3 Answers

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম, মঞ্চে উপস্থিত প্রধান অতিথি এবং আমার শ্রদ্ধেয় সকল শিক্ষক ও আমার সামনে উপবিষ্ট সকল শিক্ষার্থীদের কে আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক সালাম এবং শুভেচ্ছা জানাই। অত্যান্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে আজ আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান। যদিও আমরা মনে করি এটা একটা বিদায়ের আনুষ্ঠানিক মাত্র। কারণ মন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই প্রতিষ্ঠানে পড়েছি এবং এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ আমাদেরকে বিভিন্ন বিষয় অত্যান্ত দক্ষতার সাথে পড়িয়েছেন তা আমরা কখনোই ভুলবো না। ইংরেজীতে বলা হয়… ”The teacher is more teach what they are than what they say” আরেক মনীষী বলেছেন… ”The mediocre teacher tells, the good teacher explains, the superior teacher demonstrates ,the great teacher inspires” আর আমাদের শিক্ষকরা সবসময় আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন।এজন্য আমরা আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও আমাদেরকে আজ অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আজ শিক্ষাজীবনের একটি অধ্যায় সমাপ্ত করে পরের আরেকটি অধ্যায়ে পা রাখার উদ্দেশ্যে আমরা বিদায় নিচ্ছি। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন ভবিষ্যতে শিক্ষাজীবনে আরো উন্নতি করে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি। গ্রীক নাট্যকার সফোক্লিস বলেছেন… ”একটি দিনের আলোর কি যে অপরুপ মহিমা তা জানতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করলে বোঝা যায় না।”ঠিক তেমনি এখানে দীর্ঘ শিক্ষাজীবনে আপনাদের অনেক শাসন-বাড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে যা সাময়িক বিরক্তিকর মনে হলেও এখন এই শেষ মুহূর্তে বুঝতে পারছি এটা আমাদের জন্য কতটা দরকারি ছিলো। তাই আমাদের কোনো আচরণের যদি কোনো শিক্ষক/ শিক্ষিকা কষ্ট পেতে থাকেন বা ছোট কিংবা বড় কোনো ভুল করে থাকি তাহলে আমাদেরকে ক্ষমা করবেন। সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পক্ষ থেকে আমি বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। যাই হোক, বিদায়ী মুহূর্তে আর বেশি কিছু বলতে চাই না, এই প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক/ শিক্ষিকাবৃন্দের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। – ধন্যবাদ সবাইকে।

37749 views

প্রথমে স্যার ও উপস্থিত গন্যমান্য ব্যক্তিদের সালাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু করবেন বক্তব্য।।। তার পর:: বিদায় শব্দটি অনেক কষ্টের হলেও তবুও আজ আমায় বলতে হচ্ছে, কারন আজ আমি এবং আমার সহপাঠীরা সেই শব্দটার সামনে দাড়িয়ে আছি,বাস্তবতা কল্পনা এতী দূরে কেন জানিনা,আজ ছেড়ে যেতে হবে আমাদের সপ্নের বীজবোনা সেই বীজতলা, ছেড়ে যেতে হবে ছায়া দেওয়া সেই বড় বড় গাছগুলো,আমাদের প্রিয় স্যারদের বলছি,আমারা যদি আপনাদের চোখে কোন অন্যায় করে থাকি নিজের সন্তানের মত ভেবে আমাদের ক্ষমা করে দিবেন,আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ এর জন্য দোয়া করবেন, আর আমার স্নেহের ছোট ভাই-বোন দের আমারা সব সব-সময় মিস করব,তোমাদের প্রতি যদি কোনদিন অন্যায় করে থাকি,ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখ আমাদের,দোয়া করিও আমাদের জন্য,,,,তারপর সবার কাছ থেকে বিদায় নিবেন!!! কপি- পেস্ট!!!

