওই বয়সে ওই বাচ্চাগুলো বিক্রয় করে খরচের টাকা উঠে যাবে। তাই কেবল ৫৫০টি বাচ্চার খাদ্য খরচ দেখানো হলো। ৩০টি হাঁস পালন : ক. সর্বদা বদ্ধ অবস্থায় : ঘরের জায়গার পরিমাণ : প্রতি হাঁসের জন্য ৫ বর্গফুট হিসেবে ১৫০ বর্গফুট = ১৫ × ১০ একটি ঘর। দৈনিক খাবার ৫ কেজি = ৯০ টাকা। দৈনিক গড় ডিম = ১৮টি-১০৮ টাকা (উত্পাদন ৬০%) দৈনিক লাভ ১০৮-৯০ = ১৮ টাকা। মাসে লাভ ৫৪০ টাকা। অর্ধ ছাড়া অবস্থায় : ঘরের জায়গার পরিমাণ ২ বর্গফুট হিসেবে = ৬০ বর্গফুট। ঘরের বাইরে রানের পরিমাণ = পাকা হলে ২-৫ বর্গফুট হিসেবে ৬০ বা ১৫০ বর্গফুট। দৈনিক গড় ডিম উত্পাদন ১৮টি ১০৮ টাকা। দৈনিক লাভ ১০৮-৯০ = ১৮ টাকা। মাসে লাভ ৫৪০ টাকা। ছাড়া অবস্থায় : ঘরপ্রতি হাঁসের জন্য দেড় থেকে ২ বর্গফুট হিসেবে = ৪৫ বর্গফুট। দৈনিক গড় ডিম উত্পাদন ১৫টি = ৯০ টাকা (ডিম উত্পাদন ৫০% প্রতিটি ডিম ৬ টাকা) যদি কোনো খাবার খরচ না লাগে তবে মাসে লাভ ২৭০০ টাকা। যদি অর্ধেক খাবার সরবরাহ করতে হয় তবে লাভ, (মাসে অর্ধেক খাবারের পরিমাণ = ৭৫ কেজি-১৩৫০ টাকা (১ কেজি খাবারের মূল্য ১৮ টাকা) = ২৭০০-১৩৫০ = ১৩৫০ টাকা। অর্থাত্ ১৩৫০ টাকা লাভ। হাঁস ও মাছের মিশ্র চাষ পদ্ধতি : মাছের সঙ্গে হাঁসের চাষ একটি সমন্বিত খামার পদ্ধতি। একে অন্যের সহায়ক। পুকুরে মাছ ও হাঁস পালন পদ্ধতির সমন্বয় ঘটাতে পারলে সীমিত জায়গায় উত্পাদন বেশি পাওয়া যাবে। এ চাষ পদ্ধতি সবার জানা থাকলে বাংলাদেশের অনেকেই দ্বিগুণ ফসল ফলাতে পারবেন। অল্প জায়গায় মাছ ও হাঁস পালন পদ্ধতি অনেক উন্নত দেশে চালু আছে। তাইওয়ান, হংকং, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশে এর ব্যাপক প্রসার হয়েছে। হাঁসকে পুকুরে জৈবসার উত্পাদনকারী মেশিন বলা যেতে পারে। মাছ চাষের জন্য পুকুরে হাঁস পালন করলে খুব কম খরচে অনবরত জৈবসার ছড়ানো যায়। হাঁস ও মাছ চাষের প্রধান সুবিধাগুলো হলো : ১. একটি হাঁস প্রতি মাসে ৩-৪ কেজি জৈবসার পুকুরে ছড়িয়ে দিতে পারে। ৩-৪টি হাঁসের জৈব সার থেকে ১ কেজি বাড়তি মাছ উত্পন্ন হতে পারে। ২. হাঁস পুকুরের অবাঞ্ছিত আগাছা খেয়ে মাছ চাষে সাহায্য করে। ৩. শামুক, ব্যাংগাচি, পোকা-মাকড় যা মাছের কোনো কাজে আসে না এমন জিনিস খেয়ে হাঁস ডিম উত্পাদন করে। ৪. পুকুরে মাছ ও হাঁসের চাষ একসঙ্গে করে বছরে প্রতি হেক্টরে ১-১৫ টন (মাছ হাঁস) উত্পাদন বাড়ানো যেতে পারে। বাসস্থান : হাঁসের ঘর পুকুরের উপর যে কোনো পাশে অথবা পুকুরের পাড়ে নির্মাণ করা যেতে পারে। পুকুরের উপরে নির্মিত ঘরে হাঁসের বিষ্টা ও উচ্ছিষ্ট সরাসরি পানিতে পড়বে এবং মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। আর পুকুরের পাড়ে হাঁসের ঘর থাকলে ড্রেনের মাধ্যমে হাঁসের ময়লা পুকুরে দেয়া সহজ হবে। হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর অভিনব পদ্ধতি আবিস্কার করেছে হাওড় অঞ্চলের খামারিরা হাঁস বা মুরগীর ডিম থেকে কৃত্রিমভাবে বাচ্চা ফোটানোর জন্য বিভিন্ন হ্যাচারি শিল্পে সাধারণত ইনকিউবেটর ব্যবহার করা হয়ে থাকে।