স্বামী, স্ত্রীর মাঝে বয়সের ডিফারেন্স কত থাকা সবচেয়ে ভালো...?
2 Answers
স্বামী ও স্ত্রী মাঝে বয়সের ব্যবধান থাকা খুব জরুরী, তা নয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সুখী সংসার স্থাপন করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। চলুন দেখে আসি বয়েসের ব্যবধান কি কি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে? ১. অতিরিক্ত বয়সে বড়: স্বামী যদি স্ত্রী'র চাইতে ১০ বা, অধিক বছরের বড় হয়ে থাকেন, তবে তাদের মাঝে "জেনারেশন গ্যাপ" তৈরী হয়। স্ত্রী কখনো স্বামীকে বন্ধু হিসেবে নিতে পারেন না, যদি না স্বামী অতিরিক্ত বন্ধুবৎসল না হয়ে থাকেন। দুজনের মানসিকতারও প্রায় অমিল দেখা যায়, আবার স্ত্রী সব সময়ই বয়সে ছোট হওয়ার কারণে স্বামীর কাছে নিজেকে অনেক ছোট মনে করেন বলে - নিজের ব্যাক্তিগত মতামতগুলো প্রায়শই চাপা পরে রয় নিজের মাঝে। ২. স্বামী-স্ত্রী যখন সমবয়সী: সমবয়সীদের মাঝে বেশ বড় রকমের ঝামেলা তৈরী হয় বিয়ের পর, যদি না সঠিক সমঝোতা ও সহমর্মীতা তৈরী না হয়ে থাকে। পৈত্রীকেন্দ্রিক বা, পিতৃশাসিত সমাজ বলে, স্বামীরা সর্বদাই একটু উঁচুতে থাকতে পছন্দ করেন। তাদের "পৌরষত্ব" বা, Manly Attitude জাগ্রত হলে স্বাভাবিকতই তারা নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে চান। কিন্তু, সমবয়সী স্ত্রী বেশিরভাগ ক্ষেত্রে না মেনে নিতে নারাজ হন। স্ত্রী'র মন্তব্য থাকে, "তুমি যতদূর দুনিয়া দেখেছো, আমি তার কম দেখি নি। তুমি তবে আমাকে বোঝাতে আসো কেন?" এসব কারণে, সমবয়সীদের বিয়ের চুড়ান্ত পরিণতি প্রায়শই বিচ্ছেদে গিয়ে ঠেকে। তবে, মাঝে মধ্যে আলাদা কেস আমাদের চোখে পরে। সেটা নিতান্তই খুব ভাল বোঝাপড়ার সমন্বয় বলা যায়। [?] প্রশ্ন হলো, তবে সঠিক বয়স ব্যবধান কেমন হতে পারে? আমার মতে, ২-৫ বছরের ব্যবধানই আদর্শ হতে পারে একটি সুখী দম্পত্তি জীবনের সূচনার জন্য - কিন্তু, ৯-১০ এর মত নয়। তাতে থাকে না অতিরিক্ত বয়সের ব্যবধান, থাকে না প্রজন্মের দূরত্ব বা, জেনারেশন গ্যাপ। আর চাইলে খুব সহজেই তৈরী করে নেয়া যায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তবে, বয়সের পার্থক্যের চাইতেও বড় ব্যাপার হলো নিজেদের মাঝে সুন্দর বোঝাপড়া ও কম্প্রোমাইজেশন। নিজেদের ভুলগুলো মাফ করে দিয়ে ও শুধরে নিয়ে খুব সহজেই নিজের দাম্পত্য জীবন করে তোলা যায় খুব স্পেশাল ও রোমান্সে ভরপুর।