1 Answers
বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাঃ
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তার পছন্দমতো মন্ত্রীদের নিয়ে সরকার গঠন করেন। প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহন করেন না। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপ-মন্ত্রীদের নিয়োগ ও তাদের দপ্তর বণ্টন করেন।রাষ্ট্রপতি এটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব রক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন।
সংসদ ও আইন বিষয়ক ক্ষমতাঃ রাষ্ট্রপতি সংসদ আহবান করেন। প্রতিটি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের ও প্রতি নতুন বছরের অধিবেশনের সূচনায় রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দান করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর সংসদ আলোচনা করে। সময়ে সময়ে তিনি সংসদে বাণীও প্রেরণ করেন।
অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতাঃ সংসদ ভেঙ্গে গেলে বা অধিবেশন না না থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। এ অধ্যাদেশ সংসদের আইনের মতো ক্ষমতাসম্পন্ন হয়।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ করেন। প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না। সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।
ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতাঃ রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা রয়েছে যেকোনো দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার। কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যে কোনো দণ্ড তিনি মার্জনা করতে পারেন।
অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতাঃ সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত কোনো বিল সংসদে উত্থাপন করতে হলে তাতে রাষ্ট্রপতির সুপারিশ লাগে।
প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ক্ষমতঃ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগসমূহের সর্বাধিনায়কতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত । তিনি বহিঃশুত্রুর আক্রমণ মোকাবিলার জন্য যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করতে পারেন।
তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান।