1 Answers
যেভাবে রুট বা আনরুট করবেন সিম্ফনি এইচ ১২০
আমি যেসব পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করবো তার সবগুলোই মূলত জিঞ্জারব্রেড বা তারও আগের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন চালিত ফোনের জন্য, আপনি যদি আইসক্রিম স্যান্ডউইচ কিংবা জেলিবিনে আপগ্রেড করে থাকেন তাহলে আপনাকে ডাউনগ্রেড করে কিংবা অন্য মেথডে রুট করতে হতে পারে, সেক্ষেত্রে আপনার ডিভাইসের ফোরামগুলো থেকে জেনে নিশ্চিত হয়ে নেবেন।
প্রথমেই সতর্ক করে নেয়া ভাল যে রুট করার প্রক্রিয়াগুলো আপনার ডিভাইসের জন্য অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ, প্রতিটি ধাপ খুব সাবধানতার সাথে নিজ দায়িত্বে অবলম্বন করতে হবে। এর ফলে আপনার ডিভাইসের কোন প্রকার ক্ষতি হলে অ্যান্ড্রয়েড কথন কর্তৃপক্ষ কিংবা লেখক দায়ী থাকবেনা। তাছাড়া অনেক ডিভাইস রুট করলে ওয়ারেন্টি থাকেনা, সেক্ষেত্রে ওয়ারেন্টি পাবার জন্য ডিভাইসটি আনরুট করে নিতে হয়, তাই আনরুট করার কিছু পদ্ধতিও এখানে তুলে ধরছি।
প্রতিটি সেট রুট করার জন্যই আপনার উইন্ডোজ চালিত কম্পিউটারে গুগল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ইউএসবি ড্রাইভার থাকা জরুরি। তাই আপনার প্রথম কাজ হলো কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের ড্রাইভার ইন্সটল করা। এজন্য প্রথমে এখানে ক্লিক করে ড্রাইভারের ফাইলগুলো ডাউনলোড করে নিন। আপনার কম্পিউটারে যদি আগে থেকেই গুগল ইউএসবি ড্রাইভার ইন্সটল করা থাকে তাহলে এই স্টেপটি আপনি বাদ দিতে পারেন। আর যদি না থাকে তাহলে ইন্সটল করে নিন।
ইন্সটল করার জন্য প্রথমে আপনার ডিভাইসটি ইউএসবি দিয়ে কানেক্ট করে ডাউনলোড করা ফাইলটি Extract করুন। এবার কম্পিউটারের Properties এ যান। সেখানে বামপাশে একবারে উপরে Device Manager এ ক্লিক করুন। সেখানে Other Devices এ ক্লিক করে ADB লেখা দেখতে পাবেন। ADB এর উপর রাইট ক্লিক করে Update Driver Software এ ক্লিক করুন। এবার “Browse My Computer For Driver Software” বাছাই করে যেখানে আপনি ডাউনলোড করা ফাইলগুলো Extract করেছেন সেটা সিলেক্ট করে দিন। এবার উইন্ডোজ আপনার কম্পিউটারের গুগলের ইউএসবি ড্রাইভার ইন্সটল করে নেবে। এবার রুট করার পদ্ধতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।
SUPER ONECLICK মেথড:
বেশিরভাগ অ্যান্ড্রয়েড চালিত ডিভাইসই এই মেথডে রুট করা যায় তাই এই মেথডটিই অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের মাঝে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এই মেথডে যেসব সেট রুট করেছি তার একটা তালিকা নিচে দিয়ে দিচ্ছি:
- SAMSUNG GALAXY S
- SAMSUNG GALAXY S II
- SAMSUNG GALAXY TAB
- SONY XPERIA X8
- SONY XPERIA X10
- LG OPTIMUS 2X
- GOOGLE NEXUS ONE
- MOTOROLA MILESTONE
- MOTOROLA MILESTONE 2
- MOTOROLA FLIPOUT
- MOTOROLA DEFY
- HTC MAGIC
এই ধরনের প্রায় সব ডিভাইসই আপনি SUPER ONECLICK মেথডে রুট করতে পারবেন। এজন্য এখানে ক্লিক করে প্রথমে SuperOneClick ডাউনলোড করে নিন। এবার নিশ্চিত করুন আপনার কম্পিউটারে অ্যান্ড্রয়েডের ইউএসবি ড্রাইভার ঠিকমত ইন্সটল হয়েছে কিনা। এই পোস্টেই উপরের দিকে দেয়া গুগল ড্রাইভারটি যদি আপনার ফোন সমর্থন না করে তাহলে গুগল সার্চ করে আপনার নির্দিষ্ট ফোনের ড্রাইভারটি উপরে উল্লেখিত পদ্ধতিতে ইন্সটল করে নিন।
- এবার দেখে নিন আপনার ডিভাইসটির USB Debugging mode টি Enable করা আছে কিনা। যদি না থাকে তবে Settings > Applications > Development এ গিয়ে USB Debugging এর বক্সটিতে টিক দিয়ে Enable করে নিন।
- এবার USB দিয়ে আপনার ডিভাইসটি কম্পিউটারের সাথে কানেক্ট করুন। ড্রাইভার ঠিকমত ইন্সটল করা হলে কম্পিউটার আপনার ফোনটি ডিটেক্ট করতে পারবে।
