user-avatar

RafiaBegum

◯ RafiaBegum

সপ্তাহে ৭ দিনের প্রতিটা দিনের নামের পেছনেই রয়েছে প্রাচীন মানুষের, তৎকালীন সামাজিক বিশ্বাসের ধ্যান ধারনার প্রতিফলন। সপ্তাহের ৭ দিনের নামের নামকরণের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হল। আজ যেহেতু বৃহস্পতিবার, কাজেই বৃহস্পতিবারের নামকরণ দিয়েই শুরু করা যাক:-

 

Thursday/বৃহস্পতিবার:

Thor’s Day. বজ্র-দেবতা থরের দিন। প্রাচীন জার্মান বজ্র-দেবতা থর (Thor), যাকে Thunderও বলা হয়। জার্মান বজ্র-দেবতা থর এর রোমান ভার্শন জুপিটার (Jupiter) এবং গ্রীক ভার্শন জিউস (Jeus)। অবশ্য অঞ্চলভেদে এই একই দেবতার অস্ত্রের পার্থক্য রয়েছে। যেমন জার্মানদের কাছে থরের রয়েছে বিশাল হাতুড়ি।যে হাতুড়ি তৈরি একটি তারা দিয়ে।থর যখন রেগে যায় তখন তার হাতুড়ি ছুড়ে মারে এবং তখন বিদ্যুৎ চমকায়। তারপর থর ছাগল চালিত একটি গাড়িতে চড়ে বসে যে গাড়ির চাকার শব্দই হচ্ছে বিদ্যুৎ চমকানোর শব্দ। জিউস বা জুপিটারের হাতে হাতুড়ি দেখা যায়না। দেখা যায় সরাসরি বিদ্যুৎ।বজ্র-দেবতার  প্রতীক বৃহস্পতি গ্রহ (Jupiter).

 

Friday/শুক্রবার:

Friday হচ্ছে Firgg’s Day. এ্যাংলো-এ্যাক্সোন  প্রেমের দেবী ও সবথেকে সুন্দরী দেবী Fríge. জার্মান নাম Frigg, যিনি সবচেয়ে শক্তিশালী দেবতা Odin এর স্ত্রী। রোমানদের কাছে Venus এবং গ্রীক ভার্শনে Aphrodite.  Venus অর্থাৎ শুক্র গ্রহ হচ্ছে ফ্রিগ দেবীর প্রতীক। ফ্রিগ দেবী সকল দেব-দেবী ও মানুষের প্রেম পরিণয়সহ সমস্ত প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রার্থনার দিন শুক্রবার।

 

Saturday/শনিবার:

Saturday হচ্ছে Saturn’s Day. ঝড়-বৃষ্টি-তুফান নিয়ন্ত্রণকারী দেবতা স্যাটার্ন (Saturn) যার হাতে চাষাবাদ নিয়ন্ত্রিত। প্রতীক শনি গ্রহ। প্রার্থনার দিন শনিবার।

 

Sunday/রবিবার:

নামেই বোঝা যাচ্ছে Sunday হচ্ছে sun’s day. বাংলায় রবি’র দিন। দক্ষিণ ইউরোপের প্রাচীন মানুষের বিশ্বাস ছিল সূর্য দেবতা প্রতিদিন একটি আলোক পিণ্ড আকাশে ছুড়ে দিয়ে জগত আলোকময় করে। ল্যাটিন ভাষায় এর নাম Solis. সূর্য দেবতার প্রার্থনার দিন ছিল Dies Solis অর্থাৎ সূর্যের দিন। উত্তর ইউরোপে এর নাম ছিল ‘সাননানজায়েজ (Sunnandæg)  আর বর্তমানে এই Sunnandæg থেকেই Sunday. ইউরোপিয়ান অন্যান্য ভাষায় এটাকে The Lord’s day নামেও অভিহিত করা হতো।

 

Monday/সোমবার:

Moon’s day অর্থাৎ চাদের দিন। চন্দ্র দেবতার প্রার্থনার দিন। প্রাচীন ইউরোপীয় ভাষায়‘মোনানডায়েচ (Mōnandæg) । এটি ল্যাটিন শব্দ Dies Lunae.

