4 Answers
স্বপ্ন হচ্ছে মানুষের মনের গভীরের কল্পনা, ইচ্ছা অার অাকাঙ্খার প্রতিফলন মাত্র অার এটাই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, তাই এটা নিয়ে দুঃচিন্তা করার দরকার নেই। সব মানুষই জীবনে কিছু উদ্ভট স্বপ্ন দেখে যেগুলোর বাস্তব জীবনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তাছাড়া আমাদের ধর্মেও স্বপ্ন নিয়ে বারাবারি অনুৎসাহিত করেছে। স্বপ্নের ব্যাপারে যে সকল ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই কুশিক্ষা, কুসংস্কার অার অজ্ঞতা।
অন্ধ, বোবা বা প্রতিবন্ধি মানুষরাও স্বপ্ন দেখে আর পশু-পাখি স্বপ্ন দেখে কি না সেটা এখনও প্রমাণিত হয়নি।
ঘুমিয়ে পড়ার পূর্ব মুহুর্তে যে বিষয়গুলো আমাদের মনের মাঝে আনাগোনা করে সে বিষয়গুলোই সাধরিণতঃ আমাদের স্বপ্নের বিষয়ে পরিণত হয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন ছাত্র তার পাঠক্রম নিয়ে, কোন বন্ধু বা প্রেমিক তাদের বন্ধু বা প্রেমিকাদের নিয়ে অথবা একজন প্রোগ্রামার প্রোগ্রামিং নিয়েও স্বপ্ন দেখতে পারে। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি ঘুমের পূর্ব পর্যন্ত সময়ে যে সমস্ত কার্যাদির সাথে সম্পৃক্ত থাকে সেইসব দৈনন্দিন কর্মকান্ডই স্বপ্নের আকারে তার অবচেতন মনে প্রভাব ফেলে বা স্বপ্নের আকারে প্রদর্শিত হয়, এ কথাগুলো ও গবেষকদেরই। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ৫ থেকে ৭ বছর বয়সের আগেই অন্ধ হন, তারা তাদের স্বপ্নে দৃশ্যমান কোনো কিছুই দেখতে পান না। তাদের শুধু কিছু দেখার মতো অনুভূতি হয়। ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর তারা কী দেখেছেন, তা মনে করতে পারেন না। আর মনে করতে পারলেও তার বর্ণনা দিতে পারেন না। তাদের এই অনুভূতিগুলো সাধারণ মানুষের অনুভূতির চেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। আসলে যারা ৫/৭ বছর বয়সের মধ্যে অন্ধ হন, তারা তাদের চারপাশের জগতের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হতে পারেন না। পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে তাদের চিন্তার জগতটাও সংকুচিত। তাই তাদের স্বপ্নে দেখা জগতটাও সীমিত পরিসরে হয়ে থাকে। তারাও তাদের স্বপ্নের বর্ণনা দিতে পারেন না। তবে ক্ষেত্র বিশেষে এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়। প্রাণীর উপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর ধারনা করা হচ্ছে প্রাণীরাও স্বপ্ন দেখে। এ ধারনার পেছনে রয়েছে একই রকম দেখতে কিছু ব্রেইন ওয়েভ যা মানুষের ঘুমন্ত অবস্থায় স্বপ্ন দেখার সময় তৈরি হয়। তবে আপনি যদি পরীক্ষা করে দেখতে চান তাহলে ব্রেইন ওয়েভ নিয়ে ঘাটাঘাটি করার পরিবর্তে আপনার পোষা প্রাণীটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় খেয়াল করুন, দেখবেন সেটি ঘুমন্ত অবস্থায় থাবা নাড়ায়, মুখে শব্দ করে বা এমন কোন ভঙ্গি করে যা দেখে মনে হতে পারে সে কারও সাথে পাল্লা দিচ্ছে।
যে ব্যাক্তি জন্মান্ধ বা জন্ম থেকেই অন্ধ,কখনো দুনিয়ার কোন বস্তু,রং অবলোকন করেন নাই তিনি সম্ভবত স্বপ্ন দেখেন না ৷ হয়তো তার কল্পনা শক্তি থাকতে পারে ৷ মনে রাখা প্রয়োজন-সপ্ন আর কল্পনা একই জিনিস নয় ৷
আমাদের সারাদিনের কাজকর্ম চিন্তাচেতনা আমাদের মস্তিষ্কের উপর ইফেক্ট করে। রাতে যখন আমারা ঘুমাই তখন মস্তিষ্ক তা প্রসেসিং করে তার ফলে আমরা স্বপ্ন দেখি। এটি মানুষে চিন্তাচেতনা এবং কল্পনার প্রতিফল মাত্র। অন্ধ মানুষেও স্বপ্ন দেখে। তবে তারা কোন কিছু দেখে না তারা কোন কিছু ঘ্রান পায় বা অনুভব করে। স্বপ্ন সত্যি হয় না কি তার কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন অন্য প্রাণীরা স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নের স্থানীয় কাল ৫ সেকেন্ড থেকে ৩০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে সব স্বপ্ন ঘুম ভেঙ্গে যাওয়ার পর মনে থাকে না।