রাসূল (স.)-এর প্রতি মহব্বতের আলামত সম্পর্কে নিজে বুঝবো কি ভাবে?
2 Answers
মহানবী (স.)-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা বা মোহাব্বত আছে কি নেই তার আলামত তথা প্রমাণ নিজে বুঝার উপায় - আপনার সর্বদা দুরুদ শরীফ পাঠ করতে ইচ্ছা করবে, কক্ষনো বিনাকারনে কোনো সুন্নত আমল ত্যাগ করবেননা, কিংবা করে ফেললে মনের মধ্যে খুব অপরাধবোধ সৃষ্টি হবে। কেউ মহানবী (স.)-এর নামে কূটুক্তি করলে কোনোভাবেই প্রতিবাদ না করে নিজেকে শান্ত করতে পারবেননা। সর্বোপরি প্রত্যেক আচার-আচরণে তাঁর আদর্শ প্রতিফলিত হবে।
মহব্বত একটি গোপন জিনিস, যার স্থান হচ্ছে অন্তর। কারো সাথে কারো মহব্বত আছে কি না? বেশী আছে না কম? তা জানার একমাত্র মাপকাঠি হলো, অবস্থা ও পারস্পরিক ব্যবহার দেখে অনুমান করা কিংবা ভালোবাসার চিহ্ন ও লক্ষণাদি দেখে জেনে নেয়া। মহাগ্রন্থ কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সাথে বান্দার ভালোবাসার মাপাকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তা হলো, আল্লাহকে ভালোবাসার দাবী করতে হলে, তাঁর রাসূল সা.- এর অনুসরণ করতে হবে। অতএব রাসূলুল্লাহ সা.- এর মুহব্বতের স্বরূপ ও আলামত হলো নি লিখিত কাজগুলো পাওয়া যাওয়া। যথা : ১. রাসূলে আকরাম সা.- এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা। অর্থাৎ চলাফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া- দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ, ইবাদাত-বন্দেগি, পরিবার পরিচালনা, সমাজ পরিচালনা, রাষ্ট্র পরিচালনা, যে কোনো পেশা পরিচালনাসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে মহানবী সা.- এর সুন্নাতের অনুসরণ, অনুকরণ করা। ২. শরী‘আত সম্মত পন্থায় নবী কারীম সা. কে সম্মান প্রদর্শন করা। ৩. তাঁর সা. উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ করা। ৪. রাসূলে আকদাস সা. যেসব কাজ করতে বলেছেন, সেসব কাজ যথাযথভাবে আঞ্জাম দেয়্ াআর যে সব করতে নিষেধ করেছেন, সেগুলো বর্জন করা। ৫. রাসূলে কারীম সা. এর মহব্বতের নামে শরী‘আত সম্মত নয়, এমন সকল কাজ বর্জন করা। ৬. নবী কারীম সা. এর বিরুদ্ধে কেউ কিছু করলে বা বললে সাথে সাথে সাধ্যমতো তার প্রতিবাদ প্রতিরোধ করা। ৭. বিদ‘আত জাতীয় যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা। ৮. নবী কারীম সা. এর শানে কোনো ধরনের বেয়াদবী না করা। আলোচ্য কাজগুলো কেউ বাস্তবায়ন করলে, বুঝা যাবে সে রাসূলে আকরাম সা. কে মহব্বত করে বা ভালোবাসে।- সূরা আল-ইমরান: ৩১-৩২, সুনানু ইবনে মাজাহ পৃষ্ঠা: ২, সুনানু আবী দাউদ: ২/২৭৯।