30388 views

2 Answers

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিজিক দান করি এবং তাদেরও আমিই রিযিক দান করব।’ [সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১]

মহান আল্লাহ পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করে আদি পিতা আদমকে [আ.] সৃষ্টি করেন। কিন্তু মাতা হাওয়াকে [আ.] সৃষ্টির কোন প্রয়োজন ছিল কি? যদি একটু চিন্তা করি, তবে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহ আদম [আ.]-এর একাকীত্ব দূর করতে জীবন সঙ্গিনী হিসাবে হাওয়াকে [আ.]-কে শুধু সৃষ্টি করেননি। বরং আরও একটি বিশেষ কারণে তাকে সৃষ্টি করেছেন। তাহল মহান আল্লাহ তাদের ঔরশজাত সন্তান দ্বারা সমগ্র পৃথিবী কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে দিতে চেয়েছেন। আর সমস্ত মানব তার (আল্লাহর) একত্ব ঘোষণা পূর্বক দাসত্ব করবে। এ হল আদম ও হাওয়া [আ.]-এর সৃষ্টির একটি একান্ত উদ্দেশ্য। আমরা সেই অনাগত সন্তানদের নির্বিঘ্নে হত্যা করে চলেছি। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিজিক দান করি এবং তাদেরও আমিই রিযিক দান করব।’ [সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১]

আলোচ্য আয়াতে খাবারের অভাবের আশঙ্কা অনাগত সন্তানকে হত্যা করতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট নিষেধ করেছেন। আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের রিজিক দান করি এবং তাদেরও আমিই দিব’। ‘আমিই দিব’ এই প্রতিশ্রুতির ব্যাখ্যা হল- অনাগত সন্তানদের রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তার খাদ্য ভাণ্ডারে খাবারের হিসাব অকল্পনীয়। আবার তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মারাত্মক ভুল।’ [সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ৩১]

তিনি যথার্থই বলেছেন, অনাগত সন্তান হত্যা করা বিরাট ভুল। ভূপৃষ্ঠে একচতুর্থাংশ স্থল, বাকী সব সাগর, মহাসাগর। কিন্তু বর্তমানে মহাসাগরে হাওয়াইন দ্বীপপুঞ্জের মত ছোট-বড় দ্বীপ জেগে উঠেছে এবং নদী ভরাট হয়ে চর জেগে উঠেছে। এভাবে আমাদের আবাদী জমি ও বাসস্থান বাড়ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও সুখ-শান্তির উপাদান ও বাহন।’ [সুরা কাহাফ, আয়াত : ৪৬]

আল্লামা আলুসী [রহ.] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ধন-সম্পদ হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর উপায়। আর সন্তান হচ্ছে- বংশ তথা মানব প্রজাতি রক্ষার মাধ্যম। [পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৪০] জনৈক রুশ লেখক তার Biological Tragedy of Woman গ্রন্থে বলেছেন, নারী জন্মের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানববংশ রক্ষা করা। [ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৫৮] যৌন প্রেরণার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য মানববংশ বৃদ্ধির সঙ্গে দেহের প্রতিটি অঙ্গ স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে তৎপর। নারী দেহের বৃহত্তম অংশ গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মানোর উদ্দেশ্যেই সৃষ্ট। [The Psychology of Sex, P-17]

মা হাওয়া [আ.] সহ পৃথিবীর সমস্ত নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য মানব বংশ রক্ষা ও সন্তান উৎপাদনের মাধ্যমে পারিবারিক কাঠামোতে সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালন। আযল-এর বিধান প্রাচীনকালে আরব সমাজে ‘আযল’ করার যে প্রচলন ছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কোনো আলোচনা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হাদিসে স্পষ্ট আলোচনা আছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হল- হযরত জাবির [রা.] বলেন, ‘আমরা রাসুলের জীবদ্দশায় ‘আযল’ করতাম অথচ তখনও কুরআন নাজিল হচ্ছিল।’ [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস নং : ৩১৮৪) অর্থাৎ পবিত্র কুরআনে ‘আযল’ সম্পর্কে কোনো নিষেধবাণী আসেনি।

