কৃষ্ণ আর আল্লাহ এক!?
4 Answers
আপনি বরং আপনার প্রতিবেশিকেই প্রমান দিতে বলেন যে কৃষ্ণ আর আল্লাহ এক।কারোন কোরআনে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে বলা আছে যে কৃষ্ণ আর আল্লাহ এক আবার আল্লাহর ১০৫ টি নামের ভিতরে কৃষ্ণ নাম নেই।তাই আপনার প্রতিবেশির কথায় কোনো যুক্তি নেই।
হিন্দুধর্মের ত্রিমূর্তি ধারণায় ব্রহ্মাকে বিশ্বচরাচরের সৃষ্টির প্রতীক, বিষ্ণুকে স্থিতির প্রতীক ও শিবকে ধ্বংসের প্রতীক রূপে কল্পনা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ব্রহ্মা বা বিষ্ণুর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নেয়া যাবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর পরিচয় বা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে আল্লাহ এক অদ্বিতীয়, তার কোন শরীক নেই, তিনিই আদি, তিনিই অনন্ত, তিনি নিরাকার, তিনই সকল কিছুর উপর একমাত্র ক্ষমতাবান। তাঁর নিরানব্বইটি গুনবাচক নাম পাওয়া যায় কোরআন ও হাদিস অনুসারে। সকল গুনবাচক নামের সমষ্টি - আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ওয়াদারুল্লাযিনা ওলহিদুনা ফি আসমায়িহি শায়ুযযাওনা মা কানু ইয়ায়মালুনা) অর্থাৎঃতাদেরকে বর্জন কর যারা আল্লাহর নামের ব্যাপারে সীমালংজ্ঞন করে। অচিরেই তারা যা করে চলেছে তাঁর ফল পাবে। (সুরা আরাফ-১৮০)। কিন্তু জাকির নায়েক বলেঃ আল্লাহকে ব্রাহ্ম,বিষ্ণু, নামে ডাকা যাবে। আমরা জানি কয়লা ও ডায়মন্ড একই মৌলিক পদার্থ কার্বন। কিন্তু বিশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণে আমরা কয়লাকে ডায়মন্ড বা ডায়মন্ডকে কয়লা বলতে পারি না। ঠিক তেমনি যদি তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই মৌলিক ভাবে ব্রহ্মা বিষ্ণু আর আল্লাহ সৃষ্টি কর্তা হিসাবে একই (নাউজুবিল্লাহ) তারপরেও উপরে উল্লেখিত বিষ্ণু ব্রহ্মার বৈশিষ্ট্যের সাথে আল্লাহর বৈশষ্ট্যের চরম পার্থক্যের কারণে আল্লাহকে কোন ভাবেই বিষ্ণু বা ব্রহ্মা বলে ডাকা যায় না, যেমন কয়লা কে ডায়মন্ড বা ডায়মন্ডকে কয়লা বলা যায় না। আবার নিম্নের চীত্রে আমরা বিষ্ণু ব্রহ্মাকে দেখতে পাই। আল্লাহকে যদি বিষ্ণু বহ্মা বলে ডাকা যায় তবে কি নিচের এই মূর্তিগুলোকে কি আল্লাহর মূর্তি বলা যাবে? (নাউজুবিল্লাহ) নামের সাথে বৈশিষ্ট্য একটি অপরিহার্য্য বিষয়। যেমন এখন কি কেউ কারোর নাম গোলাম আজম রাখে? হিটলার রাখে? রাখে না। কারণ গোলাম আজম বা হিটলার নামটি এমন ভাবে কিছু মানুষ দ্বারা কলংকিত হয়েছে যে, কাওকে এমন নাম রাখলেই ঐ কুকির্তি মানুষের চোখে ভেষে ওঠে। সুতরাং আল্লাহকে বিষ্ণু বা ব্রহ্মা নামে ডাকলে ঐ মুর্তির ছবি বা বৈশিষ্ট্যই মানুষের মনে ভেসে উঠবে, যা আল্লাহর নিরাকার বৈশিষ্ট্যের সাথে চরম ভাবে সাংঘর্ষিক। আবার ভাষার সাথে পরিবেশের একটি বিষয় আছে। যেমন আমরা যদি চুল কাটব না বলে বাল কাটব বলি, তবে তা গালাগাল বলেই মনে হবে । কারণ বাল শব্দটি আমাদের দেশে অশ্লিল ভাষা হিসাবেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে অঞ্চলে যে ভাষার প্রচলন, সেখানে সেটাকে মানাই ভদ্রতা শব্দের অর্থ যাই হোক, অঞ্চল ভেদে তার অর্থটা কি, সেটাও বিবেচ্য। সুতরাং আমার মনে হয় কখনোই আল্লাহকে বিষ্ণু বা ব্রহ্মা নামে ডাকা ঠিক নয় ও যাকা যায় না।
আমরা জানি যে সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা এক ও অদ্বিতীয় তাহার সমান বা তাহার কোনো শরীক নেই এবং তিনি সকল কিছুর উর্ধ্বে । মানুষের জীবনকালে তার যা কিছু প্রয়োজন তা আল্লাহর কখনো প্রয়োজন হয়না ।তিনি কখনো দুনিয়াতে আসেননি তবে সকল কিছু তাহার নির্দেশই হচ্ছে । মানব জাতিকে সঠিক দিক নির্দেশনা তিনিই দিচ্ছেন এবং তার জন্য যুগে যুগে বহু নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন । নবী রাসূলগণও আমাদের মতো রক্ত মাংসের মানুষ । তাদের জন্ম ছিলো ,মৃত্যু ও ছিলো । তাদের জৈবিক চাহিদা (থাদ্য,বস্ত্র,পত্নী,সন্তান ছিলো ) তারা আমাদের মতো মানুষ যাদের সৃষ্টি ও অন্ত আছে ।তারা আল্লাহর মনোনীত সম্মানিত ব্যক্তি ছিলো ।এখন হিন্দু ধর্মও এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী তবে তারা এও বিশ্বাস করে ঈশ্বরের অবতারে যারা কিনা পৃথিবীতে আসে মানুষতে সঠিক পথে চলার জন্য । তাদের জন্ম ও মৃত্যু হয়েছে । এখানে আল্লার প্রেরিত নবী-রাসূল ও অবতারদের একটা মিল দেখা যায় । তবে অবতার ঈশ্বর/আল্লাহ নয়।আমার জানামতে কৃষ্ণ একজন অবতার তিনি ঈশ্বর/আল্লাহ নন । তিনি ঈশ্বর/আল্লাহর প্রেরিত নবী অথবা অবতার হতে পারেন তবে তিনি ঈশ্বর/আল্লাহ এর সমকক্ষ কেউ নন ।
বিষয় টা ক্লিয়ার করে দেই । যদি উনি বলতেন মোহাম্মদ (সা:) আছেন এবং কৃষ্ণ ও আছেন এটা মানা যেত যদি বলতেন কৃষ্ণ আল্লাহর পাঠানো দূত হতে পারে, নাও হতে পারে। সেটা ও মানা যেত। । । কৃষ্ণের জীবন কাহিনী দেখলে বুঝলেন সে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর এর কাছে শক্তি প্রার্থনা করেছে। সে মারা গেছে, কিন্তু আল্লাহ বা ঈশ্বর এর মৃত্যু নেই। । এতেই বুঝা যায় সে ঈশ্বর নয় ঈশ্বর এর পাঠানো অবতার বা পথপ্রদর্শক।