- এবার SuperOneClick এর ডানে ক্লিক করে Run as administrator দিয়ে চালু করুন।
- এরপর Root বাটনটিতে ক্লিক করুন।
সবকিছু ঠিক থাকলে কিছুক্ষনের মধ্যেই “Root files have been installed!” কনফারমেশন মেসেজটি পাবেন এবং এরই সাথে আপনার ডিভাইসটি রুট হয়ে যাবে। তখন ডিভাইসের ভিতরে Superuser নামের একটা অ্যাপ্লিকেশন দেখতে পারবেন, Superuser অ্যাপ্লিকেশনটি দেখেই নিশ্চিত হয়ে যেতে পারবেন আপনার ডিভাইসটির রুট হয়েছে কিনা।
যেভাবে আনরুট করবেন আপনার ডিভাইস
রুট করার পদ্ধতির পালা শেষ, এবার জেনে নিন কিভাবে আনরুট করবেন আপনার ডিভাইস। শুরুতেই বলেছিলাম রুট করলে কোন ডিভাইসেই আর ওয়ারেন্টি থাকেনা। সেক্ষেত্রে আপনার যদি কখনো ওয়ারেন্টির প্রয়োজন হয় তাহলে আপনি চাইলেই আপনার ডিভাইসটি আনরুট করে আবার ওয়ারেন্টি ব্যবহার করতে পারেন। SONY Xperia ব্যবহারকারীদের হতাশ করতে হচ্ছে কারণ আমি এখনো কোন Xperia ডিভাইস ব্যবহার করিনি। তাই Xperia আনরুট করার প্রক্রিয়াগুলোও হাতে কলমে করে দেখতে পারিনি। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে আমি HTC ও Samsung ব্যবহার করেছি, তাই এসব ডিভাইস আনরুট করার কৌশলই এখানে তুলে ধরলাম।
HTC ডিভাইসগুলো আনরুট করা খুবই সহজ। এজন্য শুধু প্রয়োজন আপনার ডিভাইসের STOCK ROM যা RUU নামে পরিচিত। আপনার ডিভাইসের মডেল এবং ভার্সন অনুযায়ী Stock ROM খুজে নিন। Stock ROM খুজে নেয়ার ক্ষেত্রে গুগলের বিকল্প নেই। কেননা বেশ কিছু Stock ROM এর সাইট থাকলেও সেখানে রাখা ROM গুলো সব ভার্সন বা লোকালের ফোনে কাজ করেনা, তাই বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আমি অনুরোধ করবো Stock ROM ডাউনলোড করার সময় ভাল করে আপনার ডিভাইসের নাম, মডেল, লোকাল ভার্সন (যেমন: US, UK, EU ইত্যাদি) দেখে ডাউনলোড করবেন।
ডাউনলোড করা হয়ে গেলে সেটা আপনার ডিভাইসের SD CARD এ কপি করুন। এবার ClockWorkMod Recovery কিংবা যে কোন বুট লোডর দিয়ে Stock ROM টা ফ্ল্যাশ করলেই আপনার ডিভাইসটি আনরুট হয়ে যাবে। Recovery তে ঢুকতে HTC ডিভাইসগুলোতে মূলত Reboot এর সময় Volume Down এবং Power Button চাপতে হয়, তবে কিছু কিছু ডিভাইসের ক্ষেত্রে আলাদা বাটন চাপতে হয়। এজন্য আপনার ডিভাইসের বুট লোডারে প্রবেশ করার পদ্ধতি গুগল সার্চ করে জেনে নিন।
এবার ClockWorkMod Recovery তে প্রবেশ করলে সেখান থেকে Wipe Data/Factory Reset ও Wipe Cache Partition দিয়ে Install Zip From SD Card বাছাই করুন। এবার আপনার SD Card এ রাখা Stock ROM টি বাছাই করে দিলেই ফ্ল্যাশ করা হয়ে যাবে এবং সাথে সাথেই আপনার ফোনটি আনরুট হয়ে যাবে।
এবার আসি Samsung এর দিকে। Samsung Galaxy ডিভাইসগুলো আনরুট করাও মোটামুটি সহজ। এজন্য প্রয়োজন আপনার ডিভাইসের ড্রাইভার যেটা রুট করার সময়ই আপনি আপনার পিসিতে ইন্সটল করে নিয়েছেন এবং প্রয়োজন ODIN নামের একটা ফ্ল্যাশিং টুল। ODIN কোন অফিসিয়াল টুল নয় তাই এর কোন নির্দিষ্ট সাইট নেই, তাই আপনার নির্দিষ্ট মডেলের জন্য আলাদাভাবে সার্চ করে ODIN ডাউনলোড করে নিতে হবে।
এরপর আপনার ডিভাইসের জন্য OPS ফাইল সার্চ করে ডাউনলোড করতে হবে। এই OPS ফাইলটিই মূলত Stock ROM এ ফিরে যাবার কাজটি সম্পন্ন করে অর্থাৎ আপনাকে অবশ্যই Stock ROM এর OPS ফাইলটি খুজে বের করে ডাউনলোড করতে হবে। ডাউনলোড করা হয়ে গেলে USB Debugging Enable করে আপনার ডিভাইসটি পিসির সাথে কানেক্ট করে ODIN এর মাধ্যমে OPS ফাইলটি বাছাই করে ফ্ল্যাশ করতে হবে। ফ্ল্যাশ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দেখতে পাবেন আপনার ডিভাইসটি আনরুট হয়ে গেছে।
বিশেষ নোটঃ আপনি এই ভাবে আপনার সিম্ফনি এইচ ১২০ ও রুট করতে পারবেন এবং আনরুট করতে পারবেন । এই একই উপায়ে অন্য মোবাইলও রুট + আনরুট করতে পারবেন ।।