1 Answers
বিশ্বব্যাপী শিল্প বিপ্লবের পর থেকে পরিবেশ দূষন শুরু হয়। বর্তমানে পরিবেশ দূষনে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হতে চলেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে জীববৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। কিন্তু আজ বিশ্ব জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখিন। বিশ্বের মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মিলিয়ন হেক্টর। মোট ভূমির ৭৮ ভাগ চাষাবাদের অনুপযোগী, ২২ ভাগ ভূমি চাষাবাদ যোগ্য। ২০০ বছর আগেও বিশ্বের ৪৭ ভাগ এলাকা বন ভূমিতে পরিবেষ্টিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে ২৯ ভাগ এলাকা বনভূমি রয়েছে। পরিবেশের ভারাসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। অথচ বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমান রয়েছে ১৭.৪ ভাগ। দেশের মোট আয়তন ১লাখ ৪৮ হাজারা ৩৯৩ বর্গ কিঃ মিঃ। এর মধ্যে বনাঞ্চল ২৩ হাজার ৯’শ ৯৮ বর্গ কিঃ মিঃ। জনসংখ্যা চাহিদার তুলনায় বনভূমির পরিমাণ খুবই কম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ছড়ানো-ছিটানো যে অল্প বনভূমি রয়েছে তাও মানুষ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে। দেশের মানুষের কাঠ ও জ্বালানি কাঠের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে গিয়ে বনভূমি দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে। শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা পৃথিবী থেকে দ্রুত বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে পৃথিবী থেকে ১৯০ একর বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ন ও শিল্পায়নের প্রয়োজনে পরিবেশ তথা বন ধ্বংস হবার মূল কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। পৃথিবীর প্রায় ১০০টির বেশী দেশ মরুময়তার শিকার। ড্রাইলান্ডের ৭০ ভাগ ভূমি আজ বনহারিয়ে যাওয়ায় মরুময়তায় চলে যাচ্ছে। এর আয়তন প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন হেক্টর। এশিয়ার প্রায় মিলিয়ন হেক্টর জমি মরু বিস্তারের সম্মুখিন। অষ্ট্রেলিয়া সহ অন্যান্য দেশে প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ কিঃ মিঃ মরুভূমির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবছর এ মরুভূমির ৩-৪ কিঃ মিঃ করে বাড়ছে। ভারতের থর মরুভূমি প্রতি বছর প্রায় ১ কিঃ মিঃ বাড়ছে। মানুষের বিভিন্ন কর্মকান্ডের ফলে পৃথিবীর ১০ ভাগ বনও তৃণভূমি মরুময়তার শিকার হচ্ছে, আর ২৫ ভাগ হুমকির সম্মুখীন। প্রতি মিনিটে মরুভূমি গ্রাস করছে ৪৪ হেক্টর উর্বর জমি এবং ২০ হেক্টর বনভূমি বিরান হচ্ছে। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলে ব্যাপক হারে বন উজাড়ের ফলে মরুময়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের ধারনা আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ১.৫ হতে ৪.৫ সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। ফলে মেরু অঞ্চলের জমাট বাধা বরফ পুঞ্জ গলতে শুরু করবে এবং সমুদ্রের পানি উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্র উপকুলীয় নিচু অঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে। সমুদ্রের পানির উচ্চতা যদি ১ থেকে দেড় মিটার বৃদ্ধি যায় তবে বাংলাদেশের উপকুলীয় অঞ্চল সহ এক তৃতীয়াংশ এলাকা বঙ্গপোসাগরের পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। অপর দিকে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মরু অঞ্চল বৃদ্ধি পাবে। উর্বর জমির পরিমান কমে যাবে এবং দেখা দিবে খাদ্যাভাব।তাই আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy