পেঁয়াজ কি সত্যিই চুলপড়া রোধ করে?

Md Ariful Islam
বিএসসি(সিএসই), এমবিএ(মার্কেটিং)
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Bissoy.com 3333
4828 views

2 Answers

অনেকেই চুলপড়ার সমস্যায় ভোগেন। তবে দিনে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়াকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। চুলপড়া কারো কারো ক্ষেত্রে মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেকের আত্মবিশ্বাসও কমে যায় এর কারণে।

চুলপড়া প্রতিরোধে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। এর মধ্যে পেঁয়াজের রসের ব্যবহার অন্যতম একটি পদ্ধতি। তবে পেঁয়াজের রস কি আসলেই চুলপড়া রোধ করে, চুল গজাতে সাহায্য করে? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ ডাইজেস্ট জানিয়েছে এর উত্তর। আসুন জানি আসলে কী হয় পেঁয়াজের রস চুলে ব্যবহার করলে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুলে পেঁয়াজের রস ব্যবহার করা ভালো একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া পেঁয়াজ চুলপড়া প্রতিরোধ করে এবং চুল গজাতে সাহায্য করে।

বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়, পেয়াঁজ চুলপড়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি চুলের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। যেমন : খুশকি, ছত্রাক সংক্রমণ ইত্যাদি। চুলে পেঁয়াজের রসের ব্যবহার অকালে চুল পাকা রোধেও সাহায্য করে।

পেঁয়াজের রসের গুণ

অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে, আসলেই পেঁয়াজ কীভাবে এই বিষয়গুলোতে সাহায্য করে? বিশেষজ্ঞরা বলেন, পেঁয়াজে ভালো মাত্রায় সালফার উপাদান রয়েছে। যখন পেঁয়াজের রস লাগানো হয় তখন মাথায় রক্তসঞ্চালন বাড়ে। সালফার কোলাজেন টিস্যুর উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করে। এই টিস্যু চুল গজানোর জন্য প্রয়োজন। এ ছাড়া রক্ত সঞ্চালন বাড়লে স্ক্যাল্পের ফলিকল পুষ্টি পায়। এটি চুল গজাতে সাহায্য করে।

সালফারের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। এটি ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া- এগুলোকে প্রতিরোধ করে। ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ অনেক সময় চুলপড়ার জন্য দায়ী হয়। পেঁয়াজের রস চুল মজবুত করতে সাহায্য করে; চুল ভাঙ্গা ও চুল পাতালা হওয়া প্রতিরোধ করে। তাই পেঁয়াজের রস নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলপড়া প্রতিরোধ হয়।

তবে চুল পড়ারও বিভিন্ন কারণ রয়েছে। এর মধ্যে খাবারদাবার, জীবনযাপনের ধরন বা জিনগত কারণ ইত্যাদি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, চুলপড়া রোধে অনেক সময় ওষুধও দরকার হয়। তবে বেশির ভাগ চুলপড়া প্রতিরোধে পেঁয়াজের রস মাখার এই ঘরোয়া পদ্ধতিটি বেশ কার্যকরী।

