জন্ডিস এর লক্ষণ কি , এর প্রতিকার কি?
2915 views

6 Answers

জন্ডিস একটা লক্ষন বা উপসর্গ মাত্র। যেমন জ্বর কোন রোগ নয়। তেমনি জন্ডিস কোন রোগ নয়। লিভার বা যকৃতে পিত্তনালীর পথ যে কোন ভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তা জন্ডিস এর লক্ষন হিসাবে প্রকাশ পায়.. লক্ষন : ১. চামড়া এবং চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায় । ২. প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বর্ণের হয় । ৩. লিভার প্রদাহের কারণে ক্ষুদামন্দা, অরুচি, গা বমি বমি ভাব, বমি এবং জ্বর থাকতে পারে । ৪. দুর্বলতা ও বিরক্তি ভাব দেখা দিতে পারে । ৫. জন্ডিসের কারণের উপর ভিত্তি করে অন্যান্য লক্ষণসমূহ দেখা যায় । রোগ চলাকালীন অবস্থায় তরল, হালকা ও পুষ্টিকর খাদ্য খেতে হবে। ডাবের পানি, ঘোল, ছানার পানি, ফলের রস, খুব উপকারী পথ্য

2915 views

জন্ডিস একটি ইংরেজি শব্দ। আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় একে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। তবে জন্ডিসের যে বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা সেটা হলো, রক্তে বিলিরুবিন নামক একটা রঞ্জক পদার্থ বেড়ে গেলে তাকে আমরা জন্ডিস বলি। অনেকগুলো উপসর্গের মাধ্যমে এটা দেহে প্রকাশ পায়। যেমন : চোখ হলুদ হয়ে যায়, যারা একটু বেশি ফর্সা তাদের গায়ের রং হলুদ হয়ে যেতে পারে, প্রস্রাব হলুদ হয়ে যায়- এগুলোই হলো প্রাথমিক লক্ষণ। 

গায়ের রং হলুদ হওয়া বা প্রস্রাব হলুদ হওয়া এগুলো তো একধরনের লক্ষণ, যা রোগী নিজে বুঝতে পারে। এর পাশাপাশি অন্যান্য উপসর্গও থাকে। যেমন, রোগীর ক্ষুধা কমে যাবে, বমির ভাব হবে অথবা বমি হবে। রোগীর অনেক সময় পাতলা পায়খানা হতে পারে, পেটে ব্যথা হতে পারে। কারো অল্প জ্বর হতে পারে।

জন্ডিস হলেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে এমন নয় বা আমাদের খুব চিন্তিত হতে হবে, সেটি নয়। আমরা যেটা জানি, জন্ডিস অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভাইরাল হেপাটাইটিস এ বা ই ভাইরাস, খাদ্য বা পানিবাহিত, সেটা এমনি এমনি ভালো হয়ে যেতে পারে। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, বিলিরুবিন যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায় এবং পাশাপাশি রোগীর কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়, যেমন, ক্ষুধামান্দ্য বেশি হয়, বমি হয় তাহলে সে শকে চলে যেতে পারে। ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীন হতে পারে। এগুলোর কিছু লক্ষণ দেখলে আমরা তাকে রক্ত পরীক্ষা করতে বলি এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাড়িতে রেখে চিকিৎসা করা হয়। কিছু খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন করা। আর কয়েকটি ওষুধ আমরা দিই। যেমন, বমি হলে এর ওষুধ। মূলত লক্ষণ বুঝেই এর চিকিৎসা আমরা দিই। নির্দিষ্ট চিকিৎসা লাগে অবসট্রাকটিভ জন্ডিস হলে। টিউমার থাকলে তার অস্ত্রোপচার করতে হবে। অথবা থেলাসেমিয়ার জন্য যদি হয় সে ক্ষেত্রে তো অবশ্যই ভিন্নভাবে চিকিৎসা করতে হবে।

তথ্য সূত্র:- এনটিভি নিউজ. 

