15 লাখ কর্মী নিবে মালয়েশিয়া সরকার?
1 Answers
তথ্যবিভ্রাটে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হতে পারে
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০০:১৭
মালয়েশিয়ায় কথিতমতে, ১৫ লাখ লোক পাঠানো নিয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরপরই সে দেশে বিদেশি শ্রমিক আমদানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত বিরাট গোলকধাঁধা সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো দেশে বিপুল হারে শ্রমিক রপ্তানি প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু মাঝেমধ্যেই এ ধরনের রপ্তানি সম্ভাবনার চমকপ্রদ খবর চাউর হচ্ছে। এর ফলে চাকরিপ্রার্থী নিরীহ মানুষের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে।
মনে রাখা দরকার, মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিক আমদানি স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিলেও সেখানে উল্লিখিত সংখ্যক কর্মী নেওয়া হবে, সেই সম্ভাবনা কম। দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দুটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। প্রথমত, ১৫ লাখ বাংলাদেশি বাংলাদেশেরই বৈদেশিক চাকরি-বিষয়ক সংস্থায় নিবন্ধিত হয়েছিল। তাঁদের লক্ষ্য হলো মালয়েশিয়াসহ ১৩৯টি দেশের যেকোনো স্থানে চাকরি পাওয়া। দ্বিতীয়ত, সমঝোতা স্মারকের আওতায় কত লোক বাংলাদেশ থেকে আসবে, তা তাঁদের ব্যবসায়ীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে। তিনি এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন যে তাঁদের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি নয়, ইন্দোনেশীয় ও নেপালি কর্মী পেতে বেশি আগ্রহী।
সমঝোতা স্মারক আর চুক্তি দুটি আলাদা বিষয়। কর্মী নিয়োগের কোনো সংখ্যা নির্দিষ্ট করা ছাড়াই একই ধরনের নীতিগত স্মারক মালয়েশিয়া আরও ছয়টি দেশের সঙ্গে সই করেছে। অথচ বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ লোক রপ্তানির সম্ভাবনার খবর গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলো। আবার বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পরদিনই ফেডারেল সরকারের এ রকম ঢালাও নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও রহস্যজনক। তবে দেশটির পশ্চিম উপকূলীয় রাজ্য সেলাঙ্গরের মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় জোট নেতা আজমান আলী রোববার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধের ‘আকস্মিক’ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন
আমরা আশা করব, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই কেটে যাবে। আর কুশলী কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমেই সেটি সম্ভব বলে মনে করি। সিদ্ধান্ত যা-ই হোক না কেন, সতর্ক থাকতে হবে যাতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে না পড়ে। জি টু জি চুক্তির তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে এগোতে হবে।