1 Answers
১৯৯৫ সালের জাতীয় প্রতিবন্ধী আইনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন (Disability Welfare Act) পাশ করে। এ আইনে জাতীয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম প্রতিবন্ধিতার সর্বজনস্বীকৃত সংজ্ঞা এবং প্রকারসহ তাদের অধিকার, সমসুযোগ এবং সরকারি পর্যায়ের আইনগত সহায়তার কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০০২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এগুলো হলো: দেশের সর্বস্তরে প্রতিবন্ধীদের যোগাযোগ ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রেলওয়ে ষ্টেশন, বাস টার্মিনাল, নদীর ঘাট, লঞ্চ-স্টিমার ঘাট, বিমানবন্দর এবং বিমান অফিসে আলাদা টিকেট কাউন্টার স্থাপন করা; প্রতিবন্ধীদের জন্য বাস, ট্রেন, লঞ্চ এবং স্টিমারে বিশেষ আসন ব্যবস্থা সংরক্ষণ করা; সরকারি চাকুরীতে এতিম এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য ১০% কোটা পূর্ণ করা; প্রতিবন্ধীদের হয়রানি বন্ধ করার লক্ষ্যে সমাজ কল্যাণ বিভাগে একটি অভিযোগ বাক্স খোলা; প্রত্যেক সরকারি অফিসে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ঢালু পথ (র্যাম্প) এর ব্যবস্থা করা; ১ম ও ২য় শ্রেনির সরকারি চাকুরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সকল প্রতিন্ধকতা দূর করা; প্রতিবন্ধীদের জন্য রাষ্ট্রীয় সকল ব্যাংকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প চালু করা; প্ললাস্টিক দ্রব্যাদি ক্রয় করে থাকে এরূপ প্রত্যেক সরকারি সংস্থা কোন টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই সমাজ কল্যাণ বিভাগের অধীনে মৈত্রী শিল্প সংস্থা কর্তৃক উৎপাদিত পণ্য কিনবে তা নিশ্চিত করা; জাতীয় প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের জন্য সরকারি আর্থিক তহবিল ২০% এ উন্নীত করা। জাতীয় প্রতিবন্ধী আইন এবং প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে ৫ বছরের জন্য জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধিতার দ্রুত সনাক্তকরণ এবং প্রতিকার ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ, শিক্ষা এবং এর আনুষাঙ্গিক শিখন উপকরনের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, চাকরি এবং পুনর্বাসন, মানব সম্পদ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, আত্ম-কর্মসংস্থানের উন্নয়ন এবং সর্বোপরি জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়সাধন প্রভৃতি ক্ষেত্রসমূহ অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা প্রতিবন্ধীদের জন্য নিশ্চিত করার লক্ষে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবন্ধীদের সহায়তা করার জন্য একজন ফোকাল ব্যক্তির (Focal Person) নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০০৭ সালে জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী অধিকার সনদ (United Nations Convention on the Rights of Persons with Disabilities)-এ স্বাক্ষর করে। ২০০৯ সালের ২৬ ডিসেম্বর ১৮ তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল বিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধী শিশুদের ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য সকল বিদ্যালয়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এবং যে সকল ব্যক্তিমালিকানাধীন বা যৌথ সংস্থা প্রতিবন্ধীদেরকে চাকরির সুযোগ দিবে, সরকার সে সকল প্রতিষ্ঠানকে কর আরোপ থেকে অব্যাহতি প্রদান করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি চাকরিজীবি প্রতিবন্ধী নারী এবং পুরুষের জন্য আবাসিক হোস্টেল, তথ্য ও সাহায্য কেন্দ্র, ভ্রাম্যমান সেবাকেন্দ্র এবং অটিজম রিসোর্স সেন্টার স্থাপনেরও ঘোষণা প্রদান করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশগম্যতা খুবই কম। আর এই সীমাবদ্ধতার জন্য অসামাঞ্জস্য শিক্ষাব্যবস্থা, কঠোর এবং অনমনীয় শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা পরিবেশ, পিতামাতার অজ্ঞতা এবং সচেতনহীনতা, শিক্ষকদের বৈষয়িক জ্ঞানের অভাবই দায়ী। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৫% প্রতিবন্ধী শিশুরা সাধারণ শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার স্বল্প মাত্রার প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একীভূত শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। প্রকৃতপক্ষে অধিক সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশুদেরকে শিক্ষাব্যবস্থার মূলধারায় আনার ক্ষেত্রে এটা উৎসাহমূলক একটা বাস্তব পদক্ষেপ। একই সময়ে এই কার্যক্রম প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি প্রদানও করে আসছে। এছাড়া, বর্তমান সময়ে সরকারের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একাধিক জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক এনজিও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।