মদ কি কনো অবস্তা তেই খাওয়া যাবে না?
3 Answers
মদ খাওয়া হারাম ও ক্ষতিকর এই কথাটি শুধু মুসলিম না পৃথিবীর সকল মানুষই জানে তবে অনেকেই মানে না। মদ এমনভাবেই তৈরি হয় যে এটা পান করলে আপনার নেশা হবেই হয়তো কারোটা বোঝা জায় কারোটা জায় না তাই মাতাল না হলে মদ খাওয়া জাবে এই যুক্তি অর্থহীন আর পান করার জন্য সে সকল হালাল পানীয় রয়েছে মদ তাদের মধ্যে পড়ে না তাই যে কোন অবস্থায়ই মদ পান হারাম। যে কোন নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহন করার পর 40দিন শরীর নাপাক থাকে আর সেই সময় ইবাদত করতে পারবেন কিন্তু তা কবুল হবে না তবে যদি ভূল বুঝে নিয়ম মেনে তওবা করেন তাহলে হয়েতো আল্লাহ মাপ করতে পারেন। সিগারেট ক্ষতিকর কিন্তু ধুম পান করলে সরাসরি নেশা হয় না বা কেউ নিয়ন্ত্রন হারায় না তাই ধুমপান মাকরুহ হিসাবেই বেশিরভাগ আলেম মত দিয়েছেন। # তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছেঃ মদও জুয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কি? বলে দাওঃ ঐ দু’টির মধ্যে বিরাট ক্ষতিকর বিষয় রয়েছে যদিও লোকদের জন্য তাতে কিছুটা উপকারিতাও আছে, কিন্তু তাদের উপকারিতার চেয়ে গোনাহ অনেক বেশী। (আল-বাকারা, আয়াত ২১৯) # হে ঈমানদারগণ !তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের কাছে যেয়ো না৷ নামায সেই সময় পড়া উচিত যখন তোমরা যা বলছো তা জানতে পারো৷ (আন-নিসা, আয়াত ৪৩) # হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকালাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। (আল-মায়িদাহ, আয়াত ৯০) # শয়তান তো চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে এবং আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তোমাদের বিরত রাখতে৷ তাহলে তোমরা কি এসব থেকে বিরত থাকবে? (আল-মায়িদাহ, আয়াত ৯১) # রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন: যে ব্যক্তি মদ পান করে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হয় না; আর যদি সে এ অবস্থায় মারা যায় তবে সে জাহান্নামী হবে। তবে যদি সে আল্লাহর নিকট তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। অত:পর সে যদি পুনরায় শরাব পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না। আর এ অবস্থায় মারা যায় তবে সে জাহান্নামী হবে। তবে পুনরায় যদি সে আল্লাহর নিকট তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। এরপরও যদি সে পুনরায় শরাব পান করে নেশাগ্রস্ত হয় তাহলে চল্লিশ দিন পর্যন্ত তার নামায কবুল হবে না। আর যদি সে এ অবস্থায় মারা যায় তবে সে জাহান্নামী হবে। কিন্তু যদি সে আল্লাহর নিকট তওবা করে তবে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন। এরপরও যদি সে এর পুনারাবৃত্তি করে তা হলে আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন তীনাতুল খাবাল পান করাবেন। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তীনাতুল খাবাল কি? তিনি বললেন: উহা হল জাহান্নামীদের শরীর থেকে নির্গত পুঁজ। (ইবনু মাজাহ)
