5 Answers
শ্রেণিকক্ষে ক্লাস চলাকালে আমরা প্রায়ই অমনোযোগী হয়ে পড়ি। মাঝে মাঝে ঘুমও পায়। কখনো কখনো শিক্ষকের কথা শুনতে পাই না। ফলে শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তা আর আমাদের বোধগম্য হয় না। অনেক সময় অর্ধেক বুঝতে পারলেও বাকি অর্ধেক বোঝার ইচ্ছা থাকে না। আর যদি পুরোটাই অমনোযোগী থাকি তাহলে তো কথাই নেই। পরীক্ষার আগ পর্যন্ত বইগুলো বাজারেই থেকে থেকে যায় যেন। আমার কথাগুলো নিশ্চয়ই অনেকের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। যেহেতু শ্রেণিকক্ষে আমরা মনোযোগ দিতে পারছি না, তাই বাসায় গিয়ে পড়তে বসে বা পরীক্ষার আগে সেগুলোকে নতুন মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর তখন পড়াগুলো আবার নিজে নিজে পড়তে হয়। নিজে নিজেই যদি সবকিছু পড়া যেত তাহলে কখনোই বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। বাজার থেকে বই কিনে নিয়ে সরাসরি পরীক্ষায় বসে যাওয়ার পদ্ধতি থাকত। আবার যেহেতু শিক্ষকের কথায় মনোযোগ দিতে পারছি না, নিজে পড়েও কিছু বুঝতে পারছি না, সেহেতু আমরা হয় তখন বই মুখস্থ করছি না হয় দ্বারস্থ হচ্ছি দ্বিতীয় বিদ্যালয়— কোচিং সেন্টার বা বহু ছাত্রবিশিষ্ট প্রাইভেট সেন্টারের। মুখস্থ বিদ্যার কুফল নিয়ে নাই বা বললাম। আসি কোচিং সেন্টারের কথায়। কোচিং সেন্টারগুলো যেহেতু অনেক টাকার বিনিময়ে তাদের শিকার ধরে, তাই সেখানে নিজ দায়িত্বে লেখাপড়াটা কিলিয়ে গিলিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়। সেখানেও যারা অমনোযোগী থাকে তাদের তৃতীয় বিদ্যালয় বাসার শিক্ষকের সম্মুখীন হতে হয়। সেখানেও মনোযোগের অভাব হলে ফলাফলের জায়গাটা বেশ ফাঁকাই পড়ে থাকে। অবশেষে নাম ঢুকে যায় খারাপ ছাত্রের তালিকায়। আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেকের মেধা সমান। প্রত্যেকেই যোগ্যতা রাখে তথাকথিত ভালো ছাত্র হওয়ার। তাহলে এর সমাধান কি? বিভিন্ন ধরনের বিদ্যালয়ের যে ধাপগুলো এখানে বললাম তার পেছনের অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অমনোযোগিতা। ব্যাপারটা এখন এতটাই গুরুতর যে, কোচিং সেন্টার ও বাসায় শিক্ষক থাকার ফলে বাচ্চারা এখন আর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাই মনে করে না। এতে যে বাচ্চাদেরই শুধু ক্ষতি হচ্ছে তাই নয়, অপমানবোধে ভোগেন অনেক শিক্ষকও। অথচ শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দিলে সময় ও অর্থ নষ্টকারী দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিদ্যালয়গুলোর দ্বারস্থ হতে হয় না আমাদের। অমনোযোগের প্রধান কারণ হচ্ছে পেছনের দিকে বসা। পেছনে বসার ফলে অনেকের আড়ালে থেকে থেকে ফুল–পাখি–লতা পাতা দেখা ও আঁকার মতো আরও অনেক অপ্রাসঙ্গিক কাজ করা হয়ে থাকে। ফলস্বরূপ দিন দিন পিছিয়ে পড়তে হয়। গড়ে উঠে ফার্স্ট বেঞ্চ-লাস্ট বেঞ্চ বৈষম্য। মনোযোগ বাড়ানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে তাই সামনের সারিতে বসা।
