অনেক সময় মায়েরা তুচ্ছ কারণে রেগে গিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই সন্তানকে অভিশাপ দেন । সন্তানের যদি কোনো দোষ না থাকে, তাহলে এ ধরণের অভিশাপ কী ফলে যায় ?

3844 views

3 Answers

হতেও পারে। হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারোন মায়ের দুয়া আল্লাহ কবুল করে থাকেন। শুধু তাই নয়, কোনো মানুষও যদি অভিশাপমূলক কথা বলেন, সেটা হয়েও যেতে পারে,। তাই আমাদের উচিত জিহবাকে সংযত রাখা।

এমন অনেক কাহিনী ঘটেছে যেখানে মা অনিচ্ছাকৃত ভাবে সন্তান কে অভিশাপ দিয়েছেন আর তা ফলেও গেছে,। কখন কোন কথাটা কবুল হয়ে যায় তা কেউ জানে না।তাই জিহবাকে সংযত রখুন।

3844 views

যদি মা মন থেকে কষ্ট পেয়ে বা অন্য কোন কারণে অভিশাপ দিয়ে থাকে তাহলে সেই অভিশাপ ফলে যাবে। কিন্তু মা তার ছেলেকে অভিশাপ সহজে দেয়না কারণ সন্তানের প্রতি মায়ের মমতা আকাশ চুম্বি।  আপনি যেভাবে বললেন তাতে বোঝা গেল মন থেকে অভিশাপ দেইনি তাই অভিশাপ ফলার কোন কারণ দেখিনা


আসুন দেখি ইসলাম কি বলেঃ
 
অসতর্কভাবে নিজ সন্তানকে অভিশাপ দিলে যা হতে পারে তা নিয়ে ইসলামের আলোকে কিছু কথা :

 কৈশরের দুরন্তপনায় অনেক সময়ই সেই মা অধৈর্য প্রতি হয়ে সন্তানের প্রতি অভিশাপ দিয়ে বসেন। আমাদের গ্রাম-অঞ্চলে প্রায়েই দেখা যায়, মা তার দুরন্ত ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, ‘তোর মুখ আমি যেনো আর না দেখি’, ‘তোর কেনো মরণ হয় না’ ইত্যাদি ধরনের নানা অভিশাপ বাক্য। অথচ তিনি নিজেও হয়তো কখনো সচেতনভাবে তেমনটি কামনা করেন না। অনেক সময় দেখা যায়, সত্যি যদি মায়ের অভিশাপের পরে সন্তান তেমন কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে, তখন আর মায়ের অনুশোচনার শেষ থাকে না। প্রতিটি ছোট থেকে বড় বিষয়ের মতো এ বিষয়টিকেও ইসলাম এড়িয়ে যায় নি। এ ব্যাপারেও ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়। ইসলাম কখনো কারো বিরুদ্ধে অভিশাপ দেয়া বা বদ দোয়া করাকে সমর্থন করে না। আপন সন্তান তো বটেই সামান্য জীবজন্তু বা পোকা-মাকড়, এমনকি জড় পদার্থকে অভিশাপ দেয়াও সমর্থন করে না। হাদিসে আছে, জাবের বিন আব্দুল্লা [রা] বলেন, ‘বাতনে বুওয়াতের সফরে রাসুল [স] মাজদি ইবন ‘আমর জুহানিকে খুঁজছিলেন। উকবা আনসারি তাঁর উটের পাশ দিয়ে চক্কর দিয়ে তাকে থামায়। তারপর তার পিঠে উঠে আবার তাকে চলতে নির্দেশ দেয়। হঠাৎ উটটি একেবারে নিশ্চয় হয়ে গেলো। তিনি বিরক্ত হয়ে বললেন, তোর ওপর আল্লাহর অভিশাপ। রাসুল [স] একথা শুনে বললেন, কে নিজের উটকে অভিশাপ দিলো ? তিনি বললেন, আমি হে আল্লাহর রাসুল। রাসুল [স] বললেন, ‘তুমি এই উটের পিঠ থেকে নামো। তুমি আমাদের কোনো অভিশপ্তের সঙ্গী করো না। তোমরা নিজেদের বিরুদ্ধে, তোমাদের সন্তান-সন্তুতির এবং তোমাদের সম্পদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করো না।’ (মুসলিম) হাদিস বিশারদগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, হতে পারে যে সময় বদ দোয়া করা হয়েছে, তা দিনের এমন সময়ে কেো হয়েছে, যখন খারাপ বা ভালো সব দোয়াই কবুল করা হয়। (মিরয়াতুল মাফাতিহ) নি:সন্দেহে বলা যায়, এই হাদিসটি রাগের মাথায় মানুষের তার পরিবার ও সম্পদের বিরুদ্ধে দোয়া করার নিষিদ্ধতা প্রমাণ করে। তাছাড়া নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে দোয়া করার অর্থ তো নিজেই নিজের বিরুদ্ধে দোয়া করা। প্রকারন্তরে নিজেকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত ১৯৫) সংগৃহীত


3844 views

আল্লাহ পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে উল্লেখ 

করেছেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত।

সাধারণত মা অনেক তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে সন্তানকে 

রাগের মাথায় অভিসাফ দিয়ে থাকে।

এই সকল অভিশাপ ফলে না।

কিন্তুু মাকে গভীর কষ্ট দিয়ে থাকলে 

মা মন থেকে কষ্ট পেলে হয়তো ফলতে পারে।

নয়তো পরোকালে আপনার বা আমার জন্য 

অপেক্ষা করছে কঠিনতম শাস্তি।

ধন্যবাদ 

3844 views

Related Questions