 

Tuesday/মঙ্গলবার:

প্রাচীন রোমান ও জার্মান যুদ্ধের দেবতা টিউ (Tiw) যার হাত মাত্র একটি। সে যুদ্ধে মানুষকে সাহায্য করে, মঙ্গল করে এবং যারা তার উপাসনা করে সেইসব যোদ্ধাদের সেবাযত্ন করার জন্য একদল স্বর্গীয় নারী পাঠায়। মঙ্গলকারী দেবতা Tiw এর প্রার্থনার দিন Tuesday, বাংলায় মঙ্গলবার। ল্যাটিন ভাষায় Dies Martis মানে Day of Mars. টিউ দেবতার প্রতীক মঙ্গল গ্রহ (Mars).

 

Wednesday/বুধবার:

Wednesday হচ্ছে Wodan’s day.  ল্যাটিন ভাষায় dies Mercurii অর্থাৎ Day of Mercury. প্রাচীন জার্মানের সবথেকে ক্ষমতাশালী দেবতা উডেন (Wodan) যে ছিলো অত্যন্ত জ্ঞানপিপাসু। জ্ঞান আহরণ করতে করতে তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়। তার নষ্ট চোখটি সে ঢেকে রাখে মাথায় বিশাল কালো হ্যাট দিয়ে। তার দুই ঘাড়ে থাকতো দুটি কালো রংয়ের পাখি যারা সন্ধ্যার পর সারা পৃথিবী ঘুরে তার জন্য তথ্য সংগ্রহ করে দিতো আর দেবতা স্বর্গে বসেই সব খবর পেয়ে যেত।

 

 

সভ্যতার শুরু থেকেই প্রাচীনকালের মানুষ অনেককিছুই আবিষ্কার করেছে এখনও আমরা সরাসরি ব্যাবহার করে আসছি। যেমন প্রাচীনকালের মানুষের সেই সপ্তাহ মাস দিন গণনার নিয়মেই আমরা এখনও গণনা করি। তাদের দেওয়া সপ্তাহের নামের পেছনের কারণ এখন আমাদের কাছে অযৌক্তিক ও কাল্পনিক মনে হলেও তাদের পদ্ধতিটা কিন্তু বেশ মজাদার।

 

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেটে বিভিন্ন সাইট ও  উইকিপিডিয়া।

এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিজিক দান করি এবং তাদেরও আমিই রিযিক দান করব।’ [সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১]

মহান আল্লাহ পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করার ইচ্ছা পোষণ করে আদি পিতা আদমকে [আ.] সৃষ্টি করেন। কিন্তু মাতা হাওয়াকে [আ.] সৃষ্টির কোন প্রয়োজন ছিল কি? যদি একটু চিন্তা করি, তবে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, মহান আল্লাহ আদম [আ.]-এর একাকীত্ব দূর করতে জীবন সঙ্গিনী হিসাবে হাওয়াকে [আ.]-কে শুধু সৃষ্টি করেননি। বরং আরও একটি বিশেষ কারণে তাকে সৃষ্টি করেছেন। তাহল মহান আল্লাহ তাদের ঔরশজাত সন্তান দ্বারা সমগ্র পৃথিবী কানায় কানায় পরিপূর্ণ করে দিতে চেয়েছেন। আর সমস্ত মানব তার (আল্লাহর) একত্ব ঘোষণা পূর্বক দাসত্ব করবে। এ হল আদম ও হাওয়া [আ.]-এর সৃষ্টির একটি একান্ত উদ্দেশ্য। আমরা সেই অনাগত সন্তানদের নির্বিঘ্নে হত্যা করে চলেছি। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা কর না দারিদ্রের কারণে, আমিই তোমাদের রিজিক দান করি এবং তাদেরও আমিই রিযিক দান করব।’ [সুরা আনআম, আয়াত : ১৫১]

আলোচ্য আয়াতে খাবারের অভাবের আশঙ্কা অনাগত সন্তানকে হত্যা করতে মহান আল্লাহ স্পষ্ট নিষেধ করেছেন। আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের রিজিক দান করি এবং তাদেরও আমিই দিব’। ‘আমিই দিব’ এই প্রতিশ্রুতির ব্যাখ্যা হল- অনাগত সন্তানদের রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। তার খাদ্য ভাণ্ডারে খাবারের হিসাব অকল্পনীয়। আবার তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা মারাত্মক ভুল।’ [সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত : ৩১]

