নতুন খবর পেলাম।ডায়বেটিস নাকি ভাল হয়।এটা কি সত্যি?

জীবন মরণ সমস্যা।তাই নিশ্চত না হয়ে উত্তর দিবেন না।অবশ্যই তার সত্যতা প্রমান করতে হবে।
5475 views

3 Answers

ডায়বেটিস সম্পূর্নভাবে নিরাময় করতে পারবেন না। তবে ডায়বেটিসের রোগী ভালো থাকার উপায়ঃ ডায়বেটিস বা বহুমূত্র আজকের যুগের অন্যতম মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠেছে। এ রোগের সাথে খাদ্যের গভীর সর্ম্পক আছে সে কথাও সবাই জানেন। তাই এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কি ধরণের খাদ্য গ্রহণ করা উচিত সে ব্যাপারে আলোচনা করেছেন ঢাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ডায়বেটিক হাসপাতাল বা বারডেমের সিনিয়র পুষ্টিবিদ খালেদা খাতুন। আলোচনাটি পরিবেশন করা হলো : Normal 0 false false false EN-US X-NONE FA MicrosoftInternetExplorer4 ডায়বেটিস রোগের প্রকোপ বর্তমান কালে বেড়েছে। কেউ কেউ মনে করেন আংশকাজনক ভাবেই বেড়েছে। শহর কেন্দ্রিক মানুষের তুলনামূলক অলস জীবন যাপন আর এর সাথে অতিরিক্তি কথিত 'সুখাদ্য' এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি করেছে। ডায়বেটিস হলে দেহে পরিমাণমতো ইনস্যুলিন তৈরি হয় না বা তার ঘাটতি দেখা দেয়। এ কারণে দেহ চিনি জাতীয় খাদ্যকে ভেংগে আর হজম করতে পারে না। রক্তে চিনির মাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রার চেয়ে বেড়ে যায়। বহুমুত্রের পথ ধরে রোগীর দেহে হৃৎরোগ, কিডনি রোগসহ নানা জটিল রোগ দেহে বাসা বাধতে পারে। এ কারণে ডায়বেটিসকে রোগের জননী বলা হয়। ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে, প্রথমেই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অর্থাৎ চিনি জাতীয় খাদ্য বর্জন করতে হবে। শর্করা জাতীয় খাবার গ্রহণে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত তেল চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। একই সাথে অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া খাওয়া যথাসাধ্য বন্ধ রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রয়োজনে সুনির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করতে হবে। তবে সাধারণভাবে চিকিৎসকরা মনে করেন, কেউ যদি খাদ্য গ্রহণে সতর্ক না হোন এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করেন তবে তিনি যতই ওষুধ গ্রহণ করুন না কেন, তার রক্তের চিনির মাত্রা হ্রাস পাবে না, বহুমুত্র নিয়ন্ত্রিত হবে না। একই সাথে ডায়বেটিসের পথ ধরে অন্যান্য রোগের আক্রমণের আশংকা কমবে না। একজন সাধারণ মানুষ যে পরিমাণ শর্করা জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ ভাত বা রুটি খান ডায়বেটিসের রোগী মোটেও সে পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ করতে পারবেন না। তার যে পরিমাণ ক্যালোরির প্রয়োজন পড়ে তার মধ্যে ষাট থেকে সত্তর শতাংশ শর্করা খাদ্য হওয়া উচিত। এরপর বাকি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রোটিন বা আমিষ এবং ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ফ্যাট বা স্নেহ জাতীয় খাবার থেকে অর্জন করা উচিত। বাংলাদেশের মত দেশগুলোতে অনেকের জন্য খাদ্যের যোগাড় করাই মুশকিল হয়ে দাড়ায়। খাদ্য সমস্যার কথা মনে হলেই এ দেশে আমিষ বা প্রোটিন ঘাটতির কথাই বেশি আসে। তাই এ সব দেশের আমিষ সমস্যার কথা মনে রেখেই রোগীর খাদ্যের আমিষের কথাটি বলা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে একটি মাপকাঠিও পাওয়া গেছে। সাধারণ ভাবে পূর্ণ বয়সী মানুষের দেহের ওজন যতো কিলোগ্রাম হবে তত গ্রাম আমিষ তাকে খেতে দিতে দিতে হবে। অর্থাৎ কারো ওজন যদি ৭৫ কিলোগ্রাম হয় তবে তাকে ৭৫ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হবে। তবে শিশুদের বেলায় এই পরিমাণ একটু বাড়বে। অর্থাৎ তাকে প্রতি কিলো ওজনের জন্য ১ দশমিক ২ গ্রাম আমিষ সরবরাহ করতে হবে। অর্থাৎ কোনো শিশুর ওজন যদি ১৮ কিলোগ্রাম হয় তবে তাকে ২১ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করতে হবে। তবে গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটবে। যে সব মায়ের ডায়বেটিস আছে তারা পরিপূর্ণ ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ না করে তাদের গর্ভ ধারণ করা মোটেও উচিত হবে না। গর্ভে সন্তান থাকাকালীন অবস্থায় এ ধরণের মায়ের খাদ্য তালিকায় চিনি জাতীয় খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ছাড়া আর কিছু খাবার নিয়ন্ত্রণ করার কোনো দরকার নেই। অন্যদিকে সন্তান গর্ভে থাকার কারণে অনেকের মধ্যে বহুমুত্রের উপসর্গ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ভাবে সামান্য সতর্কতা ছাড়া বিশেষ কোনো নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়ে না। ডায়বেটিস রোগীর খাবারের সময় সূচি রক্ষা করা একান্তভাবে প্রয়োজনীয়। এ ধরণের রোগীদের প্রতি ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা অন্তর অন্তর তাকে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যের এই সময় সূচি সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তার পরিণাম ভাল হবে না। ডায়বেটিস রোগী চিকিৎসা এবং আনুষাঙ্গিক নিয়ম মানার ফলে যে সুফল অর্জন করতে পারবেন কেবল মাত্র খাদ্যের নিয়ম না মানার কারণে তা ভেস্তে যেতে পারে। এ্ই নিয়ম না মানার কারণে ডায়বেটিসের রোগীর রক্তে চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় কমে যেতে পারে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে হাইপো গ্লাইসিমিয়া বলা হয়। অথবা খাদ্য গ্রহণের পর রক্তে চিনির পরিমাণ অতি মাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এ অবস্থাকে হাইপার গ্লাইসিমিয়া বলা হয়। তাই যদি তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর পর যদি খাবার গ্রহণ করা হয় তবে রক্তে চিনির এই মাত্রা ওঠা-নামা করার সুযোগ পায় না। এখানে একটি কথা বলা প্রয়োজনীয় মনে করছি, তা হলো বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও ভেষজ চিকিৎসার প্রতি অনেকের গভীর বিশ্বাস রয়েছে। সূএঃ http://bangla.irib.ir/2010-04-21-07-49-31/স্বাস্থ্যকথা/item/15017-ডায়বেটিসের-রোগী-ভালো-থাকার-উপায়