একজন ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় অনেক। তার মধ্যে সহজতর পদ্ধতিগুলো জানা থাকলে যে কোন একজন ছাত্রই হয়ে উঠতে পারেন ভাল ছাত্র। প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত অনেক দামী আর বৈচিত্রময়। তাই এই মুহুর্তগুলোকে কাজে লাগানোই হচ্ছে প্রতিভাবান লোকেরদের কাজ। ছাত্র জীবনেও এরকম একটি ছকে বাঁধা জীবন নয় বরং বৈচিত্রময় একটি কাল অতিক্রম হয়। একে অনেক ছাত্র-ই সাজিয়ে ফেলেন নিজেদের মত করে। যার ফলাফল নিশ্চিত ভাল রেজাল্ট। আর এই আয়োজনের নাম হুল প্রতিদিনের রুটিন অথবা ডেইলি রুটিন।ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় কতগুলি মৌলিক উপাদান কে। তার মধ্যে একটি অবষ্যই ডেইলি রুটিন। এর মাহাত্ম আছে যে কোন খারাপ ছাত্রকেই ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় বাতলে দিতে পারে। এই লেখায় আমি তাই শুধু ডেইলি রুটীন নিয়েই আলোচনা করেছি।
ভাল ছাত্র হওয়ার কিছু টিপস ১. লক্ষ্য ঠিক করুন : ভালো স্টুডেন্টদের মূল্যায়ন সব জায়গাতেই হয় এবং এরা অনেক সুযোগ পেয়ে থাকেন জীবনের সফলতা অর্জনে। আপনি যদি একজর ভালো স্টুডেন্ট হতে চান তাহলে আবশ্যই আপনার জীবনের একটি লক্ষ্য তৈরি করুন। কোন পথে ঠিক কিভাবে এগোবেন সেই বিষয়ে ভাবুন। একটা গতিপথ তৈরি করুন। ২. অধ্যবসায় করুন : ভালো স্টুডেন্ট হতে হলে আপনাকে অধ্যবসায় করতে হবে। জীবনের লক্ষ্য অনুযায়ী এগুতে গিয়ে অধ্যবসায়ের প্রয়োজন রয়েছে। ছাত্রজীবনের অধ্যবসায় আপনাকে জীবনে সফলতা এনে দেবে। কঠিন অধ্যবসায়ই আপনাকে একজন ভালো স্টুডেন্ট তৈরি হতে সহায়তা করবে। ৩. রুটিন করুন : আপনি ছাত্রজীবনে যে ধরনের কাজ করছেন তার একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন। রুটিনে পড়াশুনা এবং অন্যান্য কাজের সময়গুলো হিসেব করে ভাগ করে নিন। রুটিনটিতে পড়ার সময়টুকু অবশ্যই বেশি রাখবেন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করে যান। এতে করে দেখবেন ফলাফল ইতিবাচক আসবে। ৪. লাইব্রেরী ওয়ার্ক করুন : ভালো স্টুডেন্টরা লাইব্রেরী ওয়ার্ক করতে পছন্দ করেন বেশি। লাইব্রেরী ওয়ার্ক করলে খুব সহজেই কঠিন বস্তুকে আয়ত্ব করা যায়। এ কারণে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বাছাই করে আপনি ঐ সময়টাতে লাইব্রেরী ওয়ার্ক করুন। দেখবেন ভালো স্টুডেন্ট হয়ে ওঠা খুবই সহজ হয়ে যাবে। ৫. খারাপ বন্ধু ত্যাগ করুন : ভালো স্টুডেন্ট হতে গেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটি হল খারাপ বন্ধুগুলোকে ত্যাগ করতে হবে। খারাপ বন্ধু থাকলে আপনার সময়গুলো খুবই বাজেভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। পড়াশুনা করতে পারবেন না,এমনকি মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারেন। এ কারণে ভালোভাবে পড়াশুনায় মনোযোগ আনতে আপনি আপনার বন্ধুচক্র থেকে খারাপ বন্ধুদের বাদ দিয়ে দিন প্রয়োজনে কিছু ভালো বন্ধু যোগ করুন।>
