2 Answers

অবশ্যই পাবে। সন্তানরা তাদের বাবার যা পাওয়ার ছিলো সে অংশের ভাগ পাবে। তাদের দাদা তাদের এ অংশ দিতে বাধ্য।

14418 views Answered

যদি বাবার পূর্বে ছেলে মারা যায় এবং বাবা তার জীবদ্দশায় তার ওয়ারিশদের মাঝে সম্পত্তি বণ্টন করে দিতে চায় তাহলে ইসলামী শরীয়াতের বিধান হলো, ছেলে মেয়েদের মাঝে সমান হারে বণ্টন করে দিবে। এবং অন্যান্য ওয়ারিশদের মাঝে ফারায়েজের সাহাম তথা অংশ অনুপাতে বণ্টন করে দিবে। তবে মরণোত্তর ওয়ারিশদের মধ্যকার সম্ভাব্য বিবাদ এড়ানোর লক্ষে মিরাস অনুসারে বণ্টন করারও অবকাশ রয়েছে। তবে জীবদ্দশায় সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে যদি অসচ্ছলতা, সেবা শুশ্রুষা বা ধর্মীয় বিষয়ে অগ্রগামিতা কিংবা শরীয়তসম্মত অন্য কোনো কারণে ছেলে মেয়েদের কাউকে প্রাধান্য দেয়া হয় তাহলে তারও অবকাশ রয়েছে। আর ইসলামী শরীয়ার আইন মতে ছেলের সন্তান তথা দাদার দৌহিত্রগণ দাদার ওয়ারিশ হয় না। তাই দাদার সম্পদে দৌহিত্রদের নির্দিষ্ট কোনো অংশ নেই। এবং এক্ষেত্রে মৃত ছেলে বিবেচ্যও হবে না। কারণ মৃত ব্যক্তি কারো ওয়ারিশ হতে পারে না। যদি মৃত ব্যক্ত ওয়ারিশ গণ্য হতো তাহলে সে সূত্রে তার ছেলেরা দাদার সম্পদে হারে হারে নির্দিষ্ট একটা অংশ পেত। কিন্তু ইসলামী আইনে মৃত কাউকেই ওয়ারিশ হিসেবে গণ্য করা হয় নি। এর অর্থ এই নয়, তাদের কোনো অংশ প্রদান করা যাবে না। বরং এক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়ত তাদের সম্পদ প্রদানে উৎসাহিত করেছে। এটা একান্তই মানবিক ব্যাপার। এক্ষেত্রে দাদার কর্তব্য হলো, তার পিতৃহীন দৌহিত্রদের বেশি পরিমাণে সম্পদ দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। আর যদি দাদার ইন্তেকালের পর তার সম্পত্তি বণ্টণ করা হয় তাহলে দৌহিত্রগণ তাদের পিতা বেঁচে না থাকায় দাদার সম্পদে নির্দিষ্ট কোনো অংশ পাবে না। বরাং দাদার জীবিত ওয়ারিশ যারা আছে তারাই পাবে। এক্ষেত্রে অন্যান্য ওয়ারিশদের অনুমতি ছাড়া দৌহিত্রদের সম্পদ প্রদান করা হলে গুনাহ হবে। তবে ওয়ারিশদের জন্য উচিত হলো, সর্বসম্মতিক্রমে দৌহিত্রদেরও কিছু অংশ দেয়া। এটা হলো ইসলামী শরীয়াতের বিধান। আমাদের দেশীয় আইনে যদিও দাদার সম্পদে দৌহিত্রদের ওয়ারিশ গণ্য করা হয়েছে। এখানে আমাদের দেশীয় আইন এবং ইসলামী আইনের মাঝে বৈপরিত্য সৃষ্টি হয়েছে। এখন কে কোন আইন ফ্লো করবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। দেশীয় আইন ফ্লো করলে পরকালীন দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা থেকে যাবে এই যা পার্থক্য। তথ্যসূত্র : সুনানে বাইহাকী কুবরা, হাদীস ১২৩৫৭, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৫৪৪, তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ২/৪৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০, ফাতাওয়া কাযীখান ৩/২৭৯, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৯১, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৩৭, আদদুররুল মুখতার ৫/৬৯৬, ফাতাওয়া হাক্কানিয়া ৬/৫৩০, ফাতাওয়া রহীমিয়া ৯/৩১২, আহসানুল ফাতাওয়া ৯/৩১০

14418 views Answered

Related Questions

Next steps