1 Answers

১৯৭৪ সালে মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী উইলিয়াম হার্টম্যান এ রকম একটি উপায়ের প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, হয়তো পৃথিবীর আদি ইতিহাসে বিশাল কোন একটা বস্তু তির্যকভাবে বাইরে থেকে এসে ধাক্কা মেরেছিল পৃথিবীকে। প্রচন্ড ধাক্কার ফলেই সৃষ্টি হয়েছে চাঁদের। প্রস্তাবটি মোটামুটি উপেক্ষিত হয়েছিল তখন কিন্তু ১৯৮৪ সালে কম্পিউটারের নকশা প্রস্তাবটিকে সমর্থন করে। ক্রমেই মনে হতে থাকে, প্রস্তাবটি মন্দ নয়! এখন এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ প্রস্তাব অনুযায়ী বাইরে থেকে আসা বস্তুটি আয়তনে মঙ্গলগ্রহের সমান অথবা তার চেয়ে কিছু বড়। ওজনে পৃথিবীর সাত ভাগের এক ভাগ। পৃথিবী তার বর্তমান আকারে আসার সামান্য পরে এবং প্রাণের আবির্ভাবের আগে এ সংঘর্ষ ঘটে। আর পৃথিবীতে সে সময় জীবনের অস্তিত্ব যদি থাকত, তাহলে এই ধাক্কার কারণে তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। এ ঘটনাটি ঘটেছে আজ থেকে ৪০০ কোটি বছর আগে। বাইরে থেকে আসা বস্তুটির ধাক্কায় পৃথিবী এবং বস্তুটি দুয়েরই উপরিতলের অনেকটা বাষ্পীভূত হয়ে মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। বাইরের বস্তুটির যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, তা শেষ অবধি পৃথিবীর সঙ্গে মিশে এক হয়ে গেল। শূন্যে ছড়িয়ে পড়া বাষ্পীভূত পদার্থগুলো ক্রমশ ঠান্ডা হয়ে আবার কঠিন রূপে পরিণত হলো, সেসব একসঙ্গে জড়ো হয়ে সৃষ্টি হলো চাঁদ। চাঁদের কেন্দ্রে নিকেল ও লোহার অনুপস্থিতিও ব্যাখ্যা করা যাবে সহজে। কেননা এ প্রস্তাব অনুযায়ী চাঁদ সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবী ও বাইরের বস্তুটির বাইরের দিকের উপাদান নিয়ে, তাদের কেন্দ্রে অবস্থিত নিকেল আর লোহার পি- রয়ে গেছে অক্ষত। যেসব পদার্থ সহজে বাষ্পীভূত হয় চাঁদে তারা অনুপস্থিত। এ তথ্যটিকেও ব্যাখ্যা করা যায় নতুন প্রস্তাবটির সাহায্যে। যেসব পদার্থ সহজে বাষ্পীভূত হয় তারা ঠান্ডা হয়ে কঠিন হতে বেশি সময় নেয়, তাই চাঁদ সৃষ্টির সময় সেসব পদার্থ মহাশূন্যের সুদূরে মিলিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক সময় পেয়েছে। অবশেষে বলা যায় যে চাঁদের উৎপত্তি সংক্রান্ত যে রহস্যগুলোর মীমাংসা ওই প্রথম তিনটি তত্ত্ব একেবারেই করতে পারছিল না, এই নতুন সংঘর্ষের প্রস্তাবটি দিয়ে তার সবই ব্যাখ্যা করা যায়। ভবিষ্যতে হয়তো এ প্রস্তাবটিও বাতিল হয়ে যেতে পারে কিন্তু এখন পর্যন্ত এটাই সঠিক বলে মেনে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

3323 views

Related Questions