হারাম খাদ্যবস্তুগুলো কি কি আর ফার্মের মুরগি খাওয়া হারাম কি নাহ?
হারাম খাদ্যবস্তুগুলো কি কি ? আর ফার্মের মুরগি খাওয়া হারাম কি নাহ?
3 Answers
>ফার্মের মুর্গী খাওয়া হারাম এভাবে বলা ঠিক না। সঠিক নিয়মে জবেহ করলে হারাম হবেনা। >পশু বা পাখীর মধ্যে যাহারা শিকার ধরিয়া খায়, কিংবা যাহাদের খাদ্য শুধু নাপাক বস্তু, সেই পশু-পাখী জায়েজ নাই। যেমন, বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘ, শৃগাল, শূকর, বিড়াল, বানর, বেজি। এইরূপে পক্ষীর মধ্যেও যে সব পক্ষী পায়ের দ্বারা শিকার ধরিয়া খায়; যেমন: বাজ, চিল, শিকরা, শকুন, কালকাক, ঈগল পক্ষী ইত্যাদি। পশু বা পক্ষীর মধ্যে যে সমস্ত পশু বা পক্ষী শিকার ধরিয়া খায় না, তাহা খাওয়া হালাল; যেমন: গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া, মুরগী, হাস ময়না, টিয়াপাখী, বক, চড়ূই, বটের পানিকড়ি, কবুতর, বন্যগরু, হরিণ, খরগোস, বন্যমুরগী, বন্যহাস, ইত্যাদি সব জায়েয। সজারু, গোসাপ, কচ্ছপ, খচ্চর, গাধা খাওয়া দুরুস্ত নাই। গাধার দুধ খাওয়াও জায়েজ নাই। ঘোড়া খাওয়া জায়েয আছে বটে, কিন্তু জেহাদের সামান বলিয় আমাদের ইমাম ছাহেব মাকরূহ বলিয়ছেন। পানির মধ্যে যে সমস্ত জীব বাস করে, তান্মধ্যে একমাত্র মাছ খাওয়া জায়েজ, তাছাড়া অন্য সব না- জায়েয। (মাসাআলা : হালাল জানোয়ার ভিতর পেশাব পায়খানা ব্যতীত আরও সাতটি জিনিস না-জায়েজ। যেমন : রক্ত, রগ, পিত্ত, পুরুষঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ, মুত্রাশয় ও অন্ডকোষ।) মাছ এবং টিড্ডি ব্যতীত অন্য জানদার যবাহ্ ছাড়া হালাল হইতে পারে না। মাছ এবং টিড্ডির জন্য যবাহের দরকার নাই, অন্যান্য হালাল পশু-পক্ষী যবাহ্ ছাড়া খাওয়া জায়েয নাই। যবাহ্ ব্যতীত প্রাণ বাহির হইয়া গেলে তাহা হারাম। মাছ পানিতে আপনা আপনি মরিয়া চিত হইয়া ভাসিলে খাওয়া জায়েয নাই। (যদি গরমি, আঘাত বা চাপাচাপির কারণে মরিয়া ভাসে, তবে খাওয়া জায়েয আছে। গরু ছাগলের নাড়িভুড়ি খাওয়া হালাল। হারামও নায়, মাক্রূহ্ও নয়। দৈ, চিনি বা গুড়ের মধ্যে পিপ্ড়া পোকা পড়িয়া থাকিলে তাহা ছাফ করিয়া খাইতে হইবে। ছাফ না করিয়া খাওয়া জায়েয নহে। ছাফ না করিলে যদি এক আধটি পিপড়া বা পোকা হলকুমের মধ্যে চলিয়া যায়, তবে মরা খাওয়ার গোনাহ্ হইবে। কোন কোন মূর্খেরা বলে যে, (আমের পোকা খাইলে সাতার শিখে) এবং জগডুমুরের পোকা খাইলে চোখ উঠে না, এসব মিথ্যা কথা। ঐ সব পোকা খাওয়া হারাম, খাইলে মরা খাওয়ার গোনাহ্ হইবে। হিন্দুর দোকান হইতে বকরী, মুর্গী বা অন্য কোন শিকারের গোশ্ত কিনিয়া খাওয়া জায়েয নাই। এমনকি, যদি সে দোকানদার বলে যে, মুসলমানের দ্বারা যবাহ্ করাইয়া আনিয়াছি তবুও তাহা খাওয়া জায়েয নাই। অবশ্য