যিকিরের অবস্থান কেমন হওয়া দরকার?
2 Answers
মুসলমান আল্লাহ তায়ালার যিকিরে সর্বদা থাকা সম্ভব, যদি প্রতিটি কাজে মাছনুন দো'য়া গুলো পড়ে। আর মুখে যিকির ও সর্বদা করা যায়, কিন্তু পেশাব-পায়খানা, (সম্ভবত) স্ত্রি সহবাস ইত্যাদি ব্যাতিত।
এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পূর্বে,, আগে পরিষ্কার হতে হবে যিকির কি??
যিকির শব্দের অর্থ - আল্লাহকে স্মরণ করা।।
-
যিকির মানে এহা না যে,
আপনি
মসজিদে বা কোন নির্দিষ্ট জায়গায় গোল হয়ে বসে সমস্বরে জিকির করা, মাইকে জিকির করা, মাজার-খানকা শরীফের মাথা দোলানো বাবরি ঝোলানো জিকির প্রভৃতি। আমাদের চারপাশে এভাবে দেখে আমরা অভ্যস্থ হয়ে গেছি, আর জিকিরটাকে কতগুলো বিশেষ কাঠামোতে আবদ্ধ করে ফেলেছি। সত্যিই কি জিকির বলতে এই দৃশ্যগুলোকে বুঝায়? আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি?
-
এটাই যদি হত যিকির (স্মরন) করা তাহলে উক্ত সময়ের পরে পাপ করা যেত,, আপনাকে সারাদিন রাত ২৪ ঘন্টা আল্লাহর নিয়ম নিতিতে চলতে হবে, আর এটাই হল যিকির।।
-
আল্লাহ তাআলা যে কাজ করতে বলেছেন সে কাজ সেভাবে করা এবং যে কাজ করতে নিষেধ করেছেন সে কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি, আল্লাহকে সমীহ করি, আল্লাহকে ভয় করি এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাজ করি তাহলে এই পুরো ব্যাপারটিই জিকির বলে গন্য হবে! একটু অবাকই লাগছে তাই না? আসুন দেখি আল্লাহ তাআলা কি বলেছেন:
“অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ করো, (তাহলে) আমিও তোমদের স্মরণ করবো, তোমরা আমার কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং কখনো তোমরা আমার অকৃতজ্ঞ হয়েও না” (সূরা বাকারা: ১৫২)
আল্লাহকে স্মরণ করে এবং ভয় করে করবো সে কাজটিই জিকির বলে অভিহিত হবে।
“তবে (সর্বদাই) আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, মনের রেখো, যারা (সীমালংঘন থেকে) বেঁচে থাকে আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন” (সূরা বাকারা:১৯৪)
অর্থাৎ সব সময়ই আল্লাহর ভয় মনের মধ্যে থাকা, আল্লাহ যেসব কাজ করতে নিষেধ করেছেন সে কাজগুলো থেকে একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করে বিরত থাকা, তা সীমালংঘন না করা। আর যারা এভাবে আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে রয়েছেন।
“যদিও আল্লাহর ভয়টাই হচ্ছে (মানুষের) সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয়, অতএব হে বুদ্ধিমান মানুষেরা, তোমরা আমাকেই ভয় করো” (সূরা বাকারা: ১৯৭)
অর্থাৎ আমরা আল্লাহকে ভয় করে যে কাজ থেকে বিরত থাকব, আল্লাহর কথা শুনব একমাত্র আল্লাহকে ভয় করে সেই ভয় করাটাই হবে আমাদের সর্বোৎকৃষ্ট পাথেয়। অন্য কাউকে ভয় করে নয়, একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করে কাজটি করব, আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে বুদ্ধিমান মানুষেরা তোমরা আমাকেই ভয় করো।
“অতপর তোমরা যখন আরাফতের ময়ধান থেকে ফিরে আসবে তখন (মুযদালিফায়) ‘মাশায়ারে হারাম’ এর কাছে এসে আল্লাহকে স্মরণ করবে, (ঠিক) যেমনি করে আল্লাহ তাআলা তোমাদের (তাঁকে ডাকার) পথ বলে দিয়েছেন, তেমনি করে তাকে স্মরণ করবে” (সূরা বাকারা: ১৯৮)
-
নামাযে আল্লাহকে স্মরণ করা হচ্ছে, আল্লাহর আদেশ নিষেধ সম্পর্কে মনে ভয় তখন আরো জেগে উঠে যা অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। নামায শেষ কিন্তু তার পরেও আল্লাহকে স্মরণ করা, তা একটি মহান কাজ।
“হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, জুমআর দিনে যখনা তোমাদের নামাযের জন্যে ডাক দেওয়া হবে তখেন তোমরা (নামাযের মাধ্যমে) আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাও এবং (সে সময়ের জন্য) কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা তা উপলব্ধি করো। অতপর যখন (জুমআর) নামায শেষ হয়ে যাবে তখন তোমরা (কাজেকর্মে) পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো, আর আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করো, আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে” (সূরা জুমআহ:৯-১০)
অর্থাৎ জুমআর নামাযে যাও আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য, নামাযের পড় যখন কাজে বেরিয়ে পড়বে তখনও আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণ করার কথা বলা হয়েছে। যে কাজটি করতে যাব তাতে থাকবে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থা, নাফরমানী মূলক কিছু থাকবে না। আল্লাহকে স্মরণ করার মাধ্যমে আমরা সাফল্যমন্ডিত হতে পারবো।
-
আল্লাহকে স্মরণ, আল্লাহকে ভয় করে জীবন অতিবাহিত করাটাই হচ্ছে মুসলিমের জীবন। সর্বশেষ যে আয়াতটি দিয়ে আমার লেখা শেষ করবো:
“তোমরা তাদের মতো হয়ে যেয়ো না যারা (দুনিয়ার ফাঁদে পড়ে) আল্লাহকে ভুলে গেছে এবং এর ফলে আল্লাহ তাআলাও তাদের (নিজ নিজ অবস্থা) ভুলিয়ে দিয়েছেন, (আসলে) এরা হচ্ছে নাফরমান” (সূরা হাশর:১৯)