2 Answers
ছেলে না মেয়ে সহজে বঝার উপায়ঃ পেটের অবস্থানঃ গর্ভাবস্থায় পেট বেশি ভারী মনে হলে, মেয়ে শিশু হবে। আর যদি ভার কম অনুভূত হয় তাহলে ছেলে হবে। শিশুটি যদি পেটের ডানদিকে আছে বলে মনে হয়, তাহলে মেয়ে হবে। আর যদি সমস্ত পেট জুড়ে বা বামদিকে অনুভূত হয় তাহলে ছেলে হবে।
গর্ভে ছেলে নাকি মেয়ে — এটি জানার জন্য কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি বা কুসংস্কার-ভিত্তিক পরীক্ষা প্রচলিত আছে, যেমন সোডা ও প্রস্রাব টেস্ট, তবে এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
🧪 ঘরোয়া টেস্ট (Soda & Urine Test) – যেভাবে করা হয়:
এই পরীক্ষাটি অনেকেই বেকিং সোডা (Baking Soda) দিয়ে করেন, যার সাথে প্রস্রাব মিশিয়ে বুদবুদ বা ফেনা ওঠে কিনা তা দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
📝 যেভাবে ঘরোয়া টেস্টটি করা হয়:
একটি পরিষ্কার কাপে ২ টেবিল চামচ বেকিং সোডা নিন।
একই পরিমাণে সকালবেলার প্রথম প্রস্রাব অন্য একটি কাপে সংগ্রহ করুন।
ধীরে ধীরে বেকিং সোডার ওপর প্রস্রাব ঢালুন।
ফলাফল দেখুন:
যদি ফেনা ওঠে বা গ্যাসের মতো বুদবুদ হয় 👉 অনেকে বলেন ছেলে হবে।
যদি খুব একটা প্রতিক্রিয়া না হয় 👉 অনেকে বলেন মেয়ে হবে।
⚠️ বৈজ্ঞানিকভাবে এই টেস্টের ভিত্তি নেই
এই পরীক্ষাটি কোনো ডাক্তার বা মেডিকেল সায়েন্স দ্বারা স্বীকৃত নয়। প্রস্রাবে থাকা অ্যাসিড বা পিএইচ (pH) এর পরিবর্তন অনেক কারণে হতে পারে — যেমন:
খাবার
হাইড্রেশন লেভেল
সংক্রমণ
এগুলো শিশুর লিঙ্গের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।
✅ লিঙ্গ নির্ধারণের বৈজ্ঞানিক উপায়:
আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasound):
গর্ভধারণের ১৮–২০ সপ্তাহে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব।
NIPT Test (Non-invasive prenatal testing)
এটি একটি রক্তের টেস্ট, যা মায়ের রক্তে শিশুর DNA দেখে লিঙ্গ নির্ধারণ করতে পারে।
❗বাংলাদেশে আইনগত বিষয়:
বাংলাদেশে জন্মের পূর্বে শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, তাই কোনো আল্ট্রাসনো ক্লিনিক শিশুর লিঙ্গ বলবে না।
🔚 উপসংহার:
সোডা ও প্রস্রাব টেস্ট একটি লোককথা বা মজার কুসংস্কার মাত্র। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। সন্তানের লিঙ্গ জানার উত্তেজনা থাকলেও, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—শিশু ও মায়ের সুস্থতা ও নিরাপত্তা।