বৈশাখী কবিতা চাই?
7 Answers
বৈশাখী রোদে আবার বেজেছে রঙিন কাঁচের চূড়ি দখিনা বাতাসে আজ ওড়াবো আমার মন ঘুড়ি ৷ বাসন্তী রঙ শাড়ির ভীরে আজ আবার হারাবো কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে মন আবার পোড়াব ৷ আজ নাচবো আজ গাইবো আজ মাতবো প্রাণ খুলে আজ নাচাবো আজ গাওয়াবো আজ মাতাবো সব ভুলে ৷ আজ অনেক দিনের পরে হবে আবার সমর্পন মন ঘুড়িটায় থাকবে ভরে লাজুক শিহরণ ৷ আজ মন বাঁশরীর সুরে সুরে ভুবন মাতাবো যাদুর কাঁঠির ছোঁয়ায় আজ তোমায় জাগাবো ৷ তুমি হাসবে তুমি ফাঁসবে তুমি আমায় জড়াবে তুমি দুষ্টু চোখের চাহনীতে আমায় ভরাবে ৷ আজ বৈশাখের রঙের মেলায় আমার নিমন্ত্রণ আজ ধন্য বড় ধন্য আমার ক্ষুদ্র তুচ্ছ জীবন ৷
শুভ নববর্ষ সকল দুয়ার রুদ্ধ, রুদ্ধ মনের জানালাও। অমাবস্যার ঘণ কুয়াশায়, সব আলোগুলি ক্ষীণ। স্মৃতি রোমন্থনে বিস্মৃত সেই সব হাসি উল্লাসী দিন। এক ফালি চাঁদের আলো, তবু যেন উঁকি ঝুঁকি দিয়ে গেল। দোলা দিয়ে গেল মনে, নব বৈশাখের আনন্দময় ক্ষণে। সেই মুহূর্তে দেখতে পেলাম বন্ধ তালার চাবি, দেখতে পেলাম নতুন আকাশ, নতুন পৃথিবী। নতুন বছর ডাকছে আমায় জড়িয়ে ধরবে বলে, " বন্ধ দুয়ার খুলবে সকল আমার আলিঙ্গনে
আরো একটি বৈশাখ এলো আমের মুকুল কাঠালের গন্ধ মৌ মৌ হলো। সাঁঝ না হতেই আঁধার করে প্রচণ্ড ঝড়ের তাণ্ডব নিয়ে এলো কালবোশেখী । উড়িয়ে দিল জরাজীর্ণ পুরোনোকে নতুনের আগমন করল ঘোষণা। পাগলা ঝোড়ো হাওয়া মত্ত হলো তরুশাখা ভেঙ্গে দূরে ছুড়ে ফেলে । আর কৃষকের টিনের চাল দুমড়ে মুচড়ে দূরে নিক্ষেপ করে । গাঁয়ের বঁধু ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ছোট্য শিশুকে কাঁথায় পেঁচিয়ে বুকে জড়িয়ে বিধাতাকে ডাকে । মুহুমুহু বজ্রধনি বিজলী চমক নতুন বছর ঘোষনা করে সরবে গৌরবে । নিত্য দেখা এ দৃশ্য এ বৈশাখে এখন আমাদের সামনে নেই। এখানে এই ক্যানবেরাতে শীত পড়ে এসেছে । বৈশাখের আগমন হয়েছে ভিন্নভাবে । আমরা জড়োসড়ো হয়ে প্রজ্জলিত গনগনে হিটারের সামনে বসে থাকি বা জানালার পাশে শীতের সকালে রোদ পোহাই । এখন আমার কবি চিত্ত কিছুটা বিক্ষিপ্ত । কিভাবে বলব তাই ভাবি । রুদ্র তপ্ত তাণ্ডবী বৈশাখ কালবোশেখী ধারী নাকি শীতের হিমেল পরশে নতনম্র হে ডাউন আন্ডারের বৈশাখ ? কে বলে দেবে আমায় ? নাচে ঐ কালবোশেখী কাটাবো কাল বসে কি ? এসো দুর্নীতির ভেঙ্গে মুক্ত করি সরল নিরীহ মানুষ । হাসি ফুটবে দুঃখিনী বাংলা মায়ের মুখে ।