মদ, সিকারেটট খাওয়া হারম। এটা কুররআনেও আছে যে,১, সকল কুখাদ্য জাহান্নামীদের খাবার।এটায় ক্ষতি।। ২,যে খাবার মানুষকে কস্ট দেয় সেটা হারাম। ৩,যে খাদ্যে উপকার নেই সেটা হারাম। ইসলামই হল মুল ধর্ম।। এখানে সকল প্রোবলেমের সলব আছে।। মদ খাইতে বারন করা হয়েছে ১৪০০ বছর পুর্বে।। বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞান এটাকে গবেষনা করে দেখতে মদ খেলে মানুষের ক্ষতি।।মদের কথা ডাইরেক্ট প্রতক্ষ্য ভাবে হাদিসে আছে, কুরআনে আছে।। এটায় নেশা হোক আর না হোক হারাাামমম। নেশা অবস্থায় ইবাদতের ধারে কাছেও যাওয়া যাবে না।। তবে পবিত্রতা অর্জন করে যাওয়া যাবে।। তবে ৪০ দিনে ইবাদত কবুল হবে বা হবে না সেটা আল্লাহর ব্যাপার।তবে ইবাদত ছারা যাবে না।
আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর: মদ খাওয়া হারাম। এটা সবাই জানে। এখন কথা হলো, মদ অল্প খেলে কি কোন গুনাহ হবে বা অল্প খাওয়া যাবে? উত্তর: না মদ অল্প পরিমাণও খাওয়া যাবে না। কেননা হাদিসে এসেছে: «ﻛﻞ ﻣﺴﻜﺮ ﺣﺮﺍﻡ ﻭﻣﺎ ﺃﺳﻜﺮ ﻛﺜﻴﺮﻩ ﻓﻘﻠﻴﻠﻪ ﺣﺮﺍﻡ » . “প্রত্যেক নেশাগ্রস্তকারী বস্তুই হারাম; আর যে বস্তু মাতাল করে তোলে, বেশি হোক বা কম হোক তা হারাম তথা নিষিদ্ধ বলে গণ্য হবে। ( এই শব্দেই হাদিসখানা বর্ণনা করেন ইমাম ইবনু মাজাহ, পানীয় অধ্যায় ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺷﺮﺑﺔ ), পরিচ্ছেদ: যে বস্তু মাতাল করে তোলে, তা বেশি হউক বা কম হউক হারাম( ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺃﺳﻜﺮ ﻛﺜﻴﺮﻩ ﻓﻘﻠﻴﻠﻪ ﺣﺮﺍﻡ ), (২ / ১১২৪), হাদিস নং- ৩৩৯২; আর হাদিসের প্রথম অংশ: «ﻛﻞ ﻣﺴﻜﺮ ﺣﺮﺍﻡ » সম্মিলিতভাবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম র. আবূ মূসা রা. থেকে বর্ণনা করেন; বুখারী, কিতাবুল মাগাযী ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻤﻐﺎﺯﻱ ), পরিচ্ছেদ: বিদায় হজের পূর্বে আবূ মূসা ও মু‘আয রা. কে ইয়ামনে প্রেরণ ( ﺑﺎﺏ ﺑﻌﺚ ﺃﺑﻲ ﻣﻮﺳﻰ ﻭ ﻣﻌﺎﺫ ﺇﻟﻰ ﺍﻟﻴﻤﻦ ﻗﺒﻞ ﺣﺠﺔ ﺍﻟﻮﺩﺍﻉ ), ৫/ ১০৮; মুসলিম, পানীয় অধ্যায় ( ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺷﺮﺑﺔ ), পরিচ্ছেদ: ‘প্রত্যেক নেশাগ্রস্তকারী বস্তুই মদ, আর প্রত্যেক মদই হারাম’ এর বিবরণ ( ﺑﺎﺏ ﺑﻴﺎﻥ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﺴﻜﺮ ﺧﻤﺮ ﻭ ﺃﻥ ﻛﻞ ﺧﻤﺮ ﺣﺮﺍﻡ ), ৩/ ১৫৮৫, হাদিস নং- ২০০১) সুতরাং মদ এক ফোটা পরিমাণও খাওয়া যাবে না। ২য় অংশের উত্তর: যে মদ খায় তার শাস্তির ব্যাপারে অনেক সহীহ হাদীস আছে, যা উল্লেখ করে, তার সলাত কবুল হবে না ৪০ দিন। এটি বর্ণনা হয়েছে আমর ইবন আল-আ’স, ইবন আব্বাস, ইবন উমার এবং ইবন আমর থেকে। দেখুন আল-সিলসীলা আল-সাহীহা: ৭০৯, ২০৩৯, ২৬৯৫, ১৮৫৪। এমন একটি হাদীস ইবন মাজাহ্তে বর্ণিত আছে, বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ্ ইবন আমর, যিনি বলেছেন: রাসূল (সা:) বলেছেন: যে মদ পান করে এবং মাতাল হয়, তার সলাত ৪০ দিন কবুল হবে না এবং সে যদি মৃত্যু বরন করে তবে সে জাহান্নামে যাবে। কিন্তু সে যদি তৌবা করে, আল্লাহ্ তার তৌবা কবুল করবেন। সে যদি পুনরায় মদ পান করে এবং মাতাল হয়, তার সলাত ৪০ দিন কবুল হবে না এবং সে যদি মৃত্যু বরন করে তবে সে জাহান্নামে যাবে। কিন্তু সে যদি তৌবা করে, আল্লাহ্ তার তৌবা কবুল করবেন। সে যদি পুনরায় মদ পান করে এবং মাতাল হয়, তার সলাত ৪০ দিন কবুল হবে না এবং সে যদি মৃত্যু বরন করে তবে সে জাহান্নামে যাবে। কিন্তু সে যদি তৌবা করে, আল্লাহ্ তার তৌবা কবুল করবেন। যদি সে পুনরায় এই পাপ কাজ করে, তবে আল্লাহ্ প্রতিজ্ঞা করেছেন তাকে (ব্যক্তিকে) কিয়ামতের দিন খাবালের মুদ পান করাবেন। তারা (সাহাবীরা) জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহ্র রাসূল (সা:) খাবালের মুদ কি? তিনি বললেন, জাহান্নামের মানুষদের পানীয়। সহীহ্ ইবন মাজাতে, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। সলাত কবুল হবে না অর্থ এই নয় যে তার সলাত সহীহ হচ্ছে না অথবা তার সলাত ছেড়ে দেওয়া উচিত, বরং এর অর্থ হচ্ছে যে সে তার জন্য সোয়াব পাবে না। তাই সলাত পড়ার সুবিধা হচ্ছে যে, সে তার কর্তব্য পালন করেছে এবং তাকে তার জন্য শাস্তি দেওয়া হবে না। আবু আব্দুল্লাহ্ ইবন মান্দাহ্ বলেছেন: শব্দগুলি “তার সলাত কবুল হবে না” অর্থ হচ্ছে যে, সে ৪০ দিন সলাতের জন্য সোয়াব পাবে না, মদ পান করার শাস্তি স্বরূপ, যেভাবে বলা হয়, যে কথা বলে যখন শুক্রবারে ইমাম খুৎবা দেয়, সে জুময়ার সলাত পড়বে কিন্তু তার জন্য জুময়া নেই, অর্থ হচ্ছে যে তার পাপের শাস্তি স্বরূপ জুময়ার সলাতের সোয়াব পাবে না। তা’জিম কাদ্র আল-সালাহ্, ২/৫৮৭, ৫৮৮। আল-নায়াঈ বলেছেন: তার সলাত কবুল না হওয়ার ব্যাপারে, যা বুঝানো হচ্ছে যে, সে তার জন্য সোয়াব পাবে না, যদিও তা সহীহ এই ধারনায় যে, সে তার কাজ করেছে এবং তা পুনরায় করার প্রয়োজন নেই…বক্তব্য সমাপ্ত। এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যিনি মদ পান করেছেন তাকে সলাত আদায় করতে হবে। যদি সে তার কোন সলাত পড়তে বিলম্ব করে, তিনি খুব বড় ধরনের পাপ করবেন যা মদ খাওয়ার পাপ থেকেও মারাত্মক। মদ খাওয়ার শাস্তিটি হবে যিনি তৌবা করবে না। কিন্তু যদি তিনি তৌবা করে এবং আল্লাহ্র কাছে ফিরে আসে, তিনি তার তৌবা কবুল করবেন এবং তার ভাল আমল কবুল করবেন, যে ভাবে উপরের হাদীসে উল্লেখ আছে: “কিন্তু যদি সে তৌবা করে, আল্লাহ্ তার তৌবা কবুল করবেন” এবং রাসূল (সা:) বলেছেন: যিনি পাপ থেকে তৌবা করল সে যে পাপই করল না…[ইবনে মাজাহ্, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন] এবং আল্লাহ্ সর্বাপেক্ষা ভাল জানেন। ৩য় অংশ: সিগারেট খাওয়ায় হারামের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকুন এবং আল্লাহর নিকট তওবা করুন।