3 Answers
'শহীদ মিনারের স্তম্ভগুলো মা ও সন্তানের প্রতীক। অর্ধবৃত্তাকারে মা ও তার শহীদ সন্তানদের নিয়ে দন্ডায়মান। মা অনন্তকাল ধরে সন্তানদের রক্ষা করছেন, যারা তার মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, সে জন্য গৌরাবোন্বিত মা তাদের দোয়া করছেন। সন্তানদের আত্মত্যাগের মহিমায় মা ঝুঁকে পড়েছেন একটু স্নেহে। তার চারটি সন্তানের মধ্য দিয়ে তিনি তার লাখো কোটি সন্তানকে দেখতে পাচ্ছেন।' এটাই হলো শহীদ মিনার ভাস্কর্যের তাৎপর্য।
সবুজ স্তম্ভ ও লাল সূর্য বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা এবং পতাকার মাথা নত আবস্থায় উপরের সবুজ অংশ ভাষাশহীদদের প্রতি সমগ্র দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক। এখানে এ কথাও বলা যেতে পারে-“মা” তার সন্তানদের মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছেন যদি দেশকে “মা” বলি আর সে “মা” যদি সবুজ অংশটুকু হয়। ২। দু’পাশে দু’টি করে মোট ৪টি সাদা স্তম্ভ স্বর্গীয় প্রশান্তি বা শান্তির প্রতীক। বলা বাহুল্য, কারো কারো মতে- শহীদ মিনারের এ সাদা স্তম্ভগুলি শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার সূচনা লগ্নে বাংলা ভাষাভাষি ৪কোটি বাঙ্গালী পরিবারের প্রতীক। কিন্তু এখন আর সে ৪ কোটি পরিবার নেই। তা বেড়ে কবেই ৪ গুণ ছাড়িয়েছে। ৩। হলুদাভ হৃদয়ে ধারণকৃত অ, আ, ক, খ সোনালী বর্ণগুলো স্বর্গীয় প্রশান্তি থেকে ভাষা শহীদদরা অমরত্বের জ্যোতি ছড়াছে। ৪। সবুজাভ হৃদয়ে ‘মা’ শব্দটি মাতৃতূল্য সবুজ বাংলা যা বাংলাদেশকেই হৃদয়ে ধারণ করে আছে। ৫। সূর্যের ৭টি রশ্মি বিশ্বের ৭টি মহাদেশের চিহ্ন স্বরূপ।১৯৯৯ সালের পর থেকে প্রতি বছরই আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে আসছি। একই সাথে সারা বিশ্বও আমাদের সাথে পালন করছে। তাই দেশে-বিদেশে আমাদের শহীদ মিনারটি একটি মডেল হিসাবে গ্রহণযোগ্যতা পাক, সেটাই আমরা সবাই চাই। তাই সূর্যের সাথে ৭টি রশ্মি সংযোজনের মাধ্যমে শহীদ মিনারটি আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন হতে পারে বলে আমার ধারনা। এ ৭ টি রশ্মি দ্বারা শুধু ৭টি মহাদেশকেই বুঝাবে না, ৭টি মহাসাগরকেও বুঝাবে। এছাড়া সূর্যে ৭টি বর্ণের রশ্মি ব্যবহার করলে সূর্যের ৭টি রঙকেও বুঝাবে। তবে রশ্মিগুলো শুধু লালও হতে পারে। রশ্মিগুলোর বর্ণের তারতম্য এর বৈশিষ্টের কোন পরিবর্তন ঘটাবে না। এ থেকে কোমলমতি শিশুরাও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। আর যেহেতু লাল সূর্য রাখতেই হবে; সেহেতু মাঝের স্তম্ভটিকে সবুজ রঙ করে বাংলাদেশের পতাকা বানিয়ে ফেললে ক্ষতি কি? এ ক্ষেত্রে শুধু রঙের দরকার। যেহেতু মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এ শহীদ মিনার। তাই পতাকার নোয়ানো মাথায় শহীদদের নামে সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে লিখে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এছাড়া সামনে হৃদয় বৃত্তে লেখা বর্ণগুলির মাধ্যমে এর শ্রী আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সবুজঅংশের মাথায় কিছু না লিখলে এবং প্রতিটি স্তম্ভের মাঝে অক্ষর যুক্ত হৃদয়বৃত্ত না রাখলেও ক্ষতি নেই। আর এভাবেই সবুজের বুকে লাল সূর্য দেখে বিশ্ববাসী বাংলাদেশকে আরও সহজেই চিনতে পারবে।
বর্তমান শহীদ মিনারটিতে সর্বমোট পাঁচটি স্তম্ভ। মাঝখানের বড় স্তম্ভটি শিল্পী হামিদুর রহমানের মূল নকশার অন্তর্নিহিত ভাব অনুযায়ী বাংলা মায়ের প্রতীকি প্রকাশ। মায়ের দুই পাশে অর্ধবৃত্তাকারে দুটি করে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের আরও চারটি স্তম্ভ তাঁর সন্তান হিসেবেই বিবেচিত। সন্তান পাশে নিয়ে দাঁড়ানো মা খানিকটা ঝুঁকে আছেন ভাষা আন্দোলনে শহীদ সন্তানদের আত্মত্যাগের মহিমার কথা স্মরণ করে। আত্মত্যাগের এই যে মহিমা, তার কথা কি না ছড়িয়ে পারে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে? ভাবতে ভাবতে আমরা এগিয়ে যাই তানফিজের কাছে। বাবা খোরশেদ আলমের সাথে বাসাবো থেকে শহীদ মিনার দেখতে এসেছে তিন বছরের ছোট্ট তানফিজ। আমাদের দেখে সলাজ ভঙ্গীতে মাথা নাড়ায় সে এবং আনন্দে আন্দোলিত করে হাতের মুঠোয় ধরে থাকা বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকাটিকে।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy