পর্ণোগ্রাফিক সাইটগুলো ভিজিটরদের সম্পর্কে কতটুকু ডাটা সংরক্ষন করে?
যেমন- ফোন নাম্বার, লোকেশন, ডিভাইস ইত্যাদি।
1 Answers
আপনার প্রশ্নটি আরও বিস্তারিত ছিলো কিন্তু বিস্ময়ে প্রকাশের স্বার্থে বাড়তি অংশ বাদ দিলাম।
আমাদের দেশে ইন্টারনেট খরচ দিনদিন সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে আর তার সাথে তালমিলিয়ে বেড়ে চলেছে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা। এর একটি বড় অংশ ঝুঁকে পড়ছে অশ্লীল সাইটগুলোর দিকে।
ঠিক এরকম একটা মুহুর্তে আপনার প্রশ্নটা আমার নিকট অনেকটাই কৌতূহলোদ্দীপক বলে মনে হলো। যাই হোক, মূল উত্তরে আসি-
পর্নোগ্রাফিক সাইটগুলো বর্তমানে খুবই বিশাল আকার ধারণ করেছে, পাশাপাশি এর চাহিদাও তুঙ্গে। নিজেদের সেরাটা ধরে রাখতে ইউজারদের কোন ধরণের জিনিস পছন্দ, কোনটার প্রতি আকর্ষণ বেশি, অঞ্চলভেদে সেরা রিকমন্ডাশেন কি হতে পারে ইত্যাদি অ্যানালাইসিসের প্রয়োজন হয়। আর এরজন্য এসব ওয়েবসাইট নিজস্ব ট্রাকিং সিস্টেমের পাশাপাশি বিভিন্ন থার্ড পার্টি প্লাগ-ইন (যেমন: Google Analytics, AddThis ইত্যাদি) ব্যবহার করে থাকে। আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে গুগল আপনার সম্পর্কে যত কিছু জানে আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটাও হয়তো ততটা জানেনা। একটি রিসার্চ থেকে জানা যায়, বিশ্বের টপ ৫০০ টি পর্ণোগ্রাফিক সাইটের মধ্যে ৮৮%-ই এরকম থার্ডপার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে।
আপনি যখন কোনো একটি ভিডিওতে ক্লিক করেন তখন আপনার ব্রাউজার উক্ত ভিডিওর জন্য সার্ভারে রিকুয়েস্ট পাঠায়, সার্ভার আপনার আইপি এবং ব্রাউজার সংশ্লিষ্ট কিছু ডাটা (একে সাধারণত browser footprints বলে অভিহিত করা হয়) অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে। এই ডাটা পরবর্তী ধাপে তাদের ইন্সটলকৃত থার্ড পার্টি সার্ভারে প্রেরিত হয়। এভাবে প্রতিটি ক্লিকে আপনি শুধু একটি সাইটে নয় বরং একাধিক সাইটে ব্যক্তিগত তথ্য বিতরণ করে চলেছেন। এতো শুধু ভিজিটরের কথা বললাম, আপনি যদি এসব সাইটে রেজিস্টার করেন তাহলে তালিকাটা আরও লম্বা হবে।
এছাড়াও পর্নোগ্রাফি সাইটগুলোতে পারস্পরিক সমতার জন্য এক ধরণের অন্তবর্তী তথ্য বিনিময়ের পদ্ধতি আছে। বিশেষ করে যেসব সাইট তাদের URL এ বিভিন্ন ইউনিক আইডি (যেমন: 464778, wuTyEUerY) ব্যবহার করে তারা একটি বিশেষ পক্রিয়ায় তাদের সাথে যুক্ত অন্যান্য সাইটকে জানিয়ে দেয় যে এই ভিডিওটি অমুক আইপি থেকে প্রদর্শিত হয়েছে। এর সাহায্যে সংযুক্ত সাইটগুলো বুঝতে পারে কোন ভিডিওটিতে তাদের প্রায়োরিটি দেয়া উচিত।
এখানে উল্লেখ্য যে, এ পরিস্থিতিতে ব্রাউজারের Incognito Mode চালু করলেও কোনো লাভ হয়না।
এবার আসি এই ডাটাগুলো কিভাবে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে- প্রথমত, আপনার ISP অর্থাৎ মোবাইল/ব্রডব্যান্ড অপারেটর কিংবা প্রশাসন খুব সহজেই আপনার আইপি ট্র্যাক করে আপনার যাবতীয় ব্রাউজিং হিস্টোরি কালেক্ট করতে পারবে। ঠিক এভাবেই যারা বেআইনি কন্টেন্ট দেখে বা ডিস্ট্রিবিউট করে তাদের ধরা হয়।
ব্রাউজার ফুটপ্রিন্টে আপনার ISP ক্যারিয়ার সম্পর্কে তথ্য থাকে, এর মাধ্যমে আপনার মোবাইল নাম্বার পর্যন্ত ফাঁশ হয়ে যেতে পারে।