আমার মায়ের শুধু শরীর ঘামে। একদম ঘামিয়ে পানি বের হয়। কিন্তু গরম লাগে স্বাভাবিকভাবে। এর কারণ ও সমাধান দিবেন প্লিজ।
3962 views

3 Answers

সঠিক কারণ বলতে হলে ঘামের পাশাপাশি অন্যান্য উপসর্গগুলোও জানতে হবে। 

যদি আর কোনো উপসর্গ না থাকে তাহলে সম্ভাব্য কারণ হলো প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করা। 

পানি কম পান করলে শরীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত তাপ ঘামের সাথে বের করে দেয়। অন্যদিকে পানি পরিমাণমত পান করলে তাপমাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং ঘামও কম হয়।

3962 views

শরীরের তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশী হয়ে গেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতির কারন হয়। তাই তাপমাত্রা শরীরের জন্য যাতে বেশী না হয় সেইজন্য আমাদের দেহের নিজস্ব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আছে। এই ব্যবস্থা অনুযায়ী ঘাম গ্রন্থি থেকে ঘাম বের হয়, যার ফলে শরীরের তাপমাত্রা খুব বেশী বাড়ে না। সে জন্য অতিরিক্ত গরমে আমাদের শরীরের ঘাম গ্রন্থি ঠিক মত কাজ করে তাই বেশী করে পানি খেতে হয়। আবার দেখা যায়, জ্বর হলে অনেকের ঘাম বের হয়, এটিও একই কারণে হয়ে থাকে। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য বের হয়ে যায়।

3962 views

গরমের সময় ঘাম হওয়া স্বাভাবিক। তবে বেশি ঘাম হলে নানারকম সমস্যা হতে পারে।

ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা স্বাভাবিক রাখতে ঘাম হয়। এছাড়াও ঘামের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। গরমের দিনে ঘাম হওয়া অতি সাধারণ একটি বিষয়। তবে অতিরিক্ত ঘামের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘামের কারণ এবং এর বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার উপায় জানালেন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, “মানুষের শরীরে অ্যাক্রিন ও অ্যাপোক্রিন গ্ল্যান্ড নামক দুইধরনের ঘামগ্রন্থি থাকে। রোদের কারণে শরীরের তামপাত্রা বেড়ে যায়। তাই তাপমাত্রা স্বাভাবিক করে আনার জন্য ঘাম হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান বের করে দেওয়ার মাধ্যমে শরীরের ‘প্রটেকটিভ মেকানিজম’ হিসেবেও কাজ করে ঘাম।”

ঘাম হওয়ার আরও কারণ সম্পর্কে ডা. কামরুল হাসান বলেন, “গরম ছাড়াও পরিশ্রম, উত্তেজনা, দুশ্চিন্তা, ভয়, রাগ ইত্যাদি কারণেও ঘাম হতে পারে। ঠাণ্ডা পরিবেশেও অনেকের হাত ও পায়ের তালু ঘামার সমস্যা দেখা যায়। এ ধরণের রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগই থাইরয়েড গ্রন্থি কিংবা বিভিন্ন হরমোনজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”

“নিউরোলজিকাল ও ঘুমের ওষুধ সেবন করলে কিংবা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণেও ঘাম হতে পারে।” বলেন ডা. কামরুল।

ঘামের অপকারীতা সম্পর্কে তিনি জানান, শরীরে ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হল ঘাম। ঘামাচি, চুলকানি, ব্রণ ইত্যাদি তো আছেই। তাছাড়া শরীরের ক্ষতস্থানেও ঘামের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে।

এছাড়া অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রচুর পানি বেরিয়ে যায়, ফলে পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘ সময় পরে থাকার কারণে ছত্রাকের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শরীর ঘামে ভেজা থাকলে ত্বকে ধুলাবালি আটকে থাকার পরিমাণও বেড়ে যায়। 

ঘামের কিছু উপকারী দিকও আছে। এ সম্পর্কে ডা. কামরুল হাসান বলেন, “ঘামে শরীর ভেজা থাকার কারণে হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমে যায়। পাশাপাশি শরীর থেকে অতিরিক্ত লবণ বের করে দিয়ে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে। পরিষ্কার রাখে ত্বকের লোপকুপগুলো।”

অতিরিক্ত ঘাম নিয়ন্ত্রণে করণীয়

অতিরিক্ত ঘাম হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে। ফলের শরবত, গ্লুকোজ, স্যালাইন ইত্যাদি পান করাও বেশ উপকারী

3962 views

Related Questions