4828 views Answered

পেঁয়াজ ও রসুনঃ সালফার (sulphur) এমন একটি উপাদান যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। রসুন ও পেঁয়াজের মধ্যে প্রচুড় পরিমাণে সালফার থাকে যা চুলের জন্য খুবই উপকারী। তাই যেভাবে আপনি রসুন ও পেঁয়াজ ব্যবহার করে চুল পড়া রোধ করতে পারেন তা হলঃ # সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে রাখুন ১ ঘন্টা। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি সপ্তাহে ২ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করুন। # রঁসুনের ৫/৬ টি কোয়া নিয়ে বেঁটে নিন। এবার এই বাঁটা অংশটি নারিকেল তেলে কিছুক্ষন চুলায় ফুটিয়ে নিন। মিশ্রনটি ঠান্ডা হলে মাথার ত্বকে লাগান। সপ্তাহে ২/৩ বার করে নিয়মিত ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। আলুঃ আলু চুলের যত্নেও ব্যবহার করা যায়। যেভাবে আলু ব্যবহার করবেনঃ # একটি জ্যুসার বা ব্লেন্ডারে ৩ টি আলু নিয়ে এর রস সংগ্রহ করুন। এবার আলুর রসে একটি ডিমের কুসুম, কিছু পরিমাণ পানি ও এক চা চামচ মধু মিশিয়ে নিন ভালো করে। ভেজা চুলে এই মিশ্রণটি লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এরপর হাল্কা কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই প্রক্রিয়াটি সপ্তাহে একবার করে কয়েক মাসের জন্য টানা ব্যবহার করে দেখুন। দেখবেন চুল পড়া কমে গেছে। মেহেদি পাতাঃ ন্যাচারাল ভাবে চুল রঙ ও চুলকে কন্ডিশন করার পাশাপাশি মেহেদি পাতা ব্যবহার করে চুল পড়া কমানো ও সম্ভব। যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ # ২৫০ মিলি সরিষার তেল নিন একটি টিনের কৌঁটায়। এবার এতে ৬০ গ্রাম মেহেদি পাতা (ধোয়া ও শুকনো) দিয়ে চুলার জ্বাল দিন যতক্ষন না পাতাগুলো পুড়ে যায়। এবার মিশ্রণটি একটি মসলিনের কাপড়ে ছেকে নিয়ে শুধু তেলটি রাখুন। এই তেল নিয়মিত মাথার ত্বকে ও চুলে লাগাবেন। # এক কাপ শুকনো মেহেদি পাতার গুড়ার সাথে আঁঁধা কাপ দই মিশিয়ে নিন ভালো করে। মিশ্রণটি চুলে লাগান এবং যতক্ষণে চুল না শুকিয়ে যায় অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। নারকেলের দুধঃ নারকেলের দুধ চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য খুব কার্যকর, তাই এটি যেভাবে ব্যবহার করবেনঃ # নারকেলের দুধ প্রোটিন, আয়রন, পটাসিয়াম ও অপরিহার্য চর্বিতে পরিপূর্ণ। চুল ছাটাই ও ভাঙ্গন রোধে এটি সাহায্য করে। তাই আপনি যদি সুন্দর চুল পেতে চান তাহলে নারকেলের দুধ রাতে মাথার ত্বকে লাগিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগ দিয়ে মাথা ঢেকে রাখুন। সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। এটি খুবই কার্যকর একটি উপায়। # ডিম আরেকটি উপাদান যা সালফারে পরিপূর্ণ। তাই ডিম যেভাবে ব্যবহার করতে পারেনঃ # ১ টি ডিমের সাদা অংশের সাথে ১ চা চামচ অলিভ অয়েল বিট করে নিন। এটি মাথার ত্বকে ও চুলে লাগান। ১৫-২০ মিনিট লাগিয়ে রেখে চুলে শ্যাম্পু করে নিন। গ্রীন টিঃ গ্রীন টি শুধু খাওয়ার জন্যই নয় চুলের জন্যও খুব উপকারী কেননা এতে প্রচূড় পরিমাণে আন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। কুসুম গরম গ্রীন টি মাথার ত্বকে ১ ঘন্টা লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। চুলের বৃদ্ধির জন্য এটি ব্যবহার করতে পারেন। এন্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু বন্ধ করুনঃ যদি আপনার চুল পড়ে তবে আজই ব্যবহার করা বন্ধ করুন আমাদের দেশে খুব জনপ্রিয় কিছু এন্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু, যেমন head n shoulder, Pantene, Clear। মনে রাখবেন, সব এন্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুই যাদের চুল পড়ে তাদের জন্য ভয়ঙ্কর ক্ষতিকর। এসব প্রক্রিয়ার পাশাপাশি চুলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেই জিনিসটি সেটি হল পানি। তাই বেশি বেশি পানি পান করবেন।

4828 views Answered

Next steps