5475 views Answered

এটা সম্পূর্ন নিরাময় হয় না.. তাই এটা নিয়ণ্ত্রনের জন্য যা করণীয় তা পড়লেই বুঝতে পারবেন... নিজস্ব প্রতিবেদক: ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় রোগ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এ রোগে ভুগছে। ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি এ রোগের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক কর্মময় জীবন যাপন করা সম্ভব। আর এর জন্য চাই রোগীর নিজের শিক্ষা ও সচেতনতা প্রচলিত জীবন ধারার পরিবতর্ন করে নিয়মিত ব্যায়াম, প্রয়োজনমত খাদ্য গ্রহণ, ইনসুলিন, মুখে খাওয়ার ঔষধ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ হতে পারে বলে মনে করেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। চিকিৎসকরা বলেন, মানুষের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ সাধারণত ৩.৩ থেকে ৬.৯ মিলি আর খাবার পর ৭.৮ মিলি। কিন্তু যদি গ্লুকোজের পরিমাণ অভুক্ত অবস্থায় ৭ মিলি আর খাবার পর ১১ মিলি পাওয়া যায়, তবে তার ডায়বেটিস আছে বলে ধরে নেওয়া হয়। কোষে গ্লুকোজ ঢুকতে না পারায় কোষ শক্তির যোগান পায়না, এজন্য ডায়াবেটিস এর রোগী খুব সহজেই ক্লান্তি আর দূর্বলতা অনুভব করে। যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে, ওজন কমে যায়, বার বার প্রসাব হবার কারণে পানির পিপাসাও লাগে অনেক। এছাড়াও ক্ষত শুকাতে বেশ সময় লাগে। খোশ- পাচড়া, ফোড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেয়া, চোখে কম দেখাসহ নানা উপসর্গ গুলো সবই ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ। বিশেজ্ঞরা মনে করেন, ডায়াবেটিস রোগটি কখনো পুরোপুরি ভালো হয় যাবেনা তবে ঠিকমতো নিয়ম-কানুন ও নির্দেশ মেনে চললে এটা সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রন করা, নিয়মিত শারিরীক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা, প্রয়োজনীয় ঔষধ সেবন এবং পর্যাপ্ত জ্ঞান ও শৃংখলা বোধ এই চারটি জিনিসের সমন্বয় ঘটালে ডায়াবেটিস রোগ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মতো তৈরী করা খাদ্য তালিকা অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। সহজ কথায় চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবেনা, শর্করা জাতীয় খাবার খেতে হবে পরিমিত,ঘি- মাখন-চর্বি-ডালডা জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে যদিও তেল খেতে তেমন বাধা নেই। আশযুক্ত খাবার, শাক-সব্জি, টক ফল ইত্যাদি বেশী পরিমাণে দিয়ে খাদ্য তালিকা তৈরী করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে অনেক বারে তালিকার খাদ্যটি খাওয়া উচিত সেই সাথে ওজন কমানোর চিন্তাটাও মাথায় রাখতে হবে। হাঁটলে দুই পাশের হাতই নাড়াচাড়া (swing) করে এভাবে নিয়মিত নূন্যতম ৪৫ মিনিট হাটতে হবে। হঠাৎ করে একসাথে বেশি পরিশ্রম করে ফেলা ঠিক হবে না। নিয়ম মাফিক ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের লিখে দেয়া অসুধ বা ইনস্যুলিন ব্যবহারে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে, কোনোভাবেই এর অন্যথা করা ঠিক হবেনা। শৃংখলাবোধ ডায়াবেটিস রোগীর জীবনকাঠি তাই একে আঁকড়ে ধরে রাখা চাই। ডায়াবেটিস রোগ সম্বন্ধে জানার ব্যবস্থা চারপাশে অনেক, তাই রোগের কি অবস্থায় কি করতে হয় তা জেনে নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