ব্যয়বহুল হওয়ার সাধারন খামারীরা এটি ব্যবহার করতে পারে না। ইনকিউবেটরের মাধ্যমে একসাথে অনেক ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে হাওড় অঞ্চলের খামারিরা তৈরি করেছে অভিনব এক পদ্ধতি। গ্রাম্য উপাদান দিয়ে তৈরি এই প্রযুক্তি দামে যেমন সস্তা তেমনি ফলপ্রসু। সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের লেভেল-৪ সেমিষ্টার-২ শিক্ষার্থীরা নেএকোনা জেলার মদন থানার একটি হাওড় এলাকায় পোল্ট্রি মেডিসিন ফিল্ড ভিজিট করতে গিয়ে এ অভিনব পদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেন। ঐ অঞ্চলেরর কোনাবাড়ি গ্রামে “সততা হ্যাচারি” এর মালিক মোঃ আইনুল হক কুতুবি ও অন্যান্য খামারিরা হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর এই অভিনব পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে পাওয়া যায় এমন উপাদান দিয়ে তারা এই ইনকিউবেটর তৈরি করেছেন ।এ পদ্ধতিতে ২৮ দিনে ৮০০ থেকে ৯০০ হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো যায়। ইনকিউবেটর তৈরি সর্স্পকে “সততা হ্যাচারি” এর মালিক বলেন নতুন এ ইনকিউবেটর তৈরি করতে দরকার হয় চালের ভূসি, বাশেঁর বেড়া,বাশেঁর চোঙ্গা, হারিকেন বাতি,বস্তা ইত্যাদি এবং ইনকিউবেটরের তাপমাত্রা ৭২ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে থাকে। হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য প্রথম ১৪ দিন এক ধরনের ইনকিউবেটরে রাখা হয় ও পরের ১৪ দিন অন্য এক ইনকিউবেটরে রাখা হয়। প্রথম ইনকিউবেটর কে বলে ”চোঙা” এবং দ্বিতীয় ইনকিউবেটর এর নাম ”বেড”। ৩-৬টা চোঙা ইনকিউবেটর পাশাপাশি রাখা হয়।৩ ফুট উচ্চতার এই চোঙাগুলোর মেঝেতে ধানের ভূসি ব্যবহার করা হয়। এই চোঙাগুলোর একটিতে হারিকেন রাখলে পাশেরটিতে রাখা হয় ডিম। এতে হারিকেন রাখা চোঙাটি থেকে পাশে ডিম রাখা চোঙাটিতে তাপ সঞ্চালিত হয়। এভাবে চোঙায় ডিমগুলো ১৪ দিন রাখার পর বেড এ নেয়া হয় (ছবি)। ডিমে তাপ সঠিকভাবে পাচ্ছে কি না এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে “সততা হ্যাচারি” এর মালিক আইনুল হক কুতুবি, শিক্ষার্থী মঈনুল ও সহিদুল ইসলামকে বলেন, আমরা চোখের পাতার উপরে ডিম রেখে বুঝতে পারি তাপমাত্রা ঠিক আছে কি না। তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতিতে এক ব্যাচে ১০০টি ডিম এর মধ্যে প্রায় ৮০টি ডিম থেকে সফলভাবে বাচ্চা ফুটানো যায়। এ পদ্ধতিতে খুব সহজে ও কম খরচে হাঁসের বাচ্চা ফুটিয়ে হাঁস পালন করে খামারীরা অধিক লাভবান হচ্ছে বলেও তিনি জানান।শীতকালে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয় না বলে শীতের ৪ মাস এ পদ্ধতি বন্ধ রাখা হয়।