37749 views

প্রথমেই বলে নেওয়া প্রয়োজন যে, যারা বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রী/পরীক্ষার্থী তারা মানপত্র পাঠ/প্রদান করে না। তারা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতিচারণ করে বিদায়ী বক্তব্য প্রদান করে। আর ছোট ভাই-বোনেরা ( নিচের ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা) বিদায়ী ছাত্র-ছাত্রী/পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ/প্রদান করে। এখানে একটি মানপত্র লিখে দেওয়া হলোঃ


"ক" উচ্চবিদ্যালয়ের ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ভাই-বোনদের বিদায় উপলক্ষ্যে

                                    "বিদায় সংবর্ধনা"


হে বিদায়ী ভাই-বোনেরা,

আজ আমাদের জীবনের এ মধুময় লগ্নে তোমরা এলে বিদায় নিতে। তোমাদের বিদায় বার্তায় ছিঁড়ে যাচ্ছে আমাদের হৃদয়বীণার তারগুলো। আমাদের ব্যথিত মর্মবীণায় বেসুরো হয়ে বেজে উঠছে প্রিয়হারা বেদনার এক করুণ রাগিনী। সেই রাগিনীর সুর যেন বলছে, 'ভুবনের ঘাটে ঘাটে, এক ঘাটে লও বোঝা শূন্য করে দাও অন্য ঘাটে।' শুভ হোক তোমাদের ভবিষ্যৎ। তোমরা আমাদের প্রীতি গ্রহণ কর।


হে বিদায়ী অগ্রজ বন্ধুরা,

তোমাদের প্রানোচ্ছল পদভারে এই বিদ্যাপিঠের আঙিনা ছিল মুখরিত। তোমরা ভুলে যেও না ফেলে আসা স্মৃতিময় দিনগুলো। প্রিয় শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অবদানের কথা তোমাদের মনে থাকুক অমলিন। বিষণ্ন নয়নে আজ শুধু বলি-

                            "এ অনন্ত চরাচর, স্বর্গ মর্ত্য ছেয়ে

                   সবচেয়ে পুরাতন কথা,  সবচেয়ে গভীর ক্রন্দন

                        যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়

                                         তবু চলে যায়।"


হে উদ্যমী পথিক,

তোমাদের বিদায় ব্যথায় আমরা ব্যথিত বটে, কিন্তু অমঙ্গলের অশ্রু ঝরিয়ে শুভ যাত্রাপথকে আমরা অশুভ করতে চাই না। প্রকৃতির অমোঘ বিধান মেনে নিয়ে তোমাদেরকে জানাই সাদর বিদায় সম্ভাষণ। শুধু এ আশা আমাদের- নবজীবনের গান গেয়ে তোমরা জীবনে সৃষ্টি করবে নতন ভুবন। তাইতো কবির ভাষায় হৃদয়ের অনুভূতিতে বেজে ওঠে-

               তোমরা চলেছো সুন্দরের পানে খুলিয়া বাতায়ন

               জ্ঞান সাগরে খুঁজিয়া পাইতে জীবনের জাগরণ।


হে আলোর পথের যাত্রীরা,

নবজীবনের আহ্বানে, আলোকিত জীবনের সন্ধানে তোমরা এগিয়ে যাচ্ছ নবদিগন্তের দিকে। দেশ ও জাতির ভাগ্য বিধাতা তোমরা। জাতি আজ প্রত্যাশা করে দুঃখ, দারিদ্য, অন্ধকার ঘুচিয়ে তোমরা গড়ে তুলবে একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। তাইতো মনের মাঝে আবারও নাড়া দিয়ে ওঠে-

                   হও সার্থক হে যাত্রী সামনে এগিয়ে চলো

            আঁধার কেটেছে, সূর্য উঠেছে চারপাশে দেখ আলো।

তোমাদের পদচারণায় সৃষ্টি হবে নতুন পথ। তোমরা বয়ে আনবে এক আলোক উজ্জ্বল সোনালি প্রভাত।

পরিশেষে পরম স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করি, সাফল্যে ও ঔজ্জ্বল্যে তোমাদের জীবন যেন হয় জ্যোতির্ময়। তোমাদের ঐকান্তিক প্রয়াসে সমৃদ্ধ হোক দেশ ও জাতি।

তারিখঃ ২৫/০১/২০১৭ ইং

                                                            তোমাদের স্নেহমুগ্ধ

                                                            ছোট ভাই-বোনেরা

                                                            "ক" উচ্চবিদ্যালয়


* এখানে মানপত্র যেদিন পাঠ/প্রদান করা হবে সেদিনের তারিখ এবং "ক" বিদ্যালয়ের স্থানে নিজ বিদ্যালয়ের নাম দিতে হবে। এছাড়াও মানপত্রে সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন, সংশোধন করা যেতে পারে।

37749 views

Related Questions