একজন ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় অনেক। তার মধ্যে সহজতর পদ্ধতিগুলো জানা থাকলে যে কোন একজন ছাত্রই হয়ে উঠতে পারেন ভাল ছাত্র। প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত অনেক দামী আর বৈচিত্রময়। তাই এই মুহুর্তগুলোকে কাজে লাগানোই হচ্ছে প্রতিভাবান লোকেরদের কাজ। ছাত্র জীবনেও এরকম একটি ছকে বাঁধা জীবন নয় বরং বৈচিত্রময় একটি কাল অতিক্রম হয়। একে অনেক ছাত্র-ই সাজিয়ে ফেলেন নিজেদের মত করে। যার ফলাফল নিশ্চিত ভাল রেজাল্ট। আর এই আয়োজনের নাম হুল প্রতিদিনের রুটিন অথবা ডেইলি রুটিন।ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় কতগুলি মৌলিক উপাদান কে। তার মধ্যে একটি অবষ্যই ডেইলি রুটিন। এর মাহাত্ম আছে যে কোন খারাপ ছাত্রকেই ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় বাতলে দিতে পারে। (Daily Routin): ডেইলি রুটীনের কথা বলার সময় আমার একটি উদাহরনের কথা মনে পড়েছে। সেটা এই রকম- একটি ট্রেন চালানোর জন্যে প্ল্যাটফর্ম ত্যাগ করার আগে রেল মাষ্টার অর্ডার দিলেন যে আজ আরো পাঁচটি বগি এই ট্রেনের সাথে জুড়ে দেয়া হবে তার কারন যাত্রী সংখ্যা অনেক বেশি। যেমন হুকুম তেমন কাজ, কিন্তু এই কাজের জন্য সময় দরকার। পেছনের ট্রেন খানা কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসবে, তবু মাষ্টার কাজটি করলেন। এর মাঝে পেছনের ট্রেন চলে আসায় তিনি লাইন ম্যান দিয়ে আটকে দিলেন এবং এই ট্রেন ছাড়ার পর পেছনের ট্রেন ফ্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করালেন। ডেইলি রুটিনের সাথে এই উদাহরনের একটা ছোট্র মিল আছে। প্রথোমত, রুটিন করে ফেলার পর অবশ্যই অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নিয়ে সেটা দক্ষ ষ্টেশন মাষ্টারের ন্যায় পরিচালনা করতে হবে। একটি ডেইলি রুটিন শুরু হতে পারে ঘুম থেকে উঠার পরপর-ই। এটা সকালে যে কোন মুহুর্ত হতে পারে। তবে সুর্য উঠার আগে হলে ভাল হয়। কারন এই সময়ে শরীরের ইন্দ্রীয়গুলো ভাল কাজ করে। ভাল ছাত্র হওয়ার উপায় হিসেবে এই রুটিন একটি ট্রেনের ইঞ্জিনের চেয়ে বেশি বড় ভুমিকা রাখতে পারে। সময়কে ভাগ করে নেয়ার পর তা দিয়ে দিনের একেক টী কাজ পরিপুর্নভাবে সম্পন্ন করতে পারাই রুটীনের কাজ। যদি ব্যর্থ হয় তবে রুটিন ভ্যালু লেস হয়ে যায়। তাই একটি রুটিন কখনোই এলোমেলো হতে পারেনা সফলতার জন্যে।
ভাল ছাত্র হতে হলে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেটা হলো ক্লাসের পডায় মনোযোগ দেয়া ও বাডিতে সেগুলো চর্চা করা। প্রতিদিনের পডা প্রতিদিন শিখুন।না বুঝে কোনকিছু মুখস্ত করবেন না। স্যারদের সহযোগীতা নিন।