তিনি যথার্থই বলেছেন, অনাগত সন্তান হত্যা করা বিরাট ভুল। ভূপৃষ্ঠে একচতুর্থাংশ স্থল, বাকী সব সাগর, মহাসাগর। কিন্তু বর্তমানে মহাসাগরে হাওয়াইন দ্বীপপুঞ্জের মত ছোট-বড় দ্বীপ জেগে উঠেছে এবং নদী ভরাট হয়ে চর জেগে উঠেছে। এভাবে আমাদের আবাদী জমি ও বাসস্থান বাড়ছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মহান আল্লাহ বলেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য ও সুখ-শান্তির উপাদান ও বাহন।’ [সুরা কাহাফ, আয়াত : ৪৬]

আল্লামা আলুসী [রহ.] এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ধন-সম্পদ হচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর উপায়। আর সন্তান হচ্ছে- বংশ তথা মানব প্রজাতি রক্ষার মাধ্যম। [পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৪০] জনৈক রুশ লেখক তার Biological Tragedy of Woman গ্রন্থে বলেছেন, নারী জন্মের উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানববংশ রক্ষা করা। [ইসলামের দৃষ্টিতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ৫৮] যৌন প্রেরণার অন্তর্নিহিত লক্ষ্য মানববংশ বৃদ্ধির সঙ্গে দেহের প্রতিটি অঙ্গ স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে তৎপর। নারী দেহের বৃহত্তম অংশ গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মানোর উদ্দেশ্যেই সৃষ্ট। [The Psychology of Sex, P-17]

মা হাওয়া [আ.] সহ পৃথিবীর সমস্ত নারী সৃষ্টির উদ্দেশ্য মানব বংশ রক্ষা ও সন্তান উৎপাদনের মাধ্যমে পারিবারিক কাঠামোতে সন্তানের সুষ্ঠু লালন-পালন। আযল-এর বিধান প্রাচীনকালে আরব সমাজে ‘আযল’ করার যে প্রচলন ছিল। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে কোনো আলোচনা খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে হাদিসে স্পষ্ট আলোচনা আছে। নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হল- হযরত জাবির [রা.] বলেন, ‘আমরা রাসুলের জীবদ্দশায় ‘আযল’ করতাম অথচ তখনও কুরআন নাজিল হচ্ছিল।’ [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস নং : ৩১৮৪) অর্থাৎ পবিত্র কুরআনে ‘আযল’ সম্পর্কে কোনো নিষেধবাণী আসেনি।

রাসুল [সা.] বলেছেন, ‘তুমি কি সৃষ্টি কর? তুমি কি রিজিক দাও? তাকে তার আসল স্থানেই রাখ, সঠিকভাবে তাকে থাকতে দাও। কেননা এ ব্যাপারে আল্লাহর চূড়ান্ত ফায়ছালা রয়েছে।’ [বুখারী, মুসলিম, মিশকাত, হাদিস নং: ৩১৮৬]

ইমাম কুরতুবী বলেছেন, ছাহাবীগণ রাসুল [সা.] -এর উক্ত কথা থেকে নিষেধই বুঝেছিলেন। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায় রাসুল [সা.] যেন বলেছেন, তোমরা ‘আযল’ কর না, তা না করাই তোমাদের কর্তব্য।’ [সিলসিলা ছহীহাহ, হাদিস নং : ৫৭৫, ছহীহুল জামে, হাদিস নং : ৪০৩৮] রাগিব ইসফাহানীর [রহ.] মতে, ‘আযল’ করে শুক্র বিনষ্ট করা এবং তাকে তার আসল স্থানে নিক্ষেপ না করা স্পষ্ট নিষেধ। [পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩৩]

