বিয়ের পর কি মেয়েরা আসলেই মোটা হয় । আর যদি হয় তাহলে কেন হয়?
3 Answers
এটা প্রায়শই দেখা যায় যে, মেয়েরা চায় বিয়ের সময়ে তাদের দেখতে ছিপছিপে এবং কমবয়সী লাগুক। এ কারণে তারা বিয়ের কয়েক মাস আগে থেকেই কঠোর ডায়েটে চলে যান। এমনকি দেখা যায়, পরিবারের মানুষ এমনকি তাদের বাগদত্ত পুরুষেরাই তাদেরকে বলেন ওজন কমাতে। তারা বেশিরভাগই মোটামুটি ২০ পাউন্ড (৯ কেজির) মতো ওজন কমানোর পরিকল্পনা করে ডায়েট শুরু করেন। অনেকের ওজন এই ডায়েটের ফলে কমে গেলেও বেশিরভাগেরই ওজনে তেমন কোনো হেরফের হয় না। বিয়ের আগে এভাবে খাওয়া দাওয়া কমিয়ে দেবার ফলে বিয়ের পর যখন তারা আবার অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যভ্যাসে চলে যান, তখন প্রথম ছয় মাসের মাঝেই তাদের ওজন বেড়ে যায় দ্রুত। দেখা যায়, বিয়ের ছয় মাস পর তাদের ওজন বেড়েছে গড়ে ৪.৭ পাউন্ড (২.১ কেজি)। যারা বিয়ের আগে ওজন কমিয়েছিলেন, তাদের ওজন বাড়ার পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় ৭.১ পাউন্ড (৩.২ কেজি)। দেখা যাচ্ছে যে, বিয়ের আগে যারা অন্যদের থেকে ওজন কমানোর জন্য চাপের মুখে ছিলেন, তারাই বিয়ের পরে এভাবে মুটিয়ে যাচ্ছেন। বাগদত্ত বা আত্মীয়েরা যদি কনেকে বলেন তার ওজন কমানো দরকার, তবে তারা বিয়ের আগে ওজন কমালেও বিয়ের পরে প্রায় ৪.৫ কেজি পর্যন্ত ওজন বেড়ে যায় তাদের। আর বিয়ের আগে এমন ওজন কমানোর চাপ যেসব কনের থাকে না, বিয়ের পর তাদের ওজন বাড়ার পরিমাণ প্রায় তিনগুণ কম হয়। বিয়ের আগে ওজন কমানোর একটা তাগিদ থাকলেও বিয়ের পরে মেয়েরা মনে করে, সামনে তো আর কোনো বড় উপলক্ষ নেই আর তাই ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে তাদের তেমন লক্ষ্য থাকে না। তারা খাওয়াদাওয়া এবং ব্যায়ামের ব্যাপারে নিয়মকানুন অনুসরণ বন্ধ করে দেন, যার ফলে ওজন বেড়ে যেতে থাকে। অনেকে আবার মনে করেন, বিয়ের পরে তাদের আকর্ষণীয় ফিগার বজায় রাখার দরকার নেই, এ কারনেও তাদের ওজন এভাবে বাড়তে দেখা যায়। ==>সংগৃহীত।
এটি শুধু আমাদের দেশেই নয়, পুরো পৃথিবী জুড়ে দেখা যায়। বিভিন্ন কারণে মেয়েরা বিয়ের পরে মোটা হয়ে যায়। একটি কারণ হলো বিয়ের আগে মেয়েদের দুশ্চিন্তা কাজ করে বিয়ে ঠিকঠাক হবে কিনা, কেমন হবে নতুন জীবন, সবকিছু ঠিকমতো হবে কিনা এসব নিয়ে। বিয়ের পর আর সেই মানসিক চাপ থাকে না। তাই রিল্যাক্সড হয়ে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে। তাছাড়া হানিমুন, প্রচুর দাওয়াত, বিভিন্ন জায়গায় খেতে যাওয়া এসব চলতেই থাকে। আর অনেকের মধ্যেই এমন একটা ধারণা কাজ করে যে বিয়ে হয়ে গেলে আর আকর্ষণীয় থাকার দরকার নেই। বিয়ের পর ঘুম এবং খাওয়ার সময় উল্টোপাল্টা হয়ে যায় যেটা মেটাবলিজমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মেদ জমতে শুরু করে। মানসিক চাপও মেদ বাড়ায়। বিয়ের পরে নানারকম দায়িত্ব ও মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার থাকে। সেগুলো মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেকে অনেক চাপবোধ করে যা বিয়ের আগে একেবারেই থাকে না। এছাড়া শারীরিক সম্পর্কের কারণে ২টি মেয়েলি হরমোন বাড়ে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেন। এতে মেদ জমা সহজ হয়। অনেক মেয়ের ধারণা সংসারে এত কাজ করার পর আলাদা করে ব্যায়ামের দরকার নেই। কিন্তু এই ভুল ধারণার কারণে মোটা হয়ে যায় তারা। বাসার কাজে খুব বেশি দৌড়াদৌড়ি হয় না, আলাদা করে ব্যায়াম না করলে ফিগার সুন্দর রাখা কঠিন।
এর প্রধান কারণ হল জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল ব্যবহার করা বা অন্য কোন জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলারাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করেন তাই তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি হয়। জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী উপাদানগুলো ডিম্বাশয় থেকে ডিম উৎপাদনে বাধা দেয় ফলে শরীর মোটা হয়ে যায়। ডিম্বাশয় থেকে ডিম উৎপাদন আর মোটা হওয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। কোন মহিলা মোটা হলে বা তার ওজন বাড়লে তার ডিম্বাশয় থেকে ডিম উৎপাদন কমে যাবে, আবার ডিম্বাশয় থেকে ডিম উৎপাদন কমে গেলে মোটা হবে। এছাড়াও আরো কিছু কারণ আছে যেমনঃ দুশ্চিন্তা কমে যাওয়া, কাজ কমে যাওয়া প্রভৃতি। তবে এটাই প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।