যদি যবাহের যময হইতে ক্রয়ের সময় পর্যন্ত অনবরত কোন মুসলমান লক্ষ্য করিয়া থাকে, এক মিনিটেও অদৃর্শ না হইয়া থাকে এবং সেই মুসলমান বলে যে, আমি দেখিয়াছি মুসলমানই যবাহ্ করিয়াছে এবঙ যবাহ্র সময় হইতে এই সময় প্রর্যন্ত এক মিনিটের জ্ন্যও আমি গাফেল হই নাই, তবে সেই গোশ্ত খাওয়া জায়েয হাইবে। (এইরূপ হিন্দুর তৈয়ারী ঔষধের মধ্যে গোশ্ত বা কলিজার সার মিশ্রিত থাকে তাহাও ব্যবহার করা জায়েয নহে। যে সব মুরগী খোলা ধাকে এবং না-পাক খাইয়া বেড়ায়, তাহা তিন দিন বন্ধ রাখিয়া যবাহ্ করিবে। তিন দিন না বাধিয়া খাইলে মাকরূহ্ হইবে। islam
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন,তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে মৃত জীব, রক্ত, শুকরের মাংস, যেসব জন্তু আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গকৃত হয়, যা কন্ঠরোধে মারা যায়, যা আঘাত লেগে মারা যায়, যা উচ্চ স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যা, যা শিং এর আঘাতে মারা যায় এবং যাকে হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করেছে, কিন্তু যাকে তোমরা যবেহ করেছ। যে জন্তু যজ্ঞবেদীতে যবেহ করা হয় এবং যা ভাগ্য নির্ধারক শর দ্বারা বন্টন করা হয়। এসব গোনাহর কাজ। আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা ক্ষমাশীল। (সুরা মায়েদা আয়াত ৩) ওপরে বর্নিত খাদ্যগুলো হারাম। আর ফার্মের মুরগি মৃত না থাকলে হারাম নয়।
মানুষের জন্য উপকারী ও পবিত্র সব ধরনের খাদ্যের ব্যাপারে ইসলামের বিধান হচ্ছে হালাল ও বৈধতার। প্রমাণ্য ও গ্রহণযোগ্য দলিল ব্যতীত কোন প্রকার খাদ্য হারাম বলা যাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, {বল, আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তাতে আমি আহারকারীর উপর কোন হারাম পাই না, যা সে আহার করে। তবে যদি মৃত কিংবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের গোশ্ত হয়- কারণ, নিশ্চয় তা অপবিত্র।} (আন-আম : ১৪৫) এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যেসব খাদ্যের ব্যাপারে হারামের কোন দলিল নেই, তা হালাল ও বৈধ। আমরা যেসব খাদ্য গ্রহণ করি, তা দু’প্রকার : প্রথম প্রকার : পশু ও পাখপাখালি। দ্বিতীয় প্রকার : উদ্ভিদ ও শাকসবজি। প্রথম প্রকার : পশু ও পাখপাকালি : পশু ও পাখপাখালির ব্যাপারে ওলামায়ে কেরাম অনেক লেখালেখি করেছেন এবং এর মধ্যে যা যা হারাম তার জন্য কিছু নিদর্শন ও বিধিবিধান প্রনয়ন করে দিয়েছেন, যে প্রাণীর মধ্যে হারামের কোন আলামত পাওয়া যাবে, তা খাওয়া হারাম। নিম্নে আমরা সেসব বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা করছি : (১) দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করা হারাম। যেমন, বাঘ, চিতা বাঘ, সিংহ ও কুকুর ইত্যাদি। (২) থাবা বা পাঞ্জা বিশিষ্ট হিংস্র পাখি ভক্ষণ করা হারাম। যেমন, ঈগল, বাজ, শ্যেন, পেঁচা ও শাহীন পাখি ইত্যাদি। দলিল : ইবনে আব্বাস রা. বলেন, {রাসূল সা. দাঁত বিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র জন্তু ও থাবা বিশিষ্ট প্রত্যেক হিংস্র পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।} (মুসলিম : ১৯৩৪) (৩) নির্দিষ্টভাবে যেসব পশু খেতে নিষেধ করা হয়েছে, তা খাওয়া হারাম। যেমন, গৃহ পালিত গাধা। দলিল : জাবের রা. বলেন, {রাসূল সা. খায়বরের দিন গৃহ পালিত গাধা খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোরার গোস্ত খেতে অনুমতি দিয়েছেন।} (বুখারি:৪২১৯, মুসলিম:১৯৪১) আরেকটি উদাহরণ, যেমন শূকর। আল্লাহ তাআলা বলেন, {তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত ও শূকরের গোশত ...} (মায়েদা : ৩) (৪) আরবরা যেসব প্রাণীকে খবিস ও নাপাক বলত, তা খাওয়াও হারাম। দলিল : আল্লাহ তাআলা বলেন, {(রাসূল সা.) তাদের জন্য পবিত্র বস্তু হালাল করে আর অপবিত্র (খবিস) বস্তু হারাম করে।} (আরাফ : ১৫৭) অপবিত্র বস্তু যেমন, পোকা-মাকড়, কীট-পতঙ্গ ও শকুন। যেহেতু এগুলোর খানাখাদ্য অধিকাংশই নাপাক ও আবর্জনা, তাই এগুলোকে খবিস বা নাপাক বলা হয়। (৫) শরিয়ত যেসব প্রাণী হত্যা করতে নিদের্শ দিয়েছে বা যেসব প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করেছে, তা খাওয়া হারাম। যেমন, হাদিসে নিষিদ্ধ পাঁচটি প্রাণী। যথা : ইদুর, বিচ্ছু, পাগলা কুকুর, কাক ও চিল ইত্যাদি। উল্লেখিত বিধান ও নিয়মের ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, এ ছাড়া যেসব পশু ও পাখপাখালি রয়েছে, তা হালাল ও বৈধ। যেমন, ঘোরা, চতুষ্পদ জন্তু, মুরগি, উটপাখি, খরগোস ও জঙ্গলী গাধা এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রাণী। কারণ, কুরআন হাদিসের দলিল এর বৈধতা ও হালালকেই প্রমাণ করে। দ্বিতয় প্রকার : উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্য : উদ্ভিদ জাতীয় খাদ্য যেমন, বিভিন্ন উদ্ভিদ, ফল, শষ্য ইত্যাদি খাদ্যদ্রব্য ও তৈরিকৃত পানীয় হালাল। কারণ, খাদ্য ও পানীয়র মূল প্রকৃতি হচ্ছে বৈধ ও হালাল হওয়া। হ্যাঁ, যেসব খাদ্য নেশার সৃষ্টি করে, তা ব্যতীত। যেমন, গাঁজা ও আফিম এবং এ জাতীয় অন্যান্য নেশাদ্রব। অথবা যা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর, তা ব্যতীত। যেমন, বিষ, সিগারেট ও এ জাতীয় অন্যান্য খাদ্য, যার ক্ষতি ও অপকারিতা সবার নিকট স্বীকৃত| এ সব কিছুই হারাম। কারণ এগুলো হয়তো নেশার সৃষ্টি করে অথবা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।