মুয়াত্তা গ্রন্থ প্রণেতা ইমাম মালেক [রহ.] বলেন, ইবনে ওমর [রা.] ছিলেন তাদের অন্যতম যারা ‘আযল’ পছন্দ করতেন না। [ইসলামের দৃষ্টিতে জন্মনিয়ন্ত্রণ, পৃঃ ১০১-১০২] উল্লেখ্য عزل (আযল) অর্থ হল, পুরুষাঙ্গ স্ত্রীর গোপনাঙ্গের ভেতর থেকে বের করে নেওয়া যেন শুক্র স্ত্রী অঙ্গের ভেতরে স্খলিত হওয়ার পরিবর্তে বাইরে স্খলিত হয়। [পরিবার ও পারিবারিক জীবন, পৃঃ ৩৩২]

আইয়ামে জাহেলিয়াতে যেসব কারণে সন্তান হত্যা করা হত, বর্তমান যামানায় জন্মনিয়ন্ত্রণও ঠিক একই কারণে গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু সোনালী যুগের ‘আযল’ -এর উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে যুগে তিনটি কারণে মুসলমানদের মধ্যে ‘আযল’-এর সাময়িক প্রচলন ছিল।

এক. দাসীর গর্ভে নিজের কোন সন্তান জন্মানো তাঁরা পছন্দ করতেন না, সামাজিক হীনতার কারণে।

দুই. দাসীর গর্ভে কারো সন্তান জন্মালে ওই সন্তানের মাকে হস্তান্তর করা যাবে না, অথচ স্থায়ীভাবে দাসীকে নিজের কাছে রেখে দিতেও তারা প্রস্ত্তত ছিল না।

তিন. দুগ্ধপায়ী শিশুর মা পুনরায় গর্ভ ধারণ করার ফলে প্রথম শিশুর স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কা অথবা পুনরায় সন্তান গর্ভে ধারণ করলে মায়ের স্বাস্থ্যের বিপর্যয়ের আশঙ্কা, কিংবা সন্তান প্রসবের কষ্ট সহ্য করার অনুপযুক্ত তা চিকিৎসকের পরামর্শে যথাযোগ্য বিবেচনায় এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

এই তিনটি কারণের মধ্যে প্রথম দু’টি কারণ বর্তমান যুগে বিলুপ্ত হয়েছে। শেষের তিন নম্বর কারণ ব্যতিরেকে সম্পদ সাশ্রয়ের জন্য ও নিজের আমোদ-প্রমোদের জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ করা বৈধ নয়। পরিশেষে বলব, জন্মনিয়ন্ত্রণ জনসংখ্যা বিস্ফোরণ সমস্যার প্রকৃত সমাধান নয়। বরং জনসংখ্যাকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর ও উৎপাদন বাড়ানো, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপকরণাদির উন্নয়ণের মধ্যেই রয়েছে এ সমস্যার প্রকৃত সমাধান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

ইসলাম কেন মুসলিম পুরুষদের চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি প্রদান করেছে? এমনই এক প্রশ্নের উত্তর যৌক্তিক ব্যাখা দিয়েছেন ড. জাকির নায়েক। পিসটিভি বাংলায় ‘ডিয়ার টু আসক’ আলোচনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখা দিয়েছেন।

কোরআনের আয়াতকে প্রমাণ হিসাবে উপস্থাপন করেন ড. জাকির বলেন, 

‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতিম মেয়েদের হক যথাযথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি এরূপ আশঙ্কা কর যে, তাদের মধ্যে ন্যায় সঙ্গত আচরণ বজায় রাখতে পারবে না, তবে, একটিই অথবা তোমাদের অধিকারভূক্ত দাসীদেরকে; এতেই পক্ষপাতিত্বে জড়িত না হওয়ার অধিকতর সম্ভাবনা।’ সুরা নিসা-৩।

তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মে চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমোদন এ আয়াতটি দ্বারা প্রমাণিত হয়। তবে আয়াতে এও বলা হয়েছে একাধিক স্ত্রীর সমান অধিকার না আদায় করতে পারলে একটা বিয়েই করা যাবে। পৃথিবীর সকল ধর্মই পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে। 

কোনো ধর্মই একটি বিয়েতে সীমাবদ্ধ রাখেনি। তবে ইসলামের সঙ্গে পার্থক্য হচ্ছে, ইসলাম সকলের অধিকার আদায় করতে পারলে একাধিক বিয়ে করা যাবে আর না পারলে একটিই। হিন্দু ধর্মের রামায়ণ ও মহাভারত একাধিক বিয়ে করেছেন। মহাভারতের ১০৮ জন স্ত্রী ছিলো।

তিনি বলেন, ইসলামে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি প্রদানে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। তিনি বলেন, পৃথিবীতে পুরুষের তুলনায় নারীজাতির জন্ম হার বেশি। মেডিকেল পরীক্ষায় জানা যায়, ছেলেদের তুলনায় মেয়ের শরীর রোগ প্রতিরোধের বেশি কার্যকর। 

তাদের মৃত্যু হারও কম। এ ছাড়া অসুস্থ হয়ে, যুদ্ধক্ষেত্রে, মদপান করে ও নানা দুর্ঘটনায় নারীর তুলানায় পুরুষের মৃত্যু বেশি হয়। পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণেই ইসলামে পুরুষের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে।

ড. জাকির নায়েক বলেন, ধর্ম নয়, মানুষই শুধু একটি বিয়ের আইন করেছে। ইন্ডিয়ার প্যানেল কোড একটি বিয়ের আইন করেছে।

https://www.youtube.com/watch?v=6DYEXKTsE3M

বিসমিল্লাহ প্রার্থনা কবুল হওয়ার শর্ত। রাসূল(সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে- যে দোয়া বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু হয় তা প্রত্যাখ্যিত হয় না। জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে।

আরবি হাদিস: 

وَعَن جَابِرٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ: « إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتَهُ، فَذَكَرَ اللهَ تَعَالَى عِنْدَ دُخُولِهِ، وَعِندَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ لأَصْحَابِهِ: لاَ مَبِيتَ لَكُمْ وَلاَ عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ فَلَمْ يَذْكُرِ اللهَ تَعَالَى عِنْدَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: أدْرَكْتُمُ المَبِيتَ ؛ وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللهَ تَعَالَى عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أدْرَكْتُم المَبِيتَ وَالعَشَاءَ ». رواه مسلم

বাংলা হাদিস: 

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কোন ব্যক্তি যখন নিজ বাড়িতে প্রবেশের সময় ও আহারের সময় আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে; অর্থাৎ (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে) তখন শয়তান তার অনুচরদেরকে বলে, আজ না তোমরা এ ঘরে রাত্রি যাপন করতে পারবে, আর না খাবার পাবে। 

অন্যথা যখন সে প্রবেশ কালে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে না), তখন শয়তান বলে, তোমরা রাত্রি যাপন করার স্থান পেলে। আর যখন আহার কালেও আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে না), তখন সে তার চেলাদেরকে বলে, তোমরা রাত্রিযাপন স্থল ও নৈশভোজ উভয়ই পেয়ে গেলে। [মুসলিম ২০১৮, আবু দাউদ ৩৭৬৫, ইবন মাজাহ ৩৮৮৭, আহমদ ১৪৩১৯, ১৪৬৮৮]

বিসমিল্লাহ আল্লাহর প্রতি ভালবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক।

বিসমিল্লাহ শয়তানকে বিতাড়িত করার প্রতীক।

বিসমিল্লাহ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিধানকারী।

বিসমিল্লাহ কর্মসমূহকে সৌন্দর্যমন্ডিত করে।

বিসমিল্লাহ পবিত্র কোরআনের সূরা সমূহের মুকুট।

বিসমিল্লাহ পুলসিরাত অতিক্রম করার লাইসেন্স।

বিসমিল্লাহ নরকের অগ্নিশিখা সমূহকে নির্বাপিত করে।

বিসমিল্লাহ ব্যাথাসমূহের নিরাময়ক।

বিসমিল্লাহ সমস্যাসমূহ সমাধানের চাবিকাঠি।

বিসমিল্লাহ কোরআনের চাবিকাঠি।

বিসমিল্লাহ আল্লাহ তা’ আলার মহিমান্বিত নাম।

বিসমিল্লাহ প্রতিটি আসমানী গ্রন্থের সূচনায় রয়েছে।

বিসমিল্লাহ মানুষের অন্তরকে আলোকিত করে।

বিসমিল্লাহ আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ নাম।

বিসমিল্লাহ মানুষের আত্মিক রোগ সমূহের নিরাময়ক।

বিসমিল্লাহ আল্লাহর দাসত্ব এবং তার প্রতি নির্ভরশীলতার প্রতীক।

বিসমিল্লাহ আসমানের তালা সমূহের চাবি।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজ কথাবার্তা, খাওয়া দাওয়া, লেখাপড়া, ভ্রমন, ঘুমানো ইত্যদি আল্লাহর নামে শুরু করা এবং তা দ্বারা সুবাসিত করা কতই না উত্তম।

