2 Answers
দুটি পদ্ধতির কথা বলবো আমি যা উপকারী---- চুলের গোঁড়ায় হেয়ার ফলিকল থাকে। ভাইব্রেশনের মাধ্যমে যদি ফলিকল উদ্দীপিত করা যায় তবে নতুন চুল গজানো সম্ভব। বাজারে ভাইব্রেটিং ম্যাসেজার কিনতে পাওয়া যায়। এর সাহায্যে আপনি স্ক্যাল্পে চক্রাকারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে মাথায় ভাইব্রেটিং ম্যাসাজ নিতে পারেন। যে জায়গায় বেশি চুল পড়ে যাচ্ছে, তাতে বেশি মনোযোগ দিন। এভাবে ৫ থেকে ১০ মিনিট আপনার স্ক্যাল্প ভাইব্রেট করুন। ভালো ফল পেতে এটাও আপনাকে দিনে ৩ বার করতে হবে। আরেকটি পদ্ধতি হল মেডিকেশন । চুলের জন্য ওষুধ। অনেক গবেষণার পর ফেনাস্টেরাইড আর মিনোক্সিডিল নামের দুটো ওষুধ চুল গজানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দুটি ওষুধের-ই সাইড ইফেক্ট আছে। মিনোক্সিডিল এর দুইটা কনসেনট্রেশন পাওয়া যায়। ২% আর ৫%। ২% মিনোক্সিডিল মেয়েদের জন্য আর ৫% মিনোক্সিডিল ছেলেদের জন্য। এটা বাজারে জেনোগ্রো নামে পাওয়া যায়। স্প্রে করে মাথার স্ক্যাল্পে দিতে হয়। খাদ্যাভ্যাসঃ ০১. প্রোটিনঃ পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন – আমাদের চুল মূলত কেরাটিন দিয়ে গঠিত। এটি অ্যামিনো এসিড দিয়ে তৈরি এক ধরণের প্রোটিন। তাই নতুন চুল গজানোর জন্যে অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত অ্যামিনো এসিড সরবরাহ করতে হবে। মাছ, মাংস, পনির, দুধ, ডিম – আপনার খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই এগুলোর অন্তত একটি রাখার চেষ্টা করুন। সয়াবিন, মটরশুঁটি, কলা, বাদাম ইত্যাদি থেকেও পেতে পারেন। তবে নন- ভেজিটেরিয়ান খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ০২. আয়রন আর জিঙ্কঃ আয়রন আর জিঙ্ক আপনার মাথার কোষে অক্সিজেন পরিবহন করে নিতে সহায়তা করবে আর নতুন টিস্যু তৈরিতে এবং ক্ষয়রোধে সহায়তা করবে। পরিমিত পরিমাণে আয়রন আর জিঙ্ক নতুন এবং দ্রুত চুল গজানোর জন্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটি, বাদাম, কলিজা, মাংস, দুধে আপনার প্রয়োজনীয় জিংক আর আয়রন বিদ্যমান। ০৩. ভিটামিন সিঃ পেয়ারা, লেবু, কমলা, আনারস, কামরাঙা, কাঁচা মরিচে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। আপনার চুলের বৃদ্ধি এবং গজানোর জন্য সহায়ক। ০৪. কালোজিরাঃ কালোজিরা নতুন চুল গজানোর জন্যে সহায়ক। মাথায় কালোজিরার তেল ব্যবহার করা আর খাবারে কালোজিরা ব্যবহার খুব ভালো ফল দেয়।এই পদ্ধতি ছাড়াও আপনাকে খাদ্যাভ্যাস আর কিছু সাধারণ যত্ন নিতে হবে।
চুল পড়ে যাওয়া আজকাল অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথার চুল পরিমাণে কমে গেলে অনেক সময় হতে হয় হেনস্থাও। এই অবস্থায় যদি বলা হয় নতুন চুল গজানোর জন্যও আছে সহজ উপায়! ভাবতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবে তা সম্ভব। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৩/৪ দিন রাতে ঘুমানোর আগে সহজ কিছু কাজ করতে হবে এর জন্য। ব্যবহার করতে হবে অলিভ অয়েল ও রসুন। কারণ রসুনেই গজাবে চুল! রসুনে থাকা উচ্চমাত্রার সালফার, ভিটামিন সি, সেলেনিয়াম এবং বিভিন্ন রকম খনিজ উপাদান নতুন চুল গজাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। এছাড়া রসুনে থাকা কপার নতুন চুল গজায়, চুল কালো করে ও চুলকে ঘন করে। রসুনের ব্যবহারে চুলে কোন সাইড ইফেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। নিম্নে এমনি সহজ তিনটি উপায় দেওয়া হলো : প্রথমত, রসুনের নির্যাস মেশানো অলিভ অয়েল তৈরি করতে হবে। এজন্য এক বোতল অলিভ অয়েলে কয়েক কোয়া রসুন ফেলে রাখতে হবে সপ্তাহ খানেক। মোটামুটি ৭ দিন পার হয়ে গেলেই তৈরি আপনার তেল। মাথায় যখনই তেল দেবেন, এই তেলটি ব্যবহার করুন। চুল পড়া রোধ করতে ও মাথায় নতুন চুল গজাতে এই তেলটি খুবই কার্যকর। দ্বিতীয়ত, কয়েক কোয়া রসুন নিয়ে একটু থেঁতলে নিন। এবার চুল কমে যাওয়া স্থানগুলোতে ঘষে ঘষে লাগান। আপনি চাইলে রসুনের রস বা রসুনের পেস্টও চুল কমে যাওয়া স্থানগুলোতে লাগাতে পারেন। তৃতীয়ত, রসুন মাথায় লাগানোর এক ঘণ্টা পর অলিভ অয়েল দিয়ে মাথার ত্বক ম্যাসাজ করে নিতে হবে। এরপর একটি শাওয়ার ক্যাপ মাথায় লাগিয়ে ঘুমাতে যান। কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা চুলে এই মিশ্রণ রাখতে হবে। এরপর সকালে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন। এই উপায়গুলো নিয়মিত মেনে চললে মাথায় নতুন চুল গজাবে।