2915 views

রক্ত পরীক্ষা করলে বুঝতে পারবেন। তবে এছাড়াও জন্ডিসের প্রাধান লক্ষনগুলো আপনার দেহে আছে কিনা দেখুনঃ ১. চোখ, হাতের তালু হলদেটে হয়ে যাওয়া। ২. হলুদ বর্নের মূত্রত্যাগ (যথেষ্ট পানি পান করা সত্তেও) ৩. দুর্বল বোধ করা। ৪. জ্বর জ্বর ভাব থাকা। ৫. অরুচি, মাথাধরা ইত্যাদি। আর সব চেয়ে বেশি বেশি পানি খাবেন এবং পেপে খাবেন|

2915 views

জন্ডিস হলে করনীয় পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। লিভার বা যকৃতের বিশ্রামের জন্য শরবত, প্রচুর আখের রস খাওয়াতে হবে। রুচি থাকিলে ভাত, চর্বি বিহীন মাছ, তরকারী, পাউরুটি, সর ছাড়া দুধ ইত্যাদি দেয়া যাইবে। অরুচি বা জ্বর না থাকলে ভিটামিন- বি ও ভিটামিন- সি খাওয়া যাইবে, অন্য কোন ঔষধের প্রয়োজন নেই। জন্ডিসের সাথে জ্বর থাকলে, বুমি বুমি ভাব বা বুমি থাকলে, চিকিৎসকের নিকট যেতে হবে। তবে জন্ডিসের নিশ্চিত আরোগ্যদানকারী চিকিত্সা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে। তাই জন্ডিস ধরা পরার সাথে সাথেই অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে যথাযথ ট্রিটমেন্ট নিন।

2915 views

♥»—ডা. হাসান এর তথ্য »“পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, জীবাণুমুক্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ করাই জন্ডিসের আক্রমণ থেকে বাঁচার মূলমন্ত্র। রাস্তাঘাটে পানি, ফলের জুস, সরবত ইত্যাদি খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। সময়মত হেপাটাইটিস এ এবং বি’র টিকা নিতে হবে।”পরামর্শ দিলেন এই চিকিৎসক। তিনি আরও জানান, হেপাটাইটিস বি’র ক্ষেত্রে প্রথম মাসে একটি, দ্বিতীয় মাসে একটি বা ছয়মাসের মধ্যে একটি ডোজ দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস এ’র ক্ষেত্রে একটি ডোজই যথেষ্ট। আর দুই ক্ষেত্রেই পাঁচ বছর পরপর বুস্টার টিকা দেওয়া হয়। প্রতিটি টিকার দাম বেসরকারীভাবে সাধারণত ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা হয়ে থাকে। তবে জন্ডিস হলে টিকা নিয়ে কোনো লাভ হয় না। তাই সুস্থ থাকতে আগেই টিকা নিতে হবে। জন্ডিসের চিকিৎসা সম্পর্কে ডা. হাসান বলেন, “যেহেতু জন্ডিস কোনো রোগ নয়, তাই এর কোনো ওষুধ নেই। সাত থেকে ২৮ দিনের মধ্যে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক হয়ে গেলে জন্ডিস এমনিতেই সেরে যায়।” তিনি আরও বলেন, “জন্ডিস হলে রোগীকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে হবে। যকৃতের প্রতি অতিরিক্ত যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। প্রচুর শর্করাজাতীয় ও ভিটামিন-সিযুক্ত খাবার খেতে হবে।

2915 views



জন্ডিসের তীব্রতা কোন পর্যায়ে আছে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়। খুব বেশি জটিলতা না থাকলে কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই জন্ডিস সেরে যায়। জন্ডিস হলে যা করবেন

১. প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি খান।

২. প্রচুর পরিমাণে ফল এবং শাকসবজি খান বিশেষ করে সবুজ শাকসবজি বেশি খাওয়া উচিত। এর মধ্যে মুলা শাক, পালং শাক এবং পেঁপের পাতা জন্ডিস সারাতে বেশ ভালো কাজ করে।

৩. এই সময় কফি, অ্যালকোহল, সোডা কিংবা অন্যান্য পানীয় খাওয়া ঠিক নয়।

৪. বাড়িতে তৈরি ফলের রস খেতে পারেন। এর মধ্যে আখের রস, টমেটোর রস উল্লেখযোগ্য।

৫. প্রক্রিয়াজাত কিংবা ফাস্ট ফুড খাবেন না।

৬. লাল মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৭. ধূমপান পরিহার করুন।

৮. পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান।

৯. দুধ, পনির বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বাদ দিন।

১০. সামান্য হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে বাইরে হাঁটুন।

রেফারেন্স দিচ্ছি------ ভোরের কাগজ

2915 views

Related Questions

কিং রোট দিয়ে?
1 Answers 2631 Views