জটিল গবেষনায় পরেছি।সত্যিই কি মহাশুন্য আছে?
আলো এক ধরনের তরিৎ চোম্বকীয় কণা।আলোর অব্যশ্যই ভর আছে কারন ব্ল্যাকহোলে কোনো আলো থাকেনা।ব্ল্যাকহোলে ৪০০০g মহাকর্ষ বল থাকায় তা আলোকেও আকর্ষন করে।আলোর ভর না থাকলে তা মহাকর্ষ বলে সারা দিতনা।যেহেতু আলোর ভর আছে সেহেতু আলোর মাঝে কোনো কিছু বিদ্যমান। তা হতে পারে ইলেকট্রন প্রোটন বা অন্যকিছু।এখন মহাকাশে সব যায়গায় কমবেশি আলো বিদ্যমান কারন মহাকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র আছে।মহাকাশে সবজায়গায় আলো থাকলে শুন্য কোন যায়গায়?"যে জায়গায় আলো আছে সে যায়গায় কিছু নেই "তা বলা যায়না।সত্যিই কি মহাশুন্য আছে?
2 Answers
মহাশূণ্য অথবা মহাকাশ বলতে সাধারণভাবে মাথার উপরকার অনন্ত আকাশ বোঝানো হলেও বস্তুত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলসমৃদ্ধ আকাশকে পৃথিবীর আকাশ বলা হয়। তাই পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে মহাকাশ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরের অনন্ত স্থান। এ আকাশসীমায় অতি অল্প ঘনত্বের বস্তু বিদ্যমান। অর্থাৎ শূন্য মহাশূন্য পুরোপুরি ফাঁকা নয়। প্রধানত, অতি অল্প পরিমাণ হাইড্রোজেন প্লাজমা , তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ , চৌম্বক ক্ষেত্র এবং নিউট্রিনো এই শূন্যে অবস্থান করে। তাত্ত্বিকভাবে, এতে কৃষ্ণবস্তু এবং কৃষ্ণশক্তি বিদ্যমান।মহাশূন্য এমন অনেক কিছু আছে যা মানুষ এখনও কল্পনা করতে পারেনি। মহাশূন্য সুপ্রাচীনকাল থেকে মানুষের কৌতূহলের বিষয়। প্রত্যেক সভ্যতা ও মানুষ সবসময় মহাকাশকে কৌতূহলের দৃষ্টিতে দেখেছে। প্রাচীন সভ্যতা সমূহ ও মানুষেরা মহাশূন্যের ব্যাপারে নানা কাল্পনিক ব্যাখ্যা দিত। যথাঃ হাতি র উপর উল্টানো থালা, বিশাল চাদর, পবিত্র আত্মা ও দেবতাদের বাসস্থান ইত্যাদি। প্রাচীন গ্রিক, রোমান, মিশরীও, বেবিলনীয়, ভারতীয়, চীনা, মায়া ইত্যাদি সভ্যতা মহাশূন্যকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিন্তু সকল সভ্যতাই মহাকাশকে বিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে কম-বেশি গ্রহন করেছিলো। প্রাচীনকালের মহাকাশ আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণ প্রাচীন গ্রিক ও রোমানরা প্রাচীন জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছে। প্রাচীন গ্রীসে মহাকাশ কে দর্শনশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তারা নক্ষত্র সমূহকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করে নানা রুপ দিয়েছিল এবং এগুলোর অধিকাংশের নাম গ্রিক ও রোমান দেবতাদের নামে রাখা হয়। যা এখনও বিজ্ঞানী ও মহাকাশ পর্যবেক্ষণকারীদের নানা ভাবে সাহায্য করছে। চাঁদ এবং খালি চোখে দৃশ্যমান গ্রহগুলোর গতিপথও এর অন্তর্ভুক্ত। প্রাচীন গ্রিক ও অন্যান্য সভ্যতা সমূহ এর মাধ্যমে রাশিচক্র আবিষ্কার করে। নক্ষত্র, চাঁদ , ধুমকেতু ইত্যাদি প্রাচীনকাল থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে মানুষ। ঋতুর পরিবর্তন, দিন - রাত , নক্ষত্রের স্থান পরিবর্তন (পরবর্তীতে যা গ্রহ প্রমাণিত হয়) ইত্যাদির হিসাব ও গাণিতিক ব্যাখ্যার সাহায্যে সুপ্রাচীনকাল ও প্রাচীনকালে অনেক সমৃদ্ধি লাভ করে। মধ্যযুগের মহাকাশ আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণ মধ্যযুগে দূরবীক্ষণ যন্ত্রর আবিষ্কারের ফলে এর ব্যাপক প্রসার ঘটে। হান্স লিপারশে (Hans Lippershey) এবং জাকারিয়াস জেন্সেন (Zacharias Janssen) এর নির্মিত দূরবীক্ষণ যন্ত্র আরও উন্নত করে তুলেন গ্যালিলিও গ্যালিলি । গ্যালিলি তার দুরবিনের মাধ্যমে বৃহস্পতি গ্রহ র উপগ্রহ এবং শনি গ্রহ র বলয় পর্যবেক্ষণ করতেপেরেছিলেন। ১৬১১ সালে ইয়োহানেস কেপলার একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র নির্মাণ করেন যা দ্বারা জ্যোতির্বিজ্ঞান এ নতুন যুগের সূচনা হয়। এ সময় বুধগ্রহ, শুক্রগ্রহ , মঙ্গলগ্রহ , বৃহস্পতিগ্রহ, শনিগ্রহ সহ অগণিত নক্ষত্র ও ধূমকেতু পর্যবেক্ষণ এবং আবিষ্কার করা হয়। মধ্যযুগের শেষ পর্যায় ইউরেনাস গ্রহ , নেপচুন গ্রহ , প্লুটো গ্রহ আরও অনেক নক্ষত্র ও ধূমকেতু আবিষ্কার , পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করা হয়। মধ্যযুগের শেষ পর্যায় পদার্থ , রাসায়ন ও গণিত ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয় জ্যোতিষশাস্ত্রে। মহাজাগতিক বস্তুর গঠন, আকার-আকৃতি, বায়ু মণ্ডল (গ্যাসীয় পদার্থ সমূহ), কক্ষ পথ, আহ্নিক গতি, বার্ষিক গতি ইত্যাদি নির্ণয়র জন্য এসব শাস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার শুরুহয়। এর আগে শুধু গনিতশাস্ত্র ব্যবহার হত। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান (মহাকাশ আবিষ্কার ও পর্যবেক্ষণ) ১৯৬৯ খ্রীস্টাব্দের ১৬ই জুলাই জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ আবিষ্কারের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অভিযান, প্রথম মনুষ্যবাহী মহাকাশযান অ্যাপোলো ১১, যা ২০ জুলাই চাঁদে অবতরণ করে। এই অভিযানে অংশনেন দলপ্রধান নীল আর্মস্ট্রং, চালক মাইকেল কলিন্স, এডুইন অল্ড্রিন জুনিয়র এবং কমান্ড মডিউল। পরবর্তীতে আবিষ্কার হয়েছে প্লুটো সহ অন্যান্য বামন গ্রহ , নেহারিকা, ধূমকেতু, কৃষ্ণগহ্বর। বিজ্ঞান ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে শক্তিশালী কৃত্রিম উপগ্রহ, দূরবীক্ষণ যন্ত্র ইত্যাদি। যথাঃ হাবল টেলিস্কোপ। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান মহাবিশ্বকে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া আমাদের চোখের সামনে তুলে ধরেছে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীর কারনে পরিপূর্ণতা লাভ করেছে। তাদের মদ্ধে, আন্নি জাম কেনন (Annie Jump Cannon), মারিয়া মিশেল (Maria Mitchell), সি.ডব্লীউ থমবারগ(C.W. Tombaugh) হানরিটা সোয়ান লেভিট (Henrietta Swan Leavitt) প্রমুখ। উপরের আলোচনা থেকে বলতে পারি অবশ্যই মহাশূন্য রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায়।
নিউটনের অভিকর্ষ অনুযায়ী আপনি সঠিক, একটি কণার উপর অভিকর্ষজ বল ০ হবে যদি তার ভরও শূন্য হয়। তাই আলো ভরহীন হলে তার উপর গ্র্যাভিটি প্রভাব ফেলার প্রশ্নই উঠেনা। অভিকর্ষ বল যত বেশিই হোক আলো তার মধ্য দিয়ে সহজেই চলে যাওয়া উচিত।
যাই হোক, কিন্তু আমরা জানি নিউটনের অভিকর্ষ কেবল এবং কেবলমাত্র কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির সাপেক্ষে সঠিক বলে পরিগণিত হয়। যার মধ্যে একটি হলো "যখন কণা আলোর চেয়ে যথেষ্ট কম গতিতে চলে এবং যখন গ্র্যাভিটি দুর্বল হয়"
কিন্তু আলো এবং ব্ল্যাকহোলের ক্ষেত্রে উলটো পরিস্থিতি দেখা যায়। তাই সেখানে ভর না থাকলে গ্র্যাভিটি প্রভাব ফেলবেনা এই তত্ত্বটি অকার্যকর।
বিষয়টি আরেকটু ভালোভাবে বুঝতে আমরা আইনস্টাইনের জেনারেল রিলেটিভিটির সাহায্য নিতে পারি। এটি অনুসারে গ্র্যাভিটি কোনো শক্তি নয়, বরং এটি কণা কোন মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে সবচেয়ে কম দূরত্ব অতিক্রম তা নির্ধারণ করে। কণাগুলো সেই সংক্ষিপ্ততম পথ অনুসরণ করে। লক্ষ্য করুণ, এখানে কোথাও কিন্তু ভরের কথা উল্লেখ করিনি। এ নিয়ম সব পদার্থ এবং শক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাদের ভর থাকুক বা না থাকুক।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যায় যে উল্লিখিত "সংক্ষিপ্ততম পথ" কখনোই ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরিজোন (point of no return) অতিক্রম করতে পারেনা। ফলে আলো বা অন্যকিছুই ব্ল্যাকহোলের গ্র্যাভিটি প্রভাব থেকে রক্ষা পায়না। যার কারনে আলো ব্ল্যাকহোলের দিকে আকর্ষিত হয়।
এবার নিশ্চই মহাশূন্যের শূন্যতা নিয়ে আপনার কোনো সন্দেহ নেই! কোনোকিছু না বুঝলে মন্তব্যে জানাবেন।