মিলাদ শরিফ পাঠ করার পূর্নাঙ্গ নিয়ম ও দোয়া সমুহ জানতে ছাই
9151 views

1 Answers

মিলদের নিময় জানার আগে আমাদের জানতে হবে মিলাদ কি? বাংলাদেশে মিলাদের সাথে পরিচিত নয় এমন লোকজন নেই বললেই চলে। এবং এ নিয়ে আমাদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি রয়েছে। কেউ এটাকে জায়িজ বলে আবার কেউ এটাকে নাজায়িজ বলে। আজ আমি এ সম্পর্কে সামান্য কিছু আলোচনা করব। মিলাদ এর শাব্দিক অর্থ হল জন্ম। মিলাদুন্নবী মাহফিল এর উদ্দেশ্য হল হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন বৃত্তান্ত আলোচনা করা। মিলাদের উদ্দেশ্য যদি এটাই হয় তবে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী আলোচনা করে এবং এর শেষে দরুদ ( আর সবচেয়ে বড় দুরুদ হচ্ছে দরুদে ইব্রাহীম) ও দোয়া করে মিলাদ করা জায়িজ আছে। কিন্তু আমাদের দেশে মিলাদ ও কিয়াম সাধারণত যে নিয়মে করা হয় এবং আজগুবি কবিতা ''ইয়ানবী সালামু আলাইকা'' ধরনের শাব্দিক ও অর্থগত ভুল দরুদ পড়া হয় তা আপত্তিকর ও কুরান হাদিসের নীতি বহির্ভুত। ৬০৪ হিজরীতে বাদশাহ আবু সাঈদ মুযাফফরুদ্দীন আবুল খাত্তাব ইবনে দিহইয়া নামক জৈনক দরবারী আলেম দ্বারা মিলাদ মাহফিলের ব্যাবস্থা করেন। আল্লামা আব্দুর রহমান রহ. প্রচলিত মিলাদকে বিদয়াত বলেন। খোলাফায়ে রাশেদিন, সাহাবাগণ রা., আইম্মায়ে মুজতাহিদগণ তা করেন নি। (প্রমাণ : আশশরীআতুল ইলাহিয়া ২৫৩ পৃ) আল্লামা আহমদ বিন মুহাম্মদ মিসরী রহ. লিখেন মাযহাব চতুষ্টয়ের ইমামগণ মিলাদ মাহফিলের জঘন্যতার উপরে একমত পোষন করেন। (প্রমাণ : রাহে সুন্নাত ২৫৩ পৃ) ''যদি কেউ আমার এই দীনের মধ্যে এমন কিছু আবিষ্কার করতঃ অনুপ্রবেশ করায় যা দীনের অন্তর্গত নয় তাহলে সে কাজ হবে প্রত্যাখ্যাত। কিছুতেই তা গ্রাহ্য হবেনা'' (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত শরীফ ২৭ পৃ.) উল্লেখ্য মিলাদে কিয়াম করা শিরক ও নাজায়িজ। তবে প্রচলিত পন্থা ছাড়া কেউ মিলাদ পড়াতে চাইলে নিয়ম এই যে, কোন একজন হক্কানী আলেম রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী নিয়ে আলোচনা করবেন এবং দরুদ পড়ার ফযীলত বলবেন এবং সবাই মহব্বতের সহিত দরুদ পড়বেন। পরিশেষে আলেম সাহেব সবাইকে নিয়ে দোয়া করবেন। (প্রমাণ : মিশকাত ২৭, ৪০৩, ওয়াফাইয়াতুল আ'য়ান ৪ঃ১১৭, আলই'তেসাম ১;১১৪, মজলিসে আবরার ২১৩, ফাতয়াওয়ায়ে রাহিমীয়া ২;২৮৩, মুসলিম শরীফ ২;৭৭, আবু দাউদ শরীফ ২;৭১০) আমার এবং হক্কানী আলেমদের মতে ইয়া নবী সালামু আলাইকা- এখানে যে "ইয়া" শব্দটা বলা হয় সেটা তখনি বলা হয় যখন কেউ উপস্থিত থাকে। কিন্তু নবী করিম (সাঃ) এর সাথে এই ইয়া বলে বেদাতিরা বেয়াদবি করে। কারন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তারা হাজির নাজির বলে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউই হাজির নাজির নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কি এত সম্মান কম (নাউযুবিল্লাহ্) যে তিনি সৌদি থেকে মিলাদ শোনার জন্য বাংলাদেশে আসবেন? আর যারা কিয়াম করে, তারা তাদের কিয়ামের অল্প সময় শুধু দাঁড়িয়ে থাকে আর বাকি সময় বসে থাকে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান জানাতে হলে তো সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকত।
9151 views

Related Questions