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।

দোয়া ৩টি হলো-

১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠাকালে বহু বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন। বেশ কয়েকবার কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক জুলুম, অন্যায়, অত্যাচার পাড়ি দিয়ে তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। বিপদের সময় মহানবী (সা.) যে ৩টি দোয়া পাঠ করতেন সেই দোয়াগুলো উম্মতদেরও পাঠ করাতে বলেছেন।

দোয়া ৩টি হলো-

১। সাদ ইবনে আবি ওক্কাস রা. বলেন, নবীজি সা. দুঃখ-কষ্টের সময় বলতেন :
লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন। (দোয়া ইউনূস)

অর্থ : একমাত্র তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিশ্চয়ই আমি সীমালঙ্ঘনকারী। (তিরমিজি : ৩৫০০)

২। আসমা বিনতে ওমাইর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু শিখিয়ে দেব না যা তুমি দুশ্চিন্তা ও পেরেশানির মধ্যে পড়বে। সাহাবী বললেন, অবশ্যই শেখাবেন। নবীজি বললেন, দোয়াটি হচ্ছে : ‘আল্লাহু আল্লাহ রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান।’

অর্থ : আল্লাহই আল্লাহ আমার প্রতিপালক। আমি তার সঙ্গে কোনো কিছু শরিক করি না। (আবু দাউদ : ১৫২৫)

৩। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সা. বলেন : আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জায়ালতাহু সাহলান, ওআনতা তাজআলুল হুযনা সাহলান ইযা শিইতা।

অর্থ : ইয়া আল্লাহ, কোনো বিষয় সহজ নয়। হ্যাঁ, যাকে তুমি সহজ করে দাও। যখন তুমি চাও তখন তুমি মুশকিলকে সহজ করে দাও। (ইবনে হিব্বান : ৯৭৪)

আমরা প্রত্যেকেই ঘুমের মধ্যে কম-বেশি স্বপ্ন দেখে থাকি। কখনো কখনো খারাপ স্বপ্নও দেখে থাকি। কিন্তু এই খারাপ স্বপ্ন দেখলে আমাদের কি করা উচিত অথবা কি করা উচিত নয় আসুন ইসলামের আলোকে জেনে নেই এর সমাধান।

পবিত্র হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে যে, যদি কোন ব্যক্তি ঘুমের ঘোরে কোন খারাপ স্বপ্ন দেখে তাহলে সে ব্যক্তি ঘুম থেকে জেগে ওঠার সাথে সাথে ( আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রাজিম।) এটা তিনবার পাঠ করে বাম কাঁধের উপর আস্তে আস্তে ফুঁ দেবে। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে ওযু করে দু’রাকায়াত নামাজ আদায় করে স্বপ্নের খারাপ ফলাফল হতে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে।

আর এসব কোন কিছুই সম্ভব না হলে কমপক্ষে শোয়ার অবস্থা পরিবর্তণ করে ঘুমাবে। আর এ খারাপ স্বপ্নের কথা কারো নিকট বলবে না। অবশ্য একান্ত আবশ্যক বলে মনে করলে কোন অভিজ্ঞ আলেমের নিকট বলা যেতে পারে।

সাবধান! কোনরুপ স্বপ্ন না দেখে মিথ্যা বানোয়াটভাবে বর্ণনা করা কবীরা গুণাহ। এদের সম্পর্কে পবিত্র হাদিস শরীফে উল্লেখ আছে, যে ব্যক্তি কোন স্বপ্ন না দেখে বলে থাকে যে, আমি স্বপ্নে দেখেছি এমন ব্যক্তিকে কিয়ামতের মাঠে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।(বুখারী, মুসলিম, তিরমীযি)।

এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি হ’ল, ‘কোন মুসলমান যদি জুম‘আর দিনে বা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করেন’ (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৬৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৭৭৩)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এ দিনের বরকতে মুমিন ব্যক্তিদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে কবরের ফিৎনা তথা আযাব থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ (মির‘আতুল মাফাতীহ ৪/৪৪০)। উক্ত হাদীছটি শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে ‘হাসান’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তবে শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্ব ও হুসাইন সালীম আসাদ বলেন, হাদীছটির শাহেদ থাকলেও সেগুলো এমন শক্তিশালী নয় যা হাদীছকে ছহীহ বা হাসানের পর্যায়ে উন্নীত করবে। অতএব হাদীছটি যঈফ (তাহকীক মুসনাদে আহমাদ হা/৬৫৮২; তাহকীক মুসনাদে আবু ইয়া‘লা হা/৪১১৩)। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহকে যঈফ বলেছেন (ফাৎহুল বারী ৩/২৫৩)। এছাড়া কোন ছাহাবী শুক্রবারে মৃত্যুর জন্য আকাংখা প্রকাশ করেছেন বলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অথচ আবুবকর (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর দিন তথা সোমবারে মৃত্যুর জন্য আকাংখা করেছেন (বুখারী হা/১৩৮৭)। মোদ্দাকথা এরূপ গায়েবের বিষয় ত্রুটিপূর্ণ দলীল দ্বারা সাব্যস্ত না করাই উত্তম হবে। 

এটি তাক্বদীরের বিষয়। যার জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই রয়েছে। অতএব মানুষের কর্তব্য হ’ল আল্লাহকে খুশী করার উদ্দেশ্যে তাঁর বিধান মেনে সাধ্যমত সৎকর্ম করে যাওয়া। কারণ কোন মানুষই জানে না তার ভাগ্যে কি লেখা রয়েছে। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা রাসূল (ছাঃ) একটা ছড়ি দিয়ে মাটির উপর দাগ কাটছিলেন। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে এমন কোন লোক নেই, যার ঠিকানা জাহান্নামে বা জান্নাতে লেখা হয়নি। একথা শুনে একজন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তাহলে সকল আমল ত্যাগ করে আমাদের লিখিত ভাগ্যের উপর ভরসা করব না? তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, তোমরা সৎকর্ম করে যাও। কেননা যাকে যেজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার পক্ষে সে কাজ সহজসাধ্য হবে। যারা সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত, তাদের জন্য সেরূপ আমল এবং যারা দুর্ভাগাদের অন্তর্ভুক্ত তাদের জন্য সেরূপ আমল সহজ করে দেওয়া হয়েছে। অতঃপর তিনি কুরআন থেকে পাঠ করলেন, ‘অতঃপর যে ব্যক্তি দান করে ও আল্লাহভীরু হয় এবং উত্তম বিষয়কে (তাওহীদকে) সত্য বলে বিশ্বাস করে, অচিরেই আমরা তাকে সরল পথের জন্য সহজ করে দেব। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কৃপণতা করে ও বেপরোয়া হয় এবং উত্তম বিষয়কে মিথ্যা মনে করে, অচিরেই আমরা তাকে কঠিন পথের জন্য সহজ করে দেব (লায়েল ৯২/৫-৭, বুখারী হা/৪৯৪৯)। 