5475 views Answered

নানা কারণে অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ বিকল বা নষ্ট হওয়ার কারণে ইনসুলিন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে তা দেহকোষে পৌঁছায় না। এটাই ডায়াবেটিস পরিস্থিতি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, *__ কিন্তু ডায়াবেটিস কখনো পুরোপুরি ভালো হয় না। __ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিস ক্রমাবনতিশীল রোগ। বিটা কোষ আস্তে আস্তে নষ্ট হয় বা মারা যায়। ট্যাবলেট ও কৃত্রিম ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হয়ে আসছে। ট্যাবলেট বেঁচে থাকা বিটা কোষকে সহায়তা করত আরও বেশি ইনসুলিন নিঃসরণে। আর ইনজেকশনের মাধ্যমে নেওয়া কৃত্রিম ইনসুলিন সরাসরি রক্তে মিশে শর্করা নিয়ে যায় দেহকোষে। ১৯২১ সালে প্রথম কৃত্রিম ইনসুলিন আবিষ্কৃত হয়। এরপর কলমের মাধ্যমে ইনসুলিনের ব্যবহারকে মানুষ সাদরে গ্রহণ করেছে। এই ইনসুলিন প্রতিবার খাবারের আধা ঘণ্টা আগে নেওয়া হয়। কিন্তু এখন বাজারে ‘লং লাস্টিং’ ইনসুলিন আছে। এই ইনসুলিন ৪০ ঘণ্টায় একবার ব্যবহার করতে হয়। বাংলাদেশের বাজারেও এই লং লাস্টিং ইনসুলিন পাওয়া যাচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ডায়াবেটিসের নতুন ওষুধ ও চিকিৎসাপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে বহু বছর ধরে অর্থ বিনিয়োগ করে আসছে। এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে দেখা যায়, আগামী পাঁচ-সাত বছরের মাধ্যমে মুখে খাওয়ার ইনসুলিন বাজারে আসবে। ইতিমধ্যে ইনসুলিন ট্যাবলেটের প্রথম ধাপের পরীক্ষা (ট্রায়েল) শেষ হয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টা ছিল বিটা কোষ ধ্বংস বন্ধ করা অথবা বিটা কোষ ফিরিয়ে আনা। স্টেম সেল প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা- নিরীক্ষার পথ ধরে এখন বিটা কোষ প্রতিস্থাপন বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে। কাগজপত্রে দেখা যায়, সুইডেনের লান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেম সেল সেন্টারে বিটা কোষ প্রতিস্থাপন নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, খুব শিগগির মানুষ এই গবেষণার সুফল পাবে।

5475 views Answered

Related Questions

Next steps