1 Answers

ভাই দেখুন, বেগুনের গুন নাই, এ কথার ভিত্তি নাই। অনেকেই জানি না এই বেগুনের গুণাগুণ সম্পর্কে। যার কারণে অনেকে বলেন, যার নেই কোন গুণ তার নাম বেগুন। কিন্তু গবেষকগণ প্রমাণ করেছেন, এটি শুধু একটি তরকারিই নয় বরং এতে রয়েছে রোগমুক্তিসহ বহু উপকারিতা। বেগুন বাজারে দু’প্রকার দু’রঙের পাওয়া যায়। সাদা ও বেগুনী। বেগুনি বা কালো বেগুনের গুণ অনেক বেশী। বেগুন যত কচি হবে তাতে গুণ তত বেশী থাকবে। এ রকম কচি বেগুন খেলে শরীরের বল বৃদ্ধি পাবে। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যেপযোগী বেগুনে রয়েছে ০.৮ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ১.৩ গ্রাম আঁশ, ৪২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ১.৮ গ্রাম আমিষ, ২.২ গ্রাম শর্করা, ২৮ মিগ্রা ক্যালসিয়াম, ০.৯ মিগ্রা লৌহ, ৮৫০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ,০.১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৮ মিগ্রা ভিটামিট বি-২, ৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি ইত্যাদি। চলুন তাহলে জানা যাক এই বেগুনের গুণাগুণ গুলোঃ- কচি বেগুন পুড়িয়ে রোজ সকালে খালি পেটে একটু গুড় মিশিয়ে খেলে ম্যালেরিয়ার দরুন লিভার বেড়ে যাওয়া কমে যায়। লিভারের দোষের জন্যে যদি চেহারায় হলদেটে ভাব আসে সেটাও ক্রমশ কমে যায়। যাদের ঘুম ভালো হয় না তারা যদি একটু বেগুন পুড়িয়ে মধু মিশিয়ে সন্ধ্যাবেলা চেটে খান তাহলে তাদের রাত্রে ভালো ঘুম হবে। বেগুনের তরকারি, বেগুন পোড়া, বেগুনের স্যুপে, রোজ যদি একটু হিং ও রসুন মিশিয়ে খাওয়া যায় তাহলে রায়ুর প্রকোপ কমে। যদি কারো পেটে বায়ুগোলকের সৃষ্টি হয়ে থাকে সেটাও কমে যায় বা সেরে যায়। মহিলাদের ঋতু ঠিক মতো না হলে বা কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে তারা যদি শীতকালে নিয়ম করে বেগুনের তরকারি বাজরার রুটি এবং গুড় খান তাহলে উপকার পাবেন। নিয়মিত বেগুন খেলে মূত্রকৃচ্ছ্রতা সেরে যায়। প্রস্রাব পরিস্কার হওয়ায় প্রারম্ভিকা অবস্থার কিডনির ছোট পাথরও গলে গিয়ে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। মুরগীর ডিমের সাইজের ছোট গোল সাদা বেগুন অশ্বরোগের জন্য উপকারী ভূমিকা রাখে। বেগুনের পুলটিস বাঁধলে ফোঁড়া তারাতাড়ি পেকে যায়। বেগুনের রস খেলে ধুতুরোর বিষ নেমে যায়। বেগুন বীর্যের পরিমান বাড়ায়। উচ্চমাত্রার আঁঁশযুক্ত সবজি হওয়ায় রক্তে সুগার ও গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে বেগুন। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেগুনের জুড়ি নেই। বেগুন কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। শরীরে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। যেসব কারণে বেগুন হূদরোগের ঝুঁকিও কমায়। বেগুনে থাকা প্রচুর পরিমাণের পটাশিয়াম শরীরে পানি শূন্যতা দূর করে যা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। বেগুনে পর্যাপ্ত পরিমাণ পাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। এই উপদানটি মস্তিষ্কের কোষগুলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। মস্তিষ্কের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বার্তা প্রেরণেও পাইটোনিউট্রিয়েন্ট সাহায্য করে। যেটি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। আঁঁশযুক্ত খাবার হওয়ায় এটি পাকস্থলীর হজমি শক্তি বাড়ায়। পুরো হজম প্রক্রিয়াকেই এটি স্বাভাবিক রাখে। কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমাতে সহায়তা করে বেগুন। প্রচুর জলীয় পদার্থ থাকাতে বেগুন স্বাস্থ্যের জন্য তো ভালোই শরীরের ত্বকের জন্যও এটি বেশ উপকারী। বেগুনে এমন সব ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ আছে যা ত্বকের মসৃণতা এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। শরীরের স্বাভাবিক কার্যাবলী বজায় রাখার জন্য সবারই আয়রন প্রয়োজন। বেগুনে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। আর আয়রনের উপস্থিতির কারণেই বেগুন কেটে রাখলে কালচে হয়ে যায়। বেগুনে আছে নাসুনিন নামের একটি উপাদান যা শরীরের আয়রনের পরিমাণ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে আয়রনের স্বল্পতা অথবা আধিক্য কোনোটাই হয় না। যারা রক্তশূন্যতায় ভুগছেন তারা নিয়মিত বেগুন খেলে উপকার পাবেন। বেগুনে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে এবং থাকে খুবই সামান্য ক্যালোরি। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন তারা খাবার তালিকায় বেগুন রাখুন। রান্না করে অথবা ভর্তা করে যে কোনো ভাবেই খেতে পারেন বেগুন। চাইলে সেদ্ধ কিংবা বার-বি-কিউ করেও এর স্বাদে নিয়ে আসতে পারেন বৈচিত্র্য। পাকস্থলী, কোলন, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদ্রান্ত্রের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বেগুনে রয়েছে রিব্লোফ্ল্যাভিন নামক উপাদান। এ উপাদান জ্বর হওয়ার পরে মুখ ও ঠোঁটের কোণের ঘা, জিহ্বার ঘা প্রতিরোধ করে। দূর করে জ্বর জ্বর ভাব। বেগুন ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’, ‘ই’ এবং ‘কে’ সমৃদ্ধ সবজি। জ্বর হওয়ার পর মুখের বিস্বাদও দূর করে বেগুন। তাই জ্বরের পর বেগুনের তরকারি খেলে মুখের স্বাদ ফিরে পাওয়া যেতে পারে। বেগুন ক্ষত স্থান দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। বেগুনে আছে প্রচুর পরিমান ভিটামিন ‘ই’ এবং ‘কে’। এরা শরীরের ভেতর রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে রক্ত চলাচল কার্যক্রমকে সচল রাখে। বেগুন ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সবজি। বেগুনের ভিটামিন ‘এ’ চোখের জন্য খুব উপকারী। এটি চোখের যাবতীয় রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। বেগুনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ কাঁচা বেগুন খাওয়া উচিৎ নয়, তাতে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। যাদের অ্যালার্জি জনিত সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য বেগুন ভীষণ ক্ষতিকর। এছাড়াও, যাঁরা আর্থ্রাইটিস বা সন্ধিপ্রদাহে ভুগছেন, বেগুন তাঁদের জন্য ক্ষতিকর। বেগুন অনেকের গলদেশ ফোলা, বমি ভাব, চুলকানি এবং চামড়ার ওপর ফুসকুড়ির সমস্যা তৈরি করে থাকে। তাই মায়েদের উচিত বেগুন খাওয়ানোর সময় বাচ্চাদের ওপর এর প্রভাব লক্ষ করা। ডায়রিয়া চলাকালিন সময়ে বেগুন খাওয়া ঠিক না। ডায়রিয়া ভালো হলে বেগুন খাওয়া উচিত। সূত্রঃ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহিত বিভাগঃ স্বাস্থ্য সেবা । এই পোষ্টটি ৬৩৬ বার পড়া হয়েছ

3294 views

Related Questions