আজ শুভ হোক দিবসের সূচনা প্রহর জীর্ণতা মুছে দিয়ে জীবনের শুদ্ধতায় ভরে উঠুক নতুন বছর। আজ শুভ প্রভাতে একটি বছর বেড়ে গেল আমাদের বয়স এই পৃথিবীর বয়সের সাথে। এই আলোবাতাস মুখরিত কলতান বয়ে আনুক প্রাত্যহিক সুখের খবর প্রাপ্তির পূর্ণতায় ভরে উঠুক নতুন বছর।
দাঁড়িয়ে থাকে না -------------- বয়ে চলে অবিরাম নতুন বছর ------- নিয়ে আসে তাই -------------- নতুন চিঠির খাম। গেলো বছরেও ------- এসেছিল ঠিক -------------- এমন একটি চিঠি লেখা ছিল তাতে ------- কত হাসি-গান -------------- তারাদের মিটিমিটি। মুক্তা হরফে ------- বোনা ছিল আরো -------------- স্বপ্ন ও কল্পনা সোনা অক্ষরে ------- ছিল থরে থরে -------------- আশা ও সম্ভাবনা। কিন্তু সে চিঠি ------- পড়া না হতেই -------------- বছর হয়েছে শেষ শেষ তো হয়নি ------- দুঃখ-বেদনা -------------- হিংসা ও বিদ্বেষ। দ্রব্যমূল্যে ------- আকাশ ছুঁয়েছে -------------- বঞ্চনা-লাঞ্ছনা শত চেষ্টায় ------- ক্ষুধা-তেষ্টায় -------------- জোটেনি যে ক্ষুদ-কণা। আবার এসেছে ------- নতুন বছর -------------- ঘুচবে কি ব্যর্থতা? জানি না এবার ------- নতুন চিঠিতে -------------- কী আছে নতুন কথা! নতুন বছর ------- বুকে নিয়ে আছি -------------- অনেক স্বপ্ন-আশা হোক অন্তত ------- এবার সত্য -------------- তোমার চিঠির ভাষা।
এলো পহেলা বৈশাখ (গীতিকবিতা)
- আবু জাফর
বাঙালির বর্ষবরণ নানা আয়োজন, বাজলো ঢোল আর ঢাক,
প্রকৃতির খেলায় নাগর দোলায়, ঘুরে এলো পহেলা বৈশাখ।
আজ বর্ষবরণের প্রথম দিনে, বাঙ্গালীর নববর্ষ উৎসবের ক্ষণে;
করিবে নৃত্য, কবিতা আবৃতি, ভুলে জ্বরা-ক্লান্তি বাঙালি সংস্কৃতি;
বাঙালির কৃষ্টি করতে চাই সৃষ্টি, শ্রদ্ধার সাথে হৃদয়ে গাঁথা থাক।
ঐ
দারিদ্র্যের নিস্পেষণে জর্জরিত, আনন্দ থেকে কেউ নয় বঞ্চিত।
লালপেড়ে শাড়ি, কানে দুল, কিশোরীর খোপায় পরে গাঁদা ফুল।
আনন্দ উল্লাসে বৈশাখী মেলায় এসে, সব দুঃখ ধুয়ে মুছে যাক।
★বৈশাখ:
চারিদিকে অত্যধিক দাবদাহ
খরতাপময় রুদ্রতাভাব
জীর্ণ-শীর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ
বিরুদ্ধ হাওয়ার প্রলয় নৃত্য
ধূলি-ধূসর বিরূপতা
ধু-ধু মাঠ
ঝরা পাতার উড়াউড়ি
গাছে গাছে নবীন পাতার সরসতা
লবণ-মরিচের সাথে
কাঁচা আমের স্বাদ নিয়ে
কালবৈশাখী ঝড়ের পেখম মেলে
বৈশাখ আসে
বাঙালির আবহমান জীবনের প্রান্তে
নতুন ছন্দে
নতুন গানে
মন-প্রাণ-আত্মার
অভিন্ন অভিসারিকা হয়ে।