3 Answers
ডায়াবেটিস(diabetes)নিয়ে যন্ত্রণার মধ্যে জীবন যাপন করছেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াটা বেশ কঠিন। কারণ বর্তমান সময়ের সবথেকে বহুল পরিচিতরোগের নাম হচ্ছে ডায়াবেটিস। তবে আশার বাণী হচ্ছে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে আমরা প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। আসুনডায়াবেটিস প্রতিরোধে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া সমাধান*.ডুমুর পাতা(fig leaves):ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ডুমুর পাতা ব্যবহার খুব উপকারী। যদিও এটি তেমন প্রচলিত প্রতিষেধক নয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী প্রতিদিন সকালেনাশতার সাথে ডুমুর পাতার রস গ্রহণ করতে পারেন। অথবা ডুমুরের পাতা পানিতে সিদ্ধ করে সেই পানি চাআকারে পান করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।*.দারুচিনি(cinnamon):আপনার রক্তে সুগারের মাত্রাকমিয়ে আনতে দারুচিনি খুব কার্যকরী। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা দারুচিনি গ্রহণকরার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারেন।*.আঙ্গুরের বীজেররস(grape seed extract):আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখতে আঙ্গুরেরবীজ ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আঙ্গুরেরবীজের রস গ্রহণ করলে রক্তে সুগারের মাত্রাআশানুরূপ ভাবে কমতে থাকে।*.অলিভ অয়েল(olive oil):অলিভ অয়েলেরএকগাদা গুনের মধ্যে একটি অন্যতম গুণ হল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ। প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক কাপ অলিভঅয়েল পান করলে ডায়াবেটিস আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।*.করলা(bitter melon):আপনার ডায়াবেটিস কমাতে করলার গুনের তুলনা হয়না। প্রতিদিনখালি পেটে একগ্লাস করলার জুস খেলে ডায়াবেটিস আপনাআপনি আপনারনিয়ন্ত্রণে থাকবে।ডায়াবেটিস কোন জীবন নাশক রোগের নাম নয়। আপনি চাইলে ঘরোয়া ভাবেই এই রোগের প্রতিকার করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন।
কিছু কিছু নিয়ম পালন করলে ডায়বেটিস থেকে সাবধানে থাকা যায়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েকটি সহজ উপায় চর্চা করলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো যায় ৮০ শতাংশ। ১.স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াঃ অতিরিক্ত ফাস্ট ফুড (বার্গার, স্যান্ডউইচ, পিজা, শর্মা, চিপস, ফ্রেঞ্চফ্রাইজ ইত্যাদি), কোমল পানীয় এবং চকলেটসহ যেকোনো মিষ্টি খাবারেই ডায়বেটিসের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। এগুলো থেকে আপনার সন্তানকে দূরে রাখুন এবং তাদের এসব খেতে নিরুৎসাহিত করুন, সহজ ভাষায় এর অপকারিতা বর্ণনা করুন। ঘরের খাবার খাওয়ার অভ্যেস করুন। এবং প্রতিদিনের খাবারের চার্টে প্রচুর ফল ও শাকসবজি রাখুন। প্রতিদিন নির্দ্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। ২.নিজে নিয়ম করে দিনে অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করুন, সাথে আপনার সন্তানকেও বলুন আপনার সাথে যোগ দিতে। আপনার উৎসাহই পারে তাদের সুস্থ রাখতে। ৩.স্বাভাবিক দেহ ওজন বজায় রাখা(বি এম আই ১৮.৫- ২৪.৯ এর মধ্যে রাখা)। স্বাভাবিক ওজনের পুরুষের ৭০ শতাংশ ঝুকি কম থাকে এবং স্বাভাবিক ওজনের নারীদের ডায়াবেটিস হওয়ার অশঙ্কা ৭৮ শতাংশ কম। ৪. ধূমপান করে থাকলে বর্জন করুন এবং মদ্যপান পরিহার করুন। ৫.বাসায় একটি ডায়বেটিস পরিমাপের যন্ত্র কিনে নিতে পারেন, যাকে ইংরেজিতে বলে গ্লুকোমিটার। ইদানীং বাজারে সস্তায় এগুলো পাওয়া যায়। নিয়ম করে, মাসে অন্তত একবার পরিবারের সবার ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন। অনেক ডায়বেটিস রোগীকেই দেখা যায় নিয়ন্ত্রণের জন্য ইনসুলিন নিতে। ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না! পুণরায় বলছি, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ না করে অবশ্যই ইনসুলিন নেবেন না!যাদের ইতোমধ্যে ডায়বেটিস আছে, এবং যারা প্রেস্ক্রাইবড ইনসুলিন নিচ্ছেন, তারা দীর্ঘসময় ধরে খালি পেটে থাকবেন না। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে গ্লুকোজ খুব বেশি কমে যাওয়া) হয়ে যেতে পারে যার ফলাফল খুব একটা সুখকর নয়।এই গাইডলাইনগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ বেশ ফলপ্রসূ হয়।