1 Answers
ডিসেম্বর ২০১২ , ভার্সিটিতে শীতকালীন বন্ধ যদিও মাত্র ১ সপ্তাহের। তাতে কি ঘুরে তো যেতেই হবে। আরও কিছু পাগলা যোগার করে ঠিক হলো বিরিশিরি যাবো। আবার সাথে যাচ্ছে বন্ধু প্রিন্সের বড় বোন। আপু অস্থির একটা মানুষ, একজন প্রফেশনাল ট্যুরিস্ট হওয়ার একটি সুপ্ত প্রতিভা আপুর মাঝে আছে ।
ঢাকা থেকে ১৫৯ কিমি দূরে নেত্রকোনা। নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার একটি ইউনিয়ন বিরিশিরি। যদিও সব ঘুরার স্থান দুর্গাপুরের বিভিন্ন স্থানে কিন্তু ঘুরে এসে নাম হয় বিরিশিরির। উত্তরে মেঘালয়ের গারো পাহাড় , দক্ষিনে কিশোরগঞ্জ, পূর্বে সুনামগঞ্জ, পশ্চিমে ময়মনসিংহ। নেত্র বা চোখের কোনার মত দেখতে বলে এই জেলার নাম নেত্রকোনা অনেকেই মনে করেন।
সকাল বেলায় সবাই হাজির মহাখালি, বরাবরের মত লেট আজও লিফান। তার পাল্লায় পরে ডুবেছে সৈকতও। বাস ড্রাইভারকে ওস্তাদ ভাই দুনিয়ার তেল মারিয়া ১৫ মিনিট লেট করাইলাম।
কিভাবে যাবেন :
মহাখালি থেকে বাস আছে সরকার , জিনাত পরিবহন। কিন্তু আমরা জিনাত পেলাম খালি । ২২০ টাকা ভাড়া। সকাল সাড়ে ৮ টায় রউনা দিয়ে দুপুর ২ টা নাগাদ পৌছালাম। মাঝে একটা যাত্রা বিরতি নিম্ন মানের একটা হোটেলে।
যাওয়ার রুট :
পুরো রুটি জেনে রাখা ভালো এতে করে কোন যদি বাস না পান ভেঙ্গে ভেঙ্গে আসতে পারবেন।
গাজীপুর >ভালুকা >ত্রিশাল >সিকারিকান্দা >মাসকান্দা >চরপারা মোড় >ব্রিজ মোড় >চায়না মোড় >সম্ভু গঞ্জ > কাশি গঞ্জ >তারাকান্দা >শ্যামগঞ্জ >নেত্রকনা >ফাজিল্পুর >জলশুকা রেলক্রসিং >জারিয়া বাজার >যানযাইল বাজার >দুর্গাপুর
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বেশ ভালোই ছিলাম। এরপরই শুরু হল আসল খেলা। এক টিকেটে ২ টি রাইড। পুরাই দেশি স্টাইলে রোলার কোস্টার। আর রাস্তা গুলো যেন পাড়া মহল্লার গলির মত। বাসতো পুরাই ডিব্বার মত ডিগবাজি খাচ্ছে। ৩ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ পৌঁছে গেলেও বাকি পথ যেতে প্রায় ৩ ঘণ্টা লাগলো। এতদুর এক্কারে বর্ডারে।
কোথায় থাকবেন :
থাকার কথা বললে একবাক্যে যে কেউ বলবে YWCA এর কথা। এটি ২ তোলা পাকা বিরাট দালান। খুবই পরিস্কার। নিজস্ব কিচেন আছে। সামনে বারবিকিউ করার জন্য সুন্দর জায়গা আছে। ডবল বেড ১২০০ টাকা। তবে এখানে ৭ বেডের একটা বিরাট রুম আছে , প্রতিটি বেডের ভাড়া ২০০ টাকা করে।YWCA এর অমিতা সাংমা ০১৭১২০৪২৯১৬
৭ বেডের রুম সাথে বাথরুম ২টা আছে ।
এছাড়াও আছে YMCA সলিল চাম্বু গং – 01731039769/ 01916622684। রাস্তার সাথে আছে স্বর্ণা গেস্ট হাউজ
কোথায় খাবেন :
YWCA তে থাকলে নিজেরাই তাদের রান্না ঘরে রান্না করে খেতে পারেন বা তারাই রান্না করে দিবে। এছাড়া আছে হোটেল সঞ্জয় পুরা ফালতু আর বাটপার। রিক্সা ওলাদের কমিশন দিয়ে রাখে তারা যেন টুরিস্টদের এখানে নিয়ে আসে আর হুদাই দাম , খাবারের সিন্ডিকেট করে বলে এখনই রান্না করে দিচ্ছি করে দাম বেশি চায় এই বলে বাজার তো সকালে থাকে এখন দোকান থেকে কিনে আনতে হবে বেশি দামে।
লাকি হোটেলে খেতে পারেন এটা বেশ ভালো। ফোন করে বললে গেস্টহাউজে খাবার পাঠিয়ে দিবে। ০১৮২৪০৮১৮০২, ০১৯২৬৭১৯২৭৪
বাস থেকে নামলাম দুর্গাপুর। অনেকেই ব্যাপারটা গুলিয়ে ফেলেন বিরিশিরি আর দুর্গাপুর। দূর্গাপুর থানার একটি ইউনিয়ন বিরিশিরি। রিক্সা ওয়ালা একবারে ঘিরে ধরল। তারা সবাই এক জোট।বাসস্ট্যান্ড থেকে YWCA হেঁটেই যাওয়া যায়। রিক্সায় গেলে ৫ টাকা ভাড়া। কিন্তু ট্যুরিস্টরা না চেনার ফলে প্রতারনার শিকার হয়ে থাকে।
ফ্রেস হয়ে খাওয়া দাওয়া সেরে রিক্সা নিয়ে ঘুরতে বের হওয়ার পালা। ৩ টার বেশি ঘরিতে তাই ঠিক করলাম আজ আর সোমেশ্বরী নদী পার হবো না। এই পারে গার পাহাড় , কালি মন্দির দেখে রাতে বার বিকিউ করবো। রিক্সা ঠিক করতে গিয়ে আবার সেই প্রতারনা, সব গুলাই একজাতের। অবশেষে ৩০০ টাকা করে রিক্সা ঠিক করলাম নদীর এইপারে যাযা আছে ঘুরে দেখব । বিরিশিরি ইউনিয়নে ফসলি মাঠ আর গারো পাহাড় ছাড়া আর কিছু নেই। বাকি সব সোমেশ্বরী নদীর ওপারে অন্যান্য ইউনিয়নে
http://www.somewhereinblog.net/blog/SAZID007007/29865395