২৮ দিনের উপযো। হাঁস-মুরগির বাসস্হানঃ হাঁসমুরগির বাসস্হান সাধারণত নিম্নের উদ্দেশ্যগুলোকে সামনে রেখেই করা হয়ে থাকেঃ ১. আরামদায়ক পরিবেশ প্রদানের জন্য । ২. খারাপ আবহাওয়া থেকে হাঁস-মুরগিকে রক্ষা করার জন্য। ৩. বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক ও ছোঁয়াচে রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য। ৪. জীবজন্তুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য। ৫. চোরের উপদ্রব থেকে রক্ষা করার জন্য। ৬. খাবারের সুষ্ঠু ব্যবস্হাপনার জন্য। হাঁস-মুরগির বাসস্হানের জন্য স্হান নির্বাচনঃ ১. উঁচু জমি নির্বাচন করতে হবে যেন বন্যার সময় পানিতে ডুবে না যায়। ২. বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের পর্যাপ্ত সুবিধা থাকতে হবে। ৩. ভালো যোগাযোগ ব্যবস্হা থাকতে হবে। ৪. মাংস ও ডিম বাজারজাত করার সুবিধা থাকতে হবে। ৫. পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্হা থাকতে হবে। ৬. পানি নিস্কাশনের ব্যবস্হা থাকতে হবে। ৭. চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হতে হবে। ৮. খোলামেলা ও নিরিবিলি পরিবেশ হতে হবে। ঘরের প্রকৃতিঃ হাঁস-মুরগি পালনের উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে এদের ঘর বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যেমন- হ্যাচারি ঘর, বাচ্চার ঘর, গ্রোয়ার ঘর, ডিমপাড়া ঘর, ব্রয়লার ঘর। এছাড়া ছাদের ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে মুরগির ঘর বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন- একচালা বা শেড টাইপ, দোচালা বা গ্যাবল টাইপ (‘অ ’ টাইপ), কম্বিনেশন টাইপ ও মনিটর বা সেমিমনিটর টাইপ। হাঁস-মুরগির জায়গার পরিমাণঃ বয়স অনুযায়ী প্রতিটি হাঁস-মুরগির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার পরিমাণঃ বয়স হাঁসের জায়গার পরিমাণ (বর্গফুট) ডিমপাড়া মাংস উৎপাদন মুরগির জায়গার পরিমাণ (বর্গফুট) লিটার পদ্ধতি মাঁচা পদ্ধতি ১ দিন-৪ সপ্তাহ ০.৫০ ০.৫০ – ০.৭৫ ০.৫০ ০.২৫ ৪ সপ্তাহ-৮ সপ্তাহ ০.৭৫ – ১.০ ১.০ – ১.৫ ০.৭৫ ০.৩২ ৮ সপ্তাহ-১২ সপ্তাহ ১.০ – ১.৫ ১.৫ – ২.০ ১.০০ ০.৫৪ ১২ সপ্তাহ-এর ওপর ২.০ – ৩.০ ৩.০ – ৪.০ ১.৫০ – ২.০ ১.০ – ১.২৫ ঘরের পরিচর্যা ও জীবাণুমুক্ত করণ পদ্ধতিঃ ঘরের লিটার পরিস্কার হতে হবে এবং জীবাণুনাশক, যেমন- চুন দিয়ে তা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। ঘরের দেয়াল-মেঝে ভালমত পানি দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। তবে কস্টিক সোডা দিয়ে পরিষ্কার করলে ভালো হয় । ফিউমিগেশন শুরু করার পূর্বে দরজা, জানালা, ভেন্টিলেটর প্রভৃতি বন্ধ করতে হবে যাতে ঘরে কোনো বাতাস না ঢুকে। ঘরের প্রতি ২.৮ ঘন মিটার জায়গার জন্য ৬ গ্রাম পটাসিয়াম পার- ম্যাঙ্গানেট ও ১২০ মি.লি. ফরমালিন (৪০%) দিয়ে ফিউমিগেট করতে হবে। বাচ্চা পালন বাচ্চা রাখার ঘর বা শেড অবশ্যই উঁচু জায়গায় (সমতল ভূমি হতে ১-১.৫ ফুট উচুঁ) নির্মাণ করতে হবে যেন ঘরের ভিটি কোন অবস্হায় ভিজা বা স্যাঁতস্যাঁতে না হয়। ঘরের মেঝে পাকা হলে ভাল হয়। ২-৩ ইঞ্চি পুরু করে ধানের শুকনো তুষ বা শুকনো কাঠের গুঁড়া মেঝের উপর বিছিয়ে দিতে হবে। মেঝে নিচ থেকে ভিজে উঠতে পারে সেজন্য প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ২/৩ বার লিটার উল্টিয়ে চুন মিশাতে হবে। এতে লিটার শুকনো থাকবে, জীবাণু ধংস হবে এবং দুর্গন্ধ দুর হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন কোনো অবস্হাতেই বৃষ্টির পানি ঘরের মেঝের উপর না পরে। কখনও লিটার ভিজে গেলে উহা ফেলে দিতে হবে এবং ড্রিংকার হতে খাবার পানি ঘরের মেঝের উপর না পরে। কখনও লিটার ভিজে গেলে উহা ফেলে দিতে হবে এবং সাথে সাথে শুকনো লিটার দিতে হবে। বাচ্চা সংগ্রহের পর এদেরকে প্রথমে ভিটামিন মিশ্রিত পানি খেতে দিতে হবে। তারপর শুকনো খাবার সামান্য পানিতে ভিজিয়ে খাওয়াতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩/৪ বার বাচ্চাকে খাবার দিতে হবে এবং প্রতি বাচ্চাকে ৫-১০ গ্রাম করে সুষম খাবার খাওয়াতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে ছোট বাচ্চার বেলায় খাবার দেবার সময় অবশ্যই পানির পাত্রে আগে পানি দিয়ে রাখতে হবে অর্থাৎ প্রথমে পানি দিয়ে পরে খাবার দিতে হবে নতুবা শুকনো খাবার বাচ্চার গলায় আটকে বাচ্চা মারা যেতে পারে। এক দিন বয়সের বাচ্চার জন্য ব্রুডিং-এর প্রয়োজন রয়েছে। প্রথম সপ্তাহে ঘরের তাপমাত্রা থাকবে ৯৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট, পরবর্তিতে প্রতি সপ্তাহে ৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা করে কমাতে হবে। সাধারণতঃ গ্রীস্মকালে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ এবং শীতকালে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন- বাচ্চাকে তাপ দিতে হবে। তবে অতি খরা অথবা অতি শীতে এর কিছুটা তারতম্য হতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামের অনেক এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ নেই, থাকলেও পর্যাপ্ত নহে, সে সব এলাকার ক্ষুদ্র খামারী হ্যারিকেন, হ্যাজাকলাইট, কেরোসিন অথবা মাটির চুলা ব্যবহার করে হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলোকে তাপ প্রদানের ব্যবস্হা করতে পারেন। হাঁস-মুরগির স্বাস্হ্য ব্যবস্হাপনাঃ সুস্হ-সবল রোগমুক্ত হাঁস-মুরগি অথবা হাঁস-মুরগির বাচ্চা সংগ্রহ করতে হবে। হাঁস-মুগির সমস- সেড, ঘরের মেঝে, দেয়াল, বেড়া, ছাদ, ডিমের বাক্স, ডিমের ট্রে, পানির পাত্র এবং খাবার পাত্র ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক ঔষধ ছিটিয়ে দিতে হবে। জীবাণুনাশক ঔষুধ মিশ্রিত পানি খামারের মূল প্রবেশ পথে এবং হাঁসের ঘরের দরজায় ফুটপাথে রাখতে হবে। খামারে বা হাঁস-মুরগির ঘরে প্রবেশের পূর্বে ফুটপাথে পা ভিজিয়ে নিতে হবে। খামারে দর্শণার্থীদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করা এবং পুরাতন খাঁচাসহ প্রবেশ করতে না দেয়া। অপ্রয়োজনীয় যানবাহন খামারে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। হাঁস- মুরগির বাচ্চাকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পালন করতে হবে। বন্যপাখি যাতে মুরগি পালন এলাকায় না আসতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খাদ্য ও পানির পাত্র নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার করতে হবে এবং রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করলে ভাল হয়। ঘরের লিটার পরিষ্কার হতে হবে এবং মাঝে মাঝে জীবাণুনাশক, যেমন- চুন দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। ঘরের দেয়াল, মেঝে ও সরঞ্জামাদি পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে এবং ঘর ভালভাবে ফিউমিগেট করতে হবে। হাঁস-মুরগির খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্হাপনাঃ হাঁসের খাদ্যঃ পারিবারিকভাবে পালিত দেশী হাঁস জলাশয়ে এবং ক্ষেতখামারে চরে জীবন ধারন করতে পারে। কিন্তু উন্নত জাতের হাঁস পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রাকৃতিক খাবার যেমন – শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, কেঁচো, শাপলা, ক্ষুদেপানা ছোট মাছ ও নানা ধরনের কীটপতঙ্গ মুক্ত অবস্হায় জলাশয়ে পাওয়া গেলে শুধু সকাল ও বিকালে পরিমিত পরিমান দানাদার খাবার সরবরাহ করলেই চলবে। হাঁসের খাবারের সাথে প্রচুর পরিমাণ পানি সরবরাহ করতে হয়। হাঁসকে শুস্ক খাদ্য দেয়া ঠিক নয়। এদের সবসময় ভেজা ও গুঁড়ো খাদ্য দেয়া উচিত। প্রথমে ৮ সপ্তাহ হাঁসকে ইচ্ছামত খেতে দেয়া উচিত পরবর্তীতে দিনে দু’বার খেতে দিলেই চলে । সুষম খাদ্য তৈরিঃ সুষম খাদ্য তৈরির পূর্বে প্রতিটি হাঁস পালনকারীকে খোয়াল রাখতে হবে যেন সুষম খাদ্যের প্রতিটি উপাদানই সহজলভ্য, সস্তা, টাটকা এবং পুষ্টিমান সঠিকভাবে বিদ্যমান আছে। কোনো অবস্হাতেই বাসি পঁচা বা নিম্নমানের ফাংগাসযুক্ত খাবার হাঁসকে দেয়া যাবে না। খাদ্যের প্রকৃতি, মিশ্রণ পদ্ধতি, হাঁসের জাত, ওজন, ডিম উৎপাদনের হার এবং সর্বোপরি শামুক, ঝিনুক, ধান, সবুজ শেওলা বা শৈবাল এবং শাকসবজীর প্রাপ্যতা অনুসারে খাদ্য খাওয়ানোর কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। খাবার পাত্র ও পানির পাত্রঃ বয়স অনুযায়ী হাঁসের জন্য খাবার পাত্র ও পানির পাত্রের পরিমাণ- বয়স (মাস) জায়গার পরিমাণ (লিনিয়ার ইঞ্চি) খাবার পাত্র পানির পাত্র ১ দিন – ৩ সপ্তাহ ২.০ ২.৫ ৪ সপ্তাহ – ৮ সপ্তাহ ৩.০ ৩.০ – ৪.০ ৮ সপ্তাহ – ১৬ সপ্তাহ ৪.০ ৪.০- ৫.০ মুরগির খাদ্য ব্যবস্হাপনাঃ খামার স্হাপনের আগে অবশ্যই মুরগির খাদ্য ব্যবস্হাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করতে হবে। মুরগির খামারে সাধারণত লেয়ার, ব্রিডার ও ব্রয়লার মুরগি পালন করতে দেখা যায়। নিম্নে এদের খাদ্য তালিকায় কি পরিমাণ প্রয়োজনীয় শক্তি বা পুষ্টিউপাদান থাকা দরকার তা উল্লেখ করা হলোঃ শক্তি/পুষ্টি উপাদান লেয়ার / ব্রিডার মুরগি ব্রয়লার মুরগি প্রারম্ভিক রেশন (০ – ৮ সপ্তাহ) বৃদ্ধি রেশন (৯ – ১৮ সপ্তাহ) লেয়ার / ব্রিডার (১৯ -৭২ সপ্তাহ) প্রারম্ভিক (০ – ৪ সপ্তাহ) সমাপ্তি (৫ – ৮ সপ্তাহ) বিপাকীয় শক্তি (কিলোক্যালরি/কেজি খাদ্য) ২৬৭৫ ২৪১০ ২৮৩০ ৩০৫০ ৩২০০ আমিষ (%) ২০ ১৬ ১৫ ২১ – ২২ ১৯ – ২০ ক্যালসিয়াম (%) ১.০ ১.০ ৩.০ ১.১ ০.৯ ফসফরাস (%) ০.৭ ০.৬ ০.৬ ০.৭ ০.৬ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য প্রয়োজনীয় মাত্রায় একত্রে মিশিয়ে মুরগির খাদ্যতালিকা বা রেশন তৈরি করা হয়। বিভিন্ন বয়সের লেয়ার বা ডিমপাড়া মুরগির খাদ্যতালিকাঃ উৎপাদন (%) লেয়ার / ব্রিডার মুরগি ব্রয়লার মুরগি প্রারম্ভিক রেশন (০ – ৮ সপ্তাহ) বৃদ্ধি রেশন (৯ – ১৮ সপ্তাহ) লেয়ার রেশন (১৯ -৭২ সপ্তাহ) লেয়ার/ব্রিডার মুরগি ব্রয়লার মুরগি গম/ভুট্টা ভাঙ্গা ৫০.০ ৫০.০ ৫৪.০ ৪৭.৫০ ৪৯.০০ গমের ভুষি ১০.০ ৭.০ ৫.০ – – চালের মিহিকুঁড়া ১০.০ ১০.০ ১৫.০ ১৭.৫০ ১৮.০০ তিলের খৈল ১২.০ ১০.০ ৭.০ ১৩.০০ ১২.০০ সয়াবিন তেল – – – ২.০০ ৩.০০ শুঁটকি মাছের গুঁড়ো ১৪.০ ১২.০ ১০.০ ১৮.০০ ১৪.৭৫ হাড়ের গুঁড়ো ১.৫ ৩.০ ২.৫ ১.২৫ ১.০০ ঝিনুক চূর্ণ ১.৭৫ ২.২৫ ৫.৭৫ ০.২৫ ১.৫০ লবণ ০.৫ ০.৫ ০.৫ ০.২৫ ০.৫০ ভিটামিন-খণিজ মিশ্রণ ০.২৫ ০.২৫ ০.২৫ ০.২৫ ০.২৫ সর্বমোট ১০০.০ ১০০.০ ১০০.০ ১০০.০ ১০০.০ মুরগিকে খাদ্য খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ স্বাধীনভাবে বিভিন্ন খাবার খাওয়ানো পদ্ধতিঃ এ পদ্ধতিতে বিভিন্ন খাবারের পাত্রে ভিন্ন ভিন্ন খাবার রাখা হয় এবং মুরগি তার পছন্দমতো খাবার খেয়ে থাকে । দানা ও গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ এ পদ্ধতিতে একইসাথে দানা ও গুঁড়ো খাবার খাওয়ানো হয়। বাড়ন- বাচ্চা ও ডিমপাড়া মুরগিকে খাদ্য খাওয়ানোর জন্য এ পদ্ধতিটি খুবই উপযোগী। চূর্ণ খাদ্য খাওয়ানোর পদ্ধতিঃ এ পদ্ধতিতে সবধরনের খাদ্যদ্রব্য চূর্ণ করে একসাথে মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। বাচ্চা ও বাড়ন- বাচ্চাকে এ পদ্ধতিতে খাওয়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। খামার ব্যবস্হাপনা ও দৈনিক কার্যক্রম সূচিঃ যে কোনো ধরনের খামারই হোক না কেনো তার ব্যবস্হাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, প্রকৃতপক্ষে