৩/১২/২০১৬ তারিখে জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবষ পালন করা হয় কেনো?
2904 views

2 Answers

প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরকে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে

 পালন করা হয়।১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত

 হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। শারীরিকভাবে

 অসম্পূর্ন মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সযোগীতা 

প্রদর্শন ও তাদের কর্মকন্ডের প্রতি সম্মান জানানোর 

উদ্দেশ্যেই এই দিবসটি।

2904 views
প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল ¯্রােতে সম্পৃক্ত করে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। জাতিসংঘের আহবানে ১৯৯২ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবহেলিত অংশ। তারা পায়না সামাজিক নানান সুযোগ সুবিধা। অনাদরে বেড়ে ওঠা বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের কর্মক্ষম করে তোলা কিংবা তাদেরকে যাতে সমাজের বোঝা হিসেবে না ভাবা হয়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সর্বোপরি তাদের গড়ে তুলতে হবে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী হিসেবে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। 
সরকারি হিসেবে আমাদের দেশে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৯২ লাখের ওপরে। আর বেসরকারি হিসেবে এই সংখ্যা কমপক্ষে এক কোটি দশ লাখ। নানা কারণে এই শারীরিক বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত প্রতিবন্ধী অধিকার সনদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে নানা উদ্যোগড় নিচ্ছে। বাংলাদেশ ২০০৬ সালে প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে প্রণীত আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছে। এর ভিত্তিতে প্রতিবন্ধীদের প্রাপ্য সব অধিকার দিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া নিশ্চিত করতে তাদের জন্য উপবৃত্তি প্রবর্তন করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসার বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুযোগ দেয়া, খাস জমি বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের সুবিধা দেয়া হবে বিমানবন্দর, রেলওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন ও সুবিধার জন্য ৪৬টি দোকান পয়েন্ট নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
সবচেয়ে বড় কথা, সরকারের এই সব উদ্যোগের সুফল যথাযথভাবে পাচ্ছে না সংশ্লিষ্টরা। এর কারণ অনেক। প্রথমত সরকারের এইসব প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা। প্রায় আড়াই বছর আগে প্রতিবন্ধী জরিপে অনুষ্ঠিত হয় সারাদেশে। কিন্তু তাতে সঠিকভাবে প্রতিবন্ধীদের তথ্য বেরিয়ে আসে নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া, যেহেতু প্রতিবন্ধীদের বেশির ভাগই অসচ্ছল দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠছে, তাই চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা তারা যথাযথভাবে পাচ্ছেনা। অপরদিকে বিত্তবান ঘরে জন্ম নেয়া প্রতিবন্ধীরা অনেক সময় সুচিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে। এতে তাদের প্রতিবন্ধীত্ব অনেকটাই ঘুচিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ৭শ ৫০ বিলিয়ন। এদের ৮০ ভাগেরই বসবাস উন্নয়নশীল দেশে। আর এইসব দেশের জনসংখ্যার ১৫ ভাগই প্রতিবন্ধী। 
আসল কথা হলো, প্রতিবন্ধীরা সমাজ বা রাষ্ট্রের কাছ থেকে যে মর্যাদাই লাভ করুক না কেন, তারা পরিবারে অবশ্যই আদরের সন্তান। মা বাবা তাদেরকে ¯েœহমমতা, আদর-যতœ দিতে কোনো কার্পণ্য করবে না, এটাই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে কি, তারা তাদের এই অবস্থার জন্য তো নিজেরা দায়ী নয়, কিংবা মা-বাবাও দায়ী নয়। সুতরাং তাদেরকে সহযোগিতা করা তাদের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করা, তাদেরকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে উৎসাহিত করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তী নিশ্চিত করতে হবে। উন্নত বিশ্বে প্রতিবন্ধীদের সমাজে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়। আমাদেরও এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
2904 views

Related Questions