1 Answers
ইসলাম নারী পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলে না, বলে ন্যায্য অধিকারের কথা। ইট ইজ equity নট equality। “সমান অধিকার” এর অবাস্তব স্লোগান হল কুফফারদের তৈরি। এটি এতোই লো লেভেলের একটি কথা যে একজন কমনসেন্সসম্পন্ন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারবে নারী পুরুষের মাঝে সমতা সম্ভব নয়। সমতা সম্ভব নয় বলেই একজন পুরুষ নারী নয় এবং একজন নারী পুরুষ নয়। একজন নারীর পক্ষে যে কাজ করা সম্ভব একজন পুরুষের পক্ষে তা অসম্ভব, ঠিক তেমনি একজন পুরুষের পক্ষে যা সম্ভব তা একজন নারীর পক্ষে করা অসম্ভব। একজন পুরুষ যদি দাবি করে নারীরা মা হতে পারে গর্বিত, আমিও সমান অধিকারের দাবি আদায়ের জন্য মা হবো তা শুনতে যেমন হাস্যকর ঠিক তেমনি ইসলামের বিধান মতে পুরুষদের দায়িত্ব নিজের পরিবারের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করা, সেখানে একজন নারী পুরুষকে দেয়া দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়া আরও হাস্যকর। সেই সাথে মহান আল্লাহ্র হুকুমের সুস্পষ্টত লঙ্ঘন। ইসলামবিদ্বেষীরা মানুষকে গিলায় ইসলাম পিতার মিরাসের সম্পত্তিতে নারীকে পুরুষের অর্ধেক দিয়ে নারীকে বঞ্চিত করেছে। আর এই নিয়ে ফেমিনিস্টদের সেই কি আহাজারি। অথচ তারা বলে না নারীকে স্বামী এবং ছেলে সন্তানের সম্পত্তিতেও অধিকার দেয়া হয়েছে।যেখানে একজন পুরুষকে শুধুমাত্র নিজের পিতা এবং ছেলে সন্তানের সম্পত্তিতে অধিকার দেয়া হয়েছে। সেই সাথে পুরুষকে তার বৃদ্ধ মাতাপিতার ভরণপোষণের দায়িত্বও দেয়া হয়েছে। কিন্তু নারীকে দেয়া হয়নি। পশ্চিমারা শিখায় নারী যদি ঘরের বাইরে বের না হয়,পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ না করে তবে সে পশ্চাদপদ, সে অন্ধকার যুগের বাসিন্দা, সে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত। ইসলাম বলে একজন নারী মা, স্ত্রী, বোন,কন্যা হয়ে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই সে সম্মানিত, ক্যারিয়ারিস্ট হওয়ার মাঝে নয়। দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ চারজন নারী খাদিজা, আসিয়া, মরিয়ম, ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাগণ আল্লাহ্র দেয়া হুকুম পালনের মাধ্যমেই সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েছেন,ক্যারিয়ারিস্ট হয়ে নয়। মুসলিম নারীরা আজকে অবহেলিত, নিপীড়িত একটি কারণেই আর তা হল পশ্চিমাদের দেখানো পথে সম্মান পাওয়ার চেষ্টা করা। যতদিন না তারা আল্লাহ্ ও রাসূল(স) এর দেখানো পথে ফিরে না আসবেন ততদিন তারা বঞ্চিত হতেই থাকবেন। সম্মান, শ্রদ্ধা তো একমাত্র আল্লাহ্র হুকুম মানার মাঝেই। সেক্যুলাররা বলবে আমরা নারীকে ঘরে আটকে রেখে,বোরকা নিকাব দিয়ে বেঁধে রেখে দেশকে পিছিয়ে যেতে দিবো না, আর আমরা বলি জী আমরা পেছাতে চাই, পেছাতে পেছাতে একদম ১৪০০ বছর পূর্বের সেই সোনালি যুগে ফিরে যেতে চাই যেখানে ছিল না কোন ইভটিজিং, কোন নারী নির্যাতন, ধর্ষণের তো প্রশ্নই উঠে না। একটি মাত্র সম্বল ছিল তাদের আর তা হল মহান আল্লাহ্ ও নবীজি(সঃ) এর হুকুমকে আঁকড়ে ধরা। এখনও যদি তারা সেই সম্বলকে আঁকড়ে ধরেন তাহলে তারা দুনিয়ার পাশাপাশি আখিরাতের জীবনেও ইনশা আল্লাহ্ সফল হবেন। এই পথ ব্যতীত সফলতার অন্য কোন পথ খুঁজতে গেলে কস্মিনকালেও কেউ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।