খামার ব্যবস্হাপনার উপরই খামারের লাভ লোকসান এমনকি খামারের ভবিষ্যত সসপ্রসারণ নির্ভর করে । ক) সকাল ৭ – ৯ টাঃ ১. জীবাণুমুক্ত অবস্হায় শেডে প্রবেশ করতে হবে এবং হাঁস-মুরগির সার্বিক অবস্হা ও আচরণ পরীক্ষা করতে হবে। ২. মৃত বাচ্চা/বাড়ন- বাচ্চা/মুরগি থাকলে তৎক্ষণাৎ অপসারণ করতে হবে। ৩. ডিম পাড়া বাসার দরজা খুলে দিতে হবে। ৪. পানির পাত্র/ খাবার পাত্র পরিস্কার করতে হবে। ৫. পাত্রে খাবার ও পানি না থাকলে তা পরিস্কার করে খাদ্য ও পানি সরবরাহ করতে হবে। ৬. লিটারের অবস্হা পরীক্ষা করতে হবে ও প্রয়োজন হলে পরিচর্যা করতে হবে। ৭. খাবার দেবার পর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আচরণ পরীক্ষা করতে হবে। সকাল ১১- ১২ টাঃ ১. খাদ্য নাড়াচাড়া করে দিতে হবে। ২. পানি গরম ও ময়লা হলে পরিবর্তন করে পরিস্কার ও ঠান্ডা পানি দিতে হবে। ৩. ডিম সংগ্রহ করতে হবে। বিকাল ৪ – ৫ টাঃ ১. পাত্রে খাদ্য পানি না থাকলে তা সরবরাহ করতে হবে। ২. ডিম সংগ্রহ করতে হবে। ৩. ডিম পাড়ার বাসা/বাক্সের দরজা বন্ধ করতে হবে। ৪. আচরণ পরীক্ষা করতে হবে। সাপ্তাহিক কাজঃ ১. খাদ্য তৈরি করতে হবে। ২. বাচ্চা/ডেকী মুরগী/মুরগীর নমুনা ওজন গ্রহণ করতে হবে। ৩. ঘর পরিস্কার করতে হবে। ৪. ঘরের বাতি সপ্তাহে ২ দিন পরিস্কার করতে হবে। খাদ্য ও পানির পাত্র পরিস্কার করতে হবে এবং লিটার পরিচর্যা করতে হবে। ৫০০ টি মুরগীর খামারের বিভিন্ন খরচ, আয় ও নীট মুনাফার হিসাবঃ মোট স্হায়ী খরচঃ ক. জমি নিজস্ব ১. মুরগির ঘর লিটার পদ্ধতিতে, ৭৫০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ১,৫০,০০০.০০ ২. ম্যানেজার বা মালিকের অফিস ঘর, ১০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ২০,০০০.০০ ৩. ডিম সংরক্ষণাগার, ১০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ২০,০০০.০০ ৪. গুদাম ঘর, ২০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ৪০,০০০.০০ ৫. অসুস্হ ও মৃত মুরগির ঘর, ১০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ২০,০০০.০০ ৬. বিষ্ঠা সংরক্ষণাগার, = ১০,০০০.০০ ৭. মৃত মুরগি সৎকারের জায়গা = ১,০০০.০০ ৮. আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি = ২০,০০০.০০ মোট স্হায়ী খরচ = ২,৮১,০০০.০০ টাকা আবর্তক বা চলতি খরচঃ ১. প্রতিটি ৭৫.০০ টাকা হিসেবে ৫০০ টি পুলেটের মূল্য = ৩৭,৫০০.০০ ২. বার্ষিক মোট খাদ্য খরচ ২০ মেট্রিক টন ক্ম ১৫০০০.০০ (প্রতিদিন প্রতি মুরগির জন্য ১১০ গ্রাম এবং প্রতি মেট্রিক টন খাদ্য ১৫০০০ টাকা হিসেবে) = ৩,০০,০০০.০০ ৩. লিটার খরচ (বছরে প্রতি কক্ষে ৮ বস্তা এবং প্রতি বস্তা ২৫.০০ টাকা হিসেবে) = ২,০০০.০০ ৪. ঔষুধপত্র ও টিকাবাবদ খরচ (মুরগি প্রতি ২.০০ হিসেবে) = ১,০০০.০০ ৫. জনশক্তি বাবদ খরচ = ৩৬,০০০.০০ মোট = ৩,৭৬,৫০০.০০ টাকা বার্ষিক মোট প্রতিপালন ব্যয়ঃ ১. মোট আবর্তক খরচ = ৩,৭৬,৫০০.০০ ২. মোট মূলধনের উপর সুদ (বছরে ১০% হারে) ২৮,১০০.০০ ৩. অপচয় খরচ -ঘরবাড়ির জন্য বছরে ২% হারে = ৫,২২০.০০ ৪.আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি (১০% হারে) = ২,০০০.০০ মোট খরচ= ৪,১১,৮২০.০০ টাকা বার্ষিক আয়ঃ ১. গড়ে ৭০% হারে ডিম উৎপাদন ধরে মোট ডিম উৎপাদন ১,২৭,৭৫০ টি ডিম ভালো ডিম বিক্রিবাবদ আয় (প্রতিটি ৩.৫০ টাকা হিসেবে) = ৪,৪৭,১২৫.০০ ২. প্রতি মেট্রিক টন ৫০০ টাকা হিসেবে বছরে ২০ মে. টন বিষ্ঠা বিক্রি বাবদ আয় = ১০,০০০.০০ ৩. প্রতিটি ১০০ টাকা হিসেবে ৪৭৫ টি বাতিল মুরগি বিক্রিবাবদ আয় (৫% মৃত্যু) = ৪৭,৫০০.০০ ৪. খালি বস্তা বিক্রিবাবদ আয় = ৫,০০০.০০ মোট আয় = ৫,০৯,৬২৫.০০ টাকা বছরে লাভক্ষতি হিসাবঃ মোট আয় = ৫,০৯,৬২৫.০০ মোট ব্যয় = ৪,১১,৮২০.০০ মোট লাভ = ৯৭,৮০৫.০০ টাকা ৫০০ টি ব্রয়লার খামারের বিভিন্ন খরচ, আয় ও নীট মুনাফার হিসাবঃ মোট স্হায়ী খরচঃ ক. জমি নিজস্ব ১. মুরগির ঘর, ৫০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ১,০০,০০০.০০ ২. ম্যানেজার বা মালিকের অফিস ঘর, ১২০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ২৪,০০০.০০ ৩. গুদাম ঘর, ২০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ৪০,০০০.০০ ৪. অসুস্হ ও মৃত মুরগির ঘর, ১০০ বর্গফুট @ ২০০.০০ = ২০,০০০.০০ ৫. বিষ্ঠা সংরক্ষণাগার = ১০,০০০.০০ ৬. মৃত মুরগি সৎকারের জায়গা = ১,৫০০.০০ ৭. যন্ত্রপাতি = ২৫,০০০.০০ ৮. আসবাবপত্র = ১৫,০০০.০০ মোট ২,৩৫,৫০০.০০ টাকা আবর্তক বা চলতি খরচঃ ১. প্রতিটি বাচ্চা ৩২.০০ টাকা হিসেবে ৬ টি ব্যাচে ৩০৬০ টি বাচ্চার মূল্য (২% মূত্যু ) = ৯৭,৯২০.০০ ২. বার্ষিক মোট খাদ্য খরচ ৩০০০ টি বাচ্চা ৪ কেজি হিসাবে ১২,০০০ কেজি, @ ১৭.০০ = ২,০৪,০০০.০০ ৩. লিটার খরচ (বছরে প্রতি কক্ষে ৮ বস্তা এবং প্রতি বস্তা ২৫.০০ টাকা হিসেবে) = ১,৬০০.০০ ৪. ঔষুধপত্র ও টিকাবাবদ খরচ (মুরগি প্রতি ২.০০ হিসেবে) = ৬,০০০.০০ ৫. জনশক্তি বাবদ খরচ = ৩৬,০০০.০০ ৬. বছরে খাওয়ার খরচ = ৫,০০০.০০ মোট = ৩,৫০,৫২০.০০ টাকা বার্ষিক মোট প্রতিপালন ব্যয়ঃ ১. মোট আবর্তক খরচ = ৩,৫০,৫২০.০০ ২. মোট মূলধনের উপর সুদ (বছরে ১০% হারে) ২৩,৫৫০.০০ ৩. অপচয় খরচ -ঘরবাড়ির জন্য বছরে ২% হারে = ৩,৯১০.০০ ৪.আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি (১০% হারে) = ৪,০০০.০০ মোট খরচ= ৩,৮১,৯৮০.০০ টাকা বার্ষিক আয়ঃ ১. ৩,০০০ টি জীবন- ব্রয়লার প্রতিটি ২.০ কেজি হিসাবে @ ৭৫.০০ = ৪,৫০,০০০.০০ ২. প্রতি মেট্রিক টন ৫০০ টাকা হিসেবে বছরে ২০ মেট্রিক টন বিষ্ঠা বিক্রি বাবদ আয় = ১০,০০০.০০ ৩. খালি বস্তা বিক্রিবাবদ আয় = ৫,০০০.০০ মোট আয় = ৪,৬৫,০০০.০০ টাকা বছরে লাভক্ষতি হিসাবঃ মোট আয় = ৪,৬৫,০০০.০০ মোট ব্যয় = ৩,৮১,৯৮০.০০ মোট লাভ = ৮৩,০২০.০০ টাকা