ওজু থাকে তো?
4 Answers
পান, বিড়ি সিগারেট তামাক জাত দ্রব্য। এগুলা খাওয়া হারাম। আর হারাম জিনিস ওযু করে খান বা ওযু করার পরে খান তা হারাম-ই হবে। আর হারাম খেলে ওযু থাকবে না। তবে আমাদের দেশের বিজ্ঞ আলেম শাইখ আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ বলেছেন : পান,বিড়ি সিগারেট খেলে ওযুর কোন ক্ষতি হবে না, ওযু থাকবে কিন্তু ইবাদত কবুল হবে না। কপিরাইট বিষ্ময় আনসার ।
যে বেক্তি নেশাদার দ্রব্য পান করবে আল্লাহ তার ৪০ দিন সালাত কবুল করবেন না ! যদি এই অবস্থায় মারা যায় তাহলে জাহান্নামে যাবে। যদি তউবা করে আল্লাহ তার তউবা কবুল করবেন। আবার নেশাদার দ্রব্য পান করবে আল্লাহ তার ৪০ দিন সালাত কবুল করবেন না ! যদি এই অবস্থায় মারা যায় তাহলে জাহান্নামে যাবে। যদি তউবা করে আল্লাহ তার তউবা কবুল করবেন। আবার নেশাদার দ্রব্য পান করবে আল্লাহ তার ৪০ দিন সালাত কবুল করবেন না ! যদি এই অবস্থায় মারা যায় তাহলে জাহান্নামে যাবে। যদি তউবা করে আল্লাহ তার তউবা কবুল করবেন। চতুর্থবার যদি সে মদ পান করে তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে 'রাগাতুল খাবাল' পান করাবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞাস করলেন, 'রাগাতুল খাবাল' কি ? তখন রাসুল (সঃ) বলেন, আগুনের তাপে জাহান্নামীদের শরীর হতে গলে পরা রক্তপুজ মিস্রিত গরম তরল পদার্থ !'' (তিরমিজি, হাদিস সহিহ। মিশকাত হা/২৭৭৬) কত ভয়ানক এই হাদিস !
তারমানে যে মদ পান করবে বা নেশাদার দ্রব্য পান করবে তার ইবাদাত ৪০ দিন কবুল হবেনা। এবং সে এই অবস্থায় মারা গেলে জাহান্নামে যাবে এটা আল্লাহ্র রাসুল (সঃ) বলেছেন । এবার আমরা দেখি আসলেই কি সিরারেট, বিড়ী, জর্দা, গাঁজা, ইত্যাদি সবগুল মদ ?
***ইবনু ওমর রাঃ বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ ''প্রত্যেক ঐ বস্তু যা বিবেকের ক্ষতি করে তাই হচ্ছে মদ।আর সব ধরনের মদই হারাম।'' (ইবনু মাজাহ হা/৩৩৯০) তাহলে এইটা বুঝলাম যে যে বস্তু খেলে বিবেক এর ক্ষতি করে সেই সব বস্তু মদ হিসেবেই ধরা হয়। তাহলে সিগারেট, গাঁজা, জর্দা কি বিবেক এর ক্ষতি করে ? আপনি যদি একসাথে ২০-৩০ তা অথবা তারও কম বেশী সিগারেট খান তাহলে কেমন লাগে ? আপনি কি এক কৌটা জর্দা এমনিতেই চিবিয়ে খেতে পারেন ? অবশ্যই না। মাথা ঘুরিয়ে পরে যাবেন। আর গাঁজা সম্পর্কে আর অন্য বিষয় সম্পর্কে নাই বললাম। এইটা সবাই জানি যে এগুলা খেলে মাথা ঠিক থাকেনা। এবার দেখি যে একটা সিগারেট খেলে কি হারাম হবে ? কারন একটা সিগারেট খেলে তো বিবেক এর ক্ষতি হয়না বা মাথা ঘুরায়না তাইনা ? এর উত্তর নিচের হাদিসেই আছেঃ
**জাবের ইবনু আবদুল্লাহ রাঃ বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেন, 'যে বস্তু বেশী পরিমান খেলে বিবেকের ক্ষতি হয়,তার কমও হারাম।' (ইবনু মাজাহ হা/৩৩৯৩)
:::এবার পরিষ্কার হয়েছে বিষয়টা ? যেটা বেশী খেলে হারাম হবে সেটা অল্পও হারাম। আর এইটা আমরা সকলেই জানি যে কোন খারাপ বস্তু বেশী খেলেও হারাম আর কম খেলেও হারাম। তারপএর আমরা বিভিন্ন বাহানা দেই হারাম বস্তু হালাল করার জন্য। এই জন্যই আজকের এই পোস্ট। আশা করি এর পরে সিরারেট মুখে দেয়ার আগে এই হাদিসগুলো মনে পরবে। আর এর পরেও যারা আল্লাহ্র আয়াত ও রাসুল (সঃ) কে অমান্য করবে তাঁরা কীভাবে ক্ষমা পাবে সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। আমরা জানি কেউ একজন মুসলিম হতে হলে কালেমা পরে ঈমান আনতে হয়। আর কালেমার মূল শর্ত হচ্ছে 'শুধুমাত্র আল্লাহ্র ইবাদাত এবং আদেশ নিষেধ মেনে চলতে হবে এবং রাসুল (সঃ) এর আনুগত্য করতে হবে।' আল্লাহ বলেছেন, রাসুল তোমাদের যা দেয় তা গ্রহন কর আর যা নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক।এবার আপনি রাসুলের (সঃ) আদেশ মানবেন নাকি আপনার নিজের মনমত চলবেন আপনি জানেন। তবে মৃত্যু একদিন হুট করে চলে আসলে বুঝতে পারবেন আর তখন কোন পথ থাকবেনা। আমার মুসলিম ভাইবোন আগে থেকেই সতর্ক হয়ে যান এবং আজকেই আল্লাহ্র কাছে তউবা করুণ যে আর জিবনেও নেশাদার দ্রব্য পান করবোনা ইনশাআল্লাহ্। আল্লাহ আমাদের সব মুসলিম ভাইবোনকে সঠিক বুঝার তৌফিক দান করুণ আমীন।
প্রশ্নটা হচ্ছে সিগারেট খেলে ওজু নষ্ট হবে কিনা?
না ভাই ওজু ভংগের যে কারণ গুলি রয়েছে তার মধ্যো সিগারেট খাওয়ার কথা উল্লেখ নাই। কাজেই সিগারেট খেলে ওজু ভংগ হয় না আপ্নি নিশ্চিত থাকেন, তবে সিগারেট খেলে যদি মুখে খারাপ গন্ধ থাকে তার জন্য রহমতের ফেরেস্তা আসবে না এছাড়া যদি কোন নামাজী/ মুস্ললি কষ্ট পায় তাহলে গোনাগার হতে হবে। তাই অবশ্যই মেস ওয়াক বা ব্রাস করে নেয়াই উত্তম
ওজু ভঙ্গের কারণ সাতটি। তার মধ্যে সিগারেট বা মদ পান করার কথা উল্লেখ নেই। তবে যেহেতু আপনি পবিত্রতা অর্জনের জন্যে ওজু করেছেন তাহলেতো আপনার সিগারেট খাওয়াটা যুক্তিসংগত নয়। ওজু করা হয় পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ পড়ার জন্য। আর হাদিসে আছে,"তোমাদের কেউ যেন দুর্গন্ধ যুক্ত খাবার খেয়ে কিংবা ধুমপান করে মসজিদের কাছে না যায়।" কারণ এতে অন্যান্য মুসল্লিদের অসুবিধা হয়। তাই আমাদের উচিৎ যা হারাম তা বর্জন করা। তবে ওজু করে সিগারেট খেলে ওজু নষ্ট হবেনা। মাকরূহ হবে।