অন্যদের বিভিন্ন সমস্যার কথা ও আপনাদের উপযুক্ত পরামর্শ শুনে মুগ্ধ হয়। তাই নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ের কিছু সমস্যার সমাধানের জন্য সঠিক পরামর্শ ও উপদেশ পাওয়ার ইচ্ছাতে লিখছি...।। আমি একজন কে প্রচন্ড ভালোবাসি, সে ও আমার মত আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমার সম্পর্ক টা আগে থেকে অনেক সুন্দর ছিলো, এখন ও ভালো কিন্তুু আগের মত নাই। আমার কিছু পাগলামীর জন্য এই অবস্থার হয়তো সৃষ্টি। প্রথম থেকেই বলছি এজন্য যে আমার ভুল গুলা যাতে আমাকে ধরায়ে দিতে পারেন এবং সঠিক পরামর্শের আশা করছি, যেন আমাদের সম্পর্ক টা আগের মত সুন্দর অবস্থায় আনতে পারি, অটুট রাখতে পারি সারা জীবন। আমি ছোটবেলা থেকেই লাজুক টাইপের ছেলে ছিলাম, কখনও অপরিচিত মানুষদেরকে এভয়েড করতাম। আর নিজের দুই একজন কাজিন মেয়ে ছাড়া যে কোন মেয়েদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকতাম অনেকটা লজ্জায় বলা যায়। এই ভাবে কলেজ লাইফের আগ পর্যন্ত কেটে যায় কারণ পড়তাম বয়েজ স্কুলে আর মেয়েদের প্রতি লজ্জাবোধ ও অনীহা তখন ও কাজ করতো। এর মাঝে দুই এক মেয়েকে দূর থেকে আামর ভালো লাগার মত হইলেও তা আর ভালোবাসায় পরিনত হতো না কারণ অনেক কিছুই তাদের মাঝে দেখতাম যা আমার মনে খারপ মনোভাবের সৃষ্টি হত। আর ক্লাস নাইন-টেন এ থাকতে বাসার আশে পাশের কিছু মেয়ে আমার বন্ধুদের মাধ্যমে আমাকে প্রপ্রোজ করে কিন্তুু মেয়ে গুলা ভালো ছিলো না আমি বুঝতাম। তাই ভালোবাসা নামক জিনিস টা আমি কলেজ লাইলে আসার আগ পর্যন্ত অনুভব করি নি। মেয়েদের পটায়ে সর্ম্পক গড়ে তোলা এই গুলা আমার কাছে এখন ও বাজে লাগে। আমার আছে মনে হয় ভালোবাসা সৃষ্টি হবে মানুষের মনের মিল থেকে মনের গভীর থেকে এর জন্য বাড়াবাড়ি বা পটানোর চেষ্টা করার কোন প্রয়োজন নাই। আল্লাহ যার কপালে যাকে রাখছে তার জন্য ভালোবাসা সৃষ্টি হবে। আমি যখন থেকে ভালোবাসা জিনিস টা জানতে পারি তখন থেকে ভাবতাম আমার ভালোবাসার মানুষ হবে একদম আমার মত, আর তার লাইফে আমি হব প্রথম এবং শেষ যেমনটা হবে সে আমার লাইফে। H.S.C সেকেন্ড ইয়ারে প্রাইভেট পড়তে যেয়ে একটা নাস্তিক স্যারের সাথে আমার তর্ক হয়। উনি প্রতিদিন আমাদেরকে উলটা পালটা কথা ও পরামর্শ দিত। কেউ স্যারের কথায় প্রতিবাদ/ বিরোধিতা করতো না। আমার একদিন রাগ হয়ে গেলে স্যারকে কিছু ধর্মীয় কথা বলি। ওই দিন একটা মেয়ে পড়া শেষে আমার সাথে কথা বলে আর আমি বিরক্তি বোধ করলেও আমি বুঝতে দেই না কথা বলি। মেয়েটা বোরখা পরে আসতো তাই আমি তার মুখ কখনো দেখি নাই। আমার কাছ থেকে অন্য স্যার দের সাজেশন নিত আর মাঝে মাঝে কথা বলার মাধ্যমে আমাদের মাঝে অনেক মনের মিল খুজে পেতাম যা আমাকে মুগ্ধ করতো। তারপর মনে মনে দুই জনের মধ্য দুই জনের ভালো বাসার সৃষ্টি হল কিন্তুু কেউ কাউকে কখনও বুঝতে দিতাম না। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও কেউ কাউকে ছাড়া একটুও থাকতে পারতাম না। মনে মনে দুজন দুজনার ভালোবাসা চলতে থাকে এবং কেউ কাউকে কখনও হারাতে চাইতাম না। কিন্তু আমি H.S.C Exam এ খারাপ করি আর ও ভালো করে। আমি খুব হতাশায় ভুগতে থাকি। অনেক কষ্ট পায়, নিজেকে ওর অযোগ্য মনে হতে থাকে। এক সময় আমি অভিমান করে তার থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথা বলি। এজন্য সে দুই দিন ধরে কাঁদতে থাকে। আমি ওর কাঁন্না দেখতে না পেরে বলি আমি কোন দিনই তোমাকে ছেড়ে যাব না। তার কিছু দিন পর ওকে হারানোর ভয়ে আর না থাকতে পেরে প্রোপজ করে বসি ওকে ভালোবাসার কথা যানাই, তখন ও শুধু আমাকে বলল আমাকে কোনদিন ও হারাতে চাই না। আমার জন্য তারপর থেকে এই মেয়েটা যে কত সেক্রিফাইস করছে তা এখন কার সময়ে লাখে দুই একজন মেয়ে ছাড়া কাউকে সেই ভাবে পাওয়া যাবে না। যেমন ও বিশ্ববিবিদ্যালয়ে প্রথম বার চান্স পায় কিন্তুু আমি পাই না। তারপর আমার জন্য ইয়ার গ্যাপ দেই। আমি তখন ওর কথা ভেবে আমাদের ভালোবাসার কথা ভেবে আমার জান প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করি ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার জন্য। তারপর সবার দোয়া ও আল্লাহর রহমতের কারনে আমি সেই খারাপ রেজাল্ট নিয়েও একটা ভালো সাবজেক্টে ওর একই সাথে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাই। তার কয়েক মাস আগে আমি ওকে শুধু শুধু ধারণা বশত ভয় পেয়ে সন্দেহ করি, আর বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকি। তখন ওর কাছে আমি একটা সত্যি কথা জানতে পারি যা আগে বলার ও সাহস পায়নি আমাকে হারানোর ভয়ে কারণ আমি অনেক আগে বার বার বলেছিলাম যে আমার লাইফে তুমি আমার প্রথম বন্ধু এবং প্রথম ভালোবাসা। কিন্তুু সেদিন বলে তার আগে নাকি ওর একটা ফুফাতো ভাইয়ের সাথে রিলেশন ছিলো এবং মোটামুটি বিয়ের কথা হয়েছিল যে কয়েক বছর পরে তাদের বিয়ে হবে। ওর ফুফাত ভাই দূরে থাকতো বছরে এক দুই বার দেখা করতে আসতো। আর সপ্তাহে ফোনে একবার কথা হত...... কিন্তুু ওর ফুফাতো ভাইয়ের আর একটা রিলেশনের কথা পরে ওকে জানায়ে দেই তারপর ওদের সম্পর্ক ওই খানে শেষ হয়েছিলো। ওর নিজের কোন ফোন ছিলো না তখন, আমার সাথে রিলেশন হওয়ার আগেও তার ফোন ছিলো না। তারপর আমি ওর কাছে অনেক বিষয় জানতে চাই .....।। আমার মনের মধ্যে সব সময় অস্থির লাগতে থাকে, না পেরে ওর কাছে জানতে চাই তোমাদের মধ্যে কি কোন খারাপ সম্পর্ক ছিলো কিনা। ও আমার কথা শুনে অবাক হয়, আর বলে না। কিন্তু আমি অনেক কিছু বলতে বাধ্য করলে ও বলে ওর গালে নাকি দুই বার সে চুমো খায়ছিলো। আগে ওর এমন রিলেশনের কথা শুনে এবং আমি ছাড়া অন্য কেউ ওকে টাচ করছে শুনে অনেক কষ্ট পায় আমি, এখনও আমার মাঝে মাঝে এত কষ্ট হয় যে নিজের গালে নিজে থাপ্পড় মারতে ইচ্ছা করে। আর মনে হয় ওর ওই ফুফাতো ভাইকে জুতা দিয়ে মুখে মারতে। জুতা দিয়ে ওর মুখে মারতে পারলে এই কষ্টটা আমার অনেক খানি কমে যেত। সারা জীবন যার পাশে থাকতে পারবি না তাহলে তাকে কেন ভালোবাসতে গেলি। আমার ভালোবাসার মানুষটা সত্যিই অনেক ভালো একটা মেয়ে কিন্তুু একটা ভালো মেয়ের যে গুণ গুলা থাকার দরকার সবই মোটামুটি তার মধ্য আছে। আমি ওকে বিশ্বাস করলেও প্রিয়.ডট কমের মানুষের বিভিন্ন সমস্যার কথা আর শারীরিক সম্পর্কের কথা শুনতে শুনতে মনে হয় আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে এমন কিছু ঘটে নি তো যা আমি কোন ভাবে সহ্য করতে পারবো না। মনে হয় ওর কুত্তার বাচ্চা ফুফাতো ভাইটা ওর আরও ক্ষতি করেনি তো যা আমি এখনও জানি না। আমি আমার প্রেমিকাকে কোন দোষ দিতে পারবো না কারণ সে সুযোগ আমি পাব না। কারণ তার তো কোন দোষ নাই, তার যায়গায় আমি হয়লে বা কি করতাম। এখন কার জেনারেশনে আমার এই গুলা পাগলামী ছাড়া কিছুই না আমি শুধু শুধু অতীত নিয়ে পড়ে আছি কেন তাই হয়তো সবার কাছে মনে হবে। আমি এখনও এই কষ্ট থেকে মুক্ত হতে পারলাম না। কিন্তুু আমি সত্যিই আমার ভালোবাসার মানুষকে অনেক বেশী পাগলের মত ভালোবাসছি তার জন্য আমার সামনে মৃত্যু আসলেও তার কিছু হয়তে দিব না। আমি কি ভাবে এই অশান্তি থেকে মুক্ত হবো, আমি আসলে অনেক Sensitive যার ফলে আমি এত ভালো থেকেও শান্তি পাচ্ছি না। আর এর ফলে অনেক বড় বড় ভুল করে ফেলছি মাঝে মাঝে আমি। :'(
3359 views

2 Answers

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যেমন নিশ্বাসের প্রয়োজন তেমনি ভালবাসা/রিলেশন টিকিয়ে রাখার জন্য বিশ্বাসের প্রয়োজন। যাকে ভালোবাসা যায় সে পাহাড় পরিমান ভুল করলেও তাকে ক্ষমা করা যায়। আপনি আপনার প্রেমিকার অতীতকে ভুলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবুন।

3359 views

যে ভালবাসার মানুষটি আপনার জন্য এতকিছু ত্যাগ করলো,এবং সব গোপন কথা শেয়ার ও করলো তাকে আপনি কি করে ভূল বুঝতে পারছেন ,বা সন্দেহে ভূগছেন ?মেয়েটি যে আপনাকে পিউর লাভ করে এ ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই !আপনার যদি আজ অন্য কারো সাথে বিয়ে হয় এবং সে যদি অন্যের প্রেমিকা হয় তবেতো আপনাকে সেটা মেনে নিতেই হবে !আর এতো আপনার ভালবাসার মানুষ !অতীত থাকতেই পারে |আপনি হয়তো তার জীবনের প্রথম প্রেমিক হতে পারেননি কিন্তু প্রকৃত প্রেমিক তো হয়েছেন | সব দুশ্চিন্তা সড়িয়ে ফেলুন ,ভূল করবেননা, তাকে হারিয়ে যেতে দিয়েন না !

3359 views

Related Questions