8 Answers
রবীন্দ্রনাথ সহ পৃথিবীর বিখ্যাত অনেকেই ছাত্র জীবনে বিয়ে করেছেন । আসল কথা হল সুযোগ থাকলে, পড়াশোনার ক্ষতির সম্ভাবনা না থাকলে ছাত্রজীবনেই বিয়ে করা উত্তম । S,S.C পাশ করে বিয়ে করেছি । তারপর এম.এ পর্যন্ত, আইন ও কিছুদিন পড়েছি । কৈ আমারতো আলহামদুলিল্লাহ কোন প্রতিবন্ধকতাই ঠেকাতে পারেনি । তবে পরিবারের লোকজনের সাহায্য ছাড়া কিন্তু এগুতে পারবেন না । #9
ছাত্র জীবনে বিয়ে করা অবশ্যই ঠিক নয়। কেউ হয়তো বিখ্যাত ব্যক্তিকে দেখিয়ে বলতে পারে উনিতো ছাত্র অবস্থায় বিয়ে করেছেন।তবে বলব আপেল নিয়ে গবেষনা করলেই নিউটন হওয়া যায়না। ছাত্রাবস্থায় বিয়ে করলে সংসারের ঝামলায় আপনি পড়াশুনার এনার্জি হারিয়ে ফেলবেন। বাংলাদেশের যা শিক্ষা ব্যবস্থা তাতে হয়তো টেনে টুনে পাশ করতে পারবেন তবে এই রেজাল্ট কোথাও খাটবেনা। তাই এটাই উচিত পড়াশুনা শেষ করে,চাকরি না পান এটা বড় কথা নয় তবে পড়াশুনা শেষ করে বিয়ে করাটাই শ্রেয়।
ছাত্রজীবনে বিবাহ করা ঠিক কিনা, এটা সার্বিকভাবে বলে দেয়া যাবে না। কারো ক্ষেত্রে ছাত্রজীবনে বিবাহ করা লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কারো ক্ষেত্রে বিবাহ করাটা পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধির কারণ হয়। যদিও বিবাহের পর প্রথম দু’এক মাস পড়াশোনায় কিছুটা ক্ষতি হয়ে যায়।
যদি কোন ছাত্র পড়াশোনা চলাকালে বিবাহ করে এবং তার ভিতর আত্মনিয়ন্ত্রণের গুণ বিদ্যমান থাকে, পাশাপাশি পারিবারিকভাবে সাপোর্ট পায় তাহলে তার জন্য ছাত্রজীবনে বিবাহ ভালো। তাতে সে অন্য মেয়ের সাথে অযথা সময় নষ্ট না করে পড়াশোনায় সময় দিতে পারবে।
ছাত্র অবস্হায় বিবাহ করা ঠিক যদিও নয়,, তবে বয়স হলে করতে পারবেন,,, কিন্তু মাথায় রাখবেন পরিবার এর কথা,, যদি আপনি মনে করেন বিবাহ করে আপনার খরচ +স্ত্রীর খরচ চালাতে পারবেন তবে বিবাহ করুন । তা নাহলে আগে পড়াশুনা শেষ করুন।।
ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে যে নির্দেশনা দিয়েছে তা এই হাদিস থেকে অনুমান করা যায়।হাদিস টি হল; يا معشر الشباب من استطاع منكم البأة فاليتزوج অর্থ,হে যুবক সম্প্রদায় তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে,সে যেন বিবাহ করে। বুখারী শরীফ হাদীস নং ৫০৬৬, মুসলিম শরীফ হাদীস নং ১৪০০, হাদিসে সামর্থ্য বলতে যৌন ক্ষমতা থাকা,খোরপোষের ব্যবস্থা করতে পারা বুঝানো হয়েছে। এগুলো থাকার সাথে যদি ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশংকা না থাকে তাহলে তার জন্য বিবাহ করা সুন্নাত। কিন্তু এগুলোর সাথে যদি ব্যাভিচারে লিপ্ত হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে তাহলে বিবাহ করা ফরজ হয়ে যায়। সুতরাং যে যে কালেই থাকুক না কেন উক্ত নীতিমালার যে শাখা তার মধ্যে পাওয়া যাবে সেই অনুপাতে তার জন্য হুকুম আরোপ হবে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে বিবাহের পর ক্যারিয়ার গঠন কঠিন হতে পারে তাই ব্যাভিচারের আসক্তি ইসলামী নিয়ম অনুপাতে কমিয়ে ক্যারিয়ার গঠন করার পর বিবাহ করা ভালো হবে।
ছাত্র জিবনে বিবাহ করা যাবে না এমন বিধান ইসলাম ধর্মে নেই।তাই বলা যেতে পারে যে, ছাত্র জিবনে বিবাহ করা যাবে।তবে সামার্থ্য থাকতে হবে বিবাহ করার।নবী সাঃ বলেছেন, তোমরা দুটি জিনিষের জিম্মাদারী করলে আমি তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করানোর জিম্মাদার হব। আর তা হলোঃ মুখের হিফাযত এবং লজ্জাস্থানের হিফাযত করা।আর লজ্জাস্থানের হিফাযতের জন্য বিবাহের চেয়ে উত্তম কোনো কিছু হতে পারে না।তাই ছাত্রজিবনে সামার্থ্য থাকলে বিবাহ করা উচিত।