রাসুল [সা.] বলেছেন, ‘তুমি কি সৃষ্টি কর? তুমি কি রিজিক দাও? তাকে তার আসল স্থানেই রাখ, সঠিকভাবে তাকে থাকতে দাও। কেননা এ ব্যাপারে আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়ছালা রয়েছে।’ [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস নং: ৩১৮৬]

ইমাম কুরতুবী বলেছেন, ছাহাবীগণ রাসুল [সা.] -এর উক্ত কথা থেকে নিষেধই বুঝেছিলেন। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় রাসুল [সা.] যেন বলেছেন, তোমরা ‘আযল’ কর না, তা না করাই তোমাদের কর্তব্য।’ [সিলসিলা ছহীহাহ, হাদিস নং : ৫৭৫, ছহীহুল জামে, হাদিস নং : ৪০৩৮] রাগিব ইসফাহানীর [রহ.] মতে, ‘আযল’ করে শুক্র বিনষ্ট করা এবং তাকে তার আসল স্থানে নিক্ষেপ না করা স্পষ্ট নিষেধ। [পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩৩]

মুয়াত্তা গ্রন্থ প্রণেতা ইমাম মালেক [রহ.] বলেন, ইবনে ওমর [রা.] ছিলেন তাদের অন্যতম যারা ‘আযল’ পছন্দ করতেন না। [ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ১০১-১০২] উল্লেখ্য عزل (আযল) অর্থ হল, পুরুষাঙ্গ স্ত্রীর গোপনাঙ্গের ভেতর থেকে বের করে নেওয়া যেন শুক্র স্ত্রী অঙ্গের ভেতরে স্খলিত হওয়ার পরিবর্তে বাইরে স্খলিত হয়। [পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩২]

আইয়ামে জাহেলিয়াতে যেসব কারণে সন্তান হত্যা করা হত, বর্তমান যামানায় জন্মনিয়ন্ত্রণও ঠিক একই কারণে গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু সোনালী যুগের ‘আযল’ -এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে যুগে তিনটি কারণে মুসলমানদের মধ্যে ‘আযল’-এর সাময়িক প্রচলন ছিল।

এক. দাসীর গর্ভে নিজের কোন সন্তান জন্মানো তাঁরা পছন্দ করতেন না, সামাজিক হীনতার কারণে।

দুই. দাসীর গর্ভে কারো সন্তান জন্মালে ওই সন্তানের মাকে হস্তান্তর করা যাবে না, অথচ স্থায়ীভাবে দাসীকে নিজের কাছে রেখে দিতেও তারা প্রস্ত্তত ছিল না।

তিন. দুগ্ধপায়ী শিশুর মা পুনরায় গর্ভ ধারণ করার ফলে প্রথম শিশুর স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কা অথবা পুনরায় সন্তান গর্ভে ধারণ করলে মায়ের স্বাস্থ্যের বিপর্যয়ের আশঙ্কা, কিংবা সন্তান প্রসবের কষ্ট সহ্য করার অনুপযুক্ত তা চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযোগ্য বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এই তিনটি কারণের মধ্যে প্রথম দু’টি কারণ বর্তমান যুগে বিলুপ্ত হয়েছে। শেষের তিন নম্বর কারণ ব্যতিরেকে সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য ও নিজের আমোদ-প্রমোদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ করা বৈধ নয়। পরিশেষে বলব, জন্মনিয়ন্ত্রণ জনসংখ্যা বিস্ফোরণ সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। বরং জনসংখ্যাকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর ও উৎপাদন বাড়ানো, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপকরণাদির উন্নয়ণের মধ্যেই রয়েছে এ সমস্যার প্রকৃত সমাধান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

30388 views

নির্ভর করছে আপনি কোন পদ্ধতি এপ্লাই করবেন তার উপর। যেসব পদ্ধতিতে নিষেক হয়না যেমন: কনডম, বাইরে বীর্যপাত এগুলো যায়েজ আছে। তবে নিষেকের পরে কাজ করে যেমন: পিল, ইমারজেন্সি পিল, এবশান এগুলো নাজায়েজ। যদিনা গর্ভধারিণীর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। স্থায়ী জন্মবিরতিও নাজায়েজ।

30388 views

Related Questions