টনসিল রোগে সম্পর্কে?
5 Answers
টনসিলাইটিসের চিকিত্সা কী? টনসিলের চিকিত্সা নির্ভর করে কারণের ওপর। যদি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে তাহলে রোগীকে যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়। ভাইরাসের জন্য হলে পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়, সেক্ষেত্রে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিত্সা করা হয়। চিকিত্সার পর উপসর্গ চলে গেলেও টনসিলের আকৃতি ছোট হতে কিছুটা সময় নেয়। কয়েক মাস পর্যন্ত টনসিল বাড়তি আকৃতিতে থাকতে পারে। টনসিলের অপারেশন কখন করতে হয়: সারাবিশ্বে বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে যেসব অবস্থায় টনসিল অপারেশনের কথা বলে থাকেন সেগুলো হল- * টনসিল বড় হওয়ার জন্য ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হলে বা নাক ডাকলে। ঢোক গিলতে বা খেতে বেশি অসুবিধা হলে। * এছাড়া এক বছরের মধ্যে পাঁচ-সাতবার করে একাধারে দু’বছর কিংবা প্রতিবছর বা একাধারে দু’বছরে তিনবার করে পর পর তিন বছর টনসিলের ইনফেকশন হলে অপারেশনের কথা বলা হয়। * টনসিলে একবার ফোঁড়া বা পুঁজ হলে। * ছয় মাস যথাযথ চিকিত্সার পরও রোগ না সারলে। অনেকেই শিশুদের টনসিল অপারেশনের কথা বললে ভয় পান। আসলে টনসিল অপারেশনে ভয়ের কিছুই নেই। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন অপারেশন করলে ভবিষ্যতে কোনো অসুবিধা হবে কি না? এর উত্তর হচ্ছে টনসিলের অসুবিধা দূর করার জন্যই অপারেশন, আর ভবিষ্যতে যাতে টনসিলের ইনফেকশন থেকে জটিলতা না হয় তা রক্ষার জন্যই অপারেশন করা হয়। কাজেই টনসিল ফেলে দেওয়ার জন্য ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা দেখা দেয় না।
টনসিল একটা ঠান্ডা জনিত রোগ। এটির প্রধান লক্ষন হচ্ছে গলায় ব্যাথা অনুভব করা। এটির প্রতিকার হচ্ছে ঠান্ডা না খাওয়া এবং গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্টার দেখানো।
টনসিলের সমস্যার কারণে গলাব্যথায় ভুগে থাকেন অনেকে। যদিও টনসিলের সমস্যা সব বয়সেই হয়ে থাকে , তারপরও শিশুদের ক্ষেত্রে টনসিলের ইনফেকশন একটু বেশি হয়। টনসিলের এই ইনফেকশনকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় টনসিলাইটিস বা টনসিলের প্রদাহ। জিভের পিছনে গলার দেয়ালের দু’পাশে গোলাকার পিণ্ডের মতো যে জিনিসটি দেখা যায় সেটাই টনসিল। টনসিল দেখতে মাংসপিণ্ডের মতো মনে হলেও এটি লসিকা কলা বা লিম্ফয়েড টিস্যু দিয়ে তৈরি। মুখগহ্বরের দু’পাশে দুটি টনসিল পুলিশের মতো পাহারায় থাকে বলে এটিকে মুখগহ্বরের পুলিশ বলা হয়। মুখ, গলা, নাক কিংবা সাইনাস হয়ে রোগজীবাণু অন্ত্রে বা পেটে ঢুকতে বাধা দেয় এই টনসিল
জিহ্বার শেষপ্রান্তে, আলজিহ্বার নীচে বাম ও ডানপাশে বাদামের মতন ১.৫ সেন্টিমিটারের মত আকারে লালবর্ণের মাংসপিন্ডকে টনসিল (Tonsil) বলা হয়ে থাকে। টনসিল দেখতে মাংসপিণ্ডের মতো মনে হলেও এটি লসিকা কলা বা লিম্ফয়েড টিস্যু দিয়ে তৈরি। মুখগহ্বরের দু’পাশে দুটি টনসিলের অবস্থান । মুখ, গলা, নাক কিংবা সাইনাস হয়ে রোগজীবাণু অন্ত্রে বা পেটে ঢুকতে বাধা দেয় এই টনসিল অর্থাৎ টনসিল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। ( তারপর ও আছে আর ৩২৮ টি গ্রন্থি )। →→টনসিলাইটিসের চিকিৎসা দুই ভাবে করা যায় ১. ওষুধ সেবন ২. অপারেশন টনসিলের চিকিৎসা নির্ভর করে কারণের ওপর। যদি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়ে থাকে তাহলে ভাল চিকিৎসকের পরামর্ষে একটু উন্নত অ্যান্টিবায়োটিক ( এমোক্সিসিলিন, সিফিউরোক্সাইম বা আর উন্নত গ্রোফের ঔষধ ) ঔষধ সঠিক নিয়মে সেবন করলে মাত্র ৭ দিনে ১০০% নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় টনসিলের প্রদাহ ভাল হয়ে যাবে । এখানে একটা বিষয় মনে রাখবেন বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসায় অনেক উন্নত ধরণের এন্টীবায়োটিক আছে যার সঠিক সিঙ্গেল ডোজেই ভাল হয়ে যাওয়ার কথা কিন্তু তা না করে যদি নিজের ইচ্ছা মত ২/৪ টা ক্যাপস্যুল বড়ি খেয়ে ভাল হয়ে জান এবং ইহা আবার পুনরায় আক্রমণ করে এবং সে সময় ও এই রকম করেন ৯৫% বেলায় পরবর্তীতে অপারেশন করানো ছাড়া আর বিকল্প কোন পথ নেই – তাই ব্যাক্টোরিয়ার কারণে ইনফেকশন মনে করলে সম্পূর্ণ ডোজ সেবন করার অনুরোধ রইল। সেই সাথে মাউথ ওয়াশ দিয়ে ( ওরোক্লিন ) কুলি করলে বেশ ভাল হবে বা নরমাল স্যালাইন (ওয়াটার গার্গেল) গরম পানি দিয়ে গড়গড়া কুলি করা উচিৎ । জ্বর থাকলে এনালজেসিক ( প্যারাসিটামল ইত্যাদি ) ঔষধ খেতে পারেন । সর্দি কাশি থাকলে এন্টিহিস্টামিন ও কিছুটা সহায়ক তবে ডাইলেটর জাতীয় ঔষধ ( ভেল্টলিন ) সেবন করতে হলে চিকিৎসকের পরামর্ষে নিবেন কিন্তু ভাইরাল সঙ্ক্রামনে হলে এন্টিবায়োটিক সেবন কোন কাজে আসবে বলে মনে হয়না — ইত্যাদি