তার হজ্জ হয়ে যাবে। হজ্জ বিশুদ্ধ হবে। কেননা পাসপোর্ট নকল করা হজ্জের কর্ম সমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটা হজ্জের বাইরের কাজ। কিন্তু একাজের কারণে সে গুনাহগার হবে। তাকে তওবা করা উচিত। কেননা স্বার্থ সিদ্ধির জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বা প্রশাসনকে ধোঁকা দেয়া একটি মারাত্মক অপরাধ ও বড় গুনাহর কাজ। জেনে রাখা উচিত, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে আল্লাহ তার ব্যবস্থা করে দিবেন, তাকে ধারণাতীত রিযিক দান করবেন, তার সকল কাজ সহজ করে দিবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, সত্য কথা বলবে এবং সৎ পথ অবলম্বন করবে, আল্লাহ্‌ তার কর্ম সংশোধন করে দিবেন এবং তার গুনাহ্‌ ক্ষমা করে দিবেন। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৯) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
সাধারণভাবে সবধরণের পাপকাজ হজ্জের ছওয়াব হ্রাস করে দেয়। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন, ]فَمَنْ فَرَضَ فِيهِنَّ الْحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي الْحَجِّ[ “যে ব্যক্তি ঐ মাসগুলোর মধ্যে হজ্জের সংকল্প করবে, সে স্ত্রী সহবাস, গর্হিত কাজ ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হতে পারবে না।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৭) বরং বিদ্বানদের মধ্যে কেউ বলেছেন, হজ্জ অবস্থায় পাপ কাজ করলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু অধিকাংশ বিদ্বানদের নিকট প্রসিদ্ধ মূলনীতি হচ্ছে: “হারাম কাজটি যদি ইবাদতের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তার কারণে ইবাদত বাতিল হবে না।” সাধারণ পাপ সমূহ হজ্জের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। কেননা তা হজ্জের সময় যেমন হারাম অন্য সময়ও হারাম। এটাই বিশুদ্ধ মত। এ সমস্ত পাপকাজ হজ্জকে বাতিল করে দিবে না। কিন্তু তার ছওয়াব বিনষ্ট করে দিবে। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৮) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
যদি সে ইহরাম না করে থাকে তবে কোন অসুবিধা নেই। কোন কিছু তার উপর আবশ্যক হবে না। কেননা কোন লোক ইহরামে প্রবেশ করার পূর্ব পর্যন্ত ইচ্ছা করলে সম্মুখে অগ্রসর হতে পারে, ইচ্ছা করলে নিজ ঠিকানায় ফেরত আসতে পারে। কিন্তু হজ্জ ফরয হলে, যতদ্রুত সম্ভব আদায় করে নেয়া ভাল। আর ইহরামে প্রবেশ করার পর বাধাগ্রস্ত হলে যদি ইহরাম বাধার সময় শর্ত করে থাকে এই বলে, “আল্লাহুম্মা ইন্‌ হাবাসানী হাবেস্‌, ফা মাহেল্লী হায়ছু হাবাস্‌তানী”, তবে বাধাপ্রাপ্ত স্থানে ইহরাম খুলে ফেলবে। কোন কিছু তার উপর আবশ্যক হবে না। কিন্তু যদি শর্ত করার জন্য এরূপ দু’আ পাঠ না করে থাকে, তবে উক্ত বাধা অচিরেই বিদূরিত হওয়ার আশা থাকলে অপেক্ষা করবে এবং হজ্জ পূর্ণ করবে। আরাফাতে অবস্থানের পূর্বে যদি বাধা মুক্ত হয়, তবে আরাফাতে অবস্থান করে হজ্জ পূর্ণ করবে। কিন্তু আরাফাতে অবস্থানের পর বাধা মুক্ত হলে, হজ্জ ছুটে গেল। তখন ওমরা আদায় করে ইহরাম খুলে ফেলবে। ফরয হজ্জ হয়ে থাকলে পরবর্তী বছর তা কাযা আদায় করবে। কিন্তু অচিরেই বাধা মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে এবং শর্ত না করে থাকলে ইহরাম খুলে ফেলবে এবং কুরবানী করে দিবে। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন, ] وَأَتِمُّوا الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ لِلَّهِ فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ [ “তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ-ওমরা পূর্ণ করবে। যদি বাধাগ্রস্ত হও, তবে সহজসাধ্য কুরবানী করবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬) বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৭) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
এ অবস্থায় মক্কা প্রবেশ করতে না পারলে সে ‘মুহছার’ বা বাধাগ্রস্ত বলে বিবেচিত হবে। তখন বাধাপ্রাপ্ত স্থানে কুরবানী যবেহ করে সে ইহরাম খুলে ফেলবে। যদি ইহা তার প্রথম ফরয হজ্জ হয়ে থাকে তবে পরবর্তী বছর তা আদায় করবে। আর ফরয না হয়ে থাকলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী পরবর্তী বছর তা আদায় করার কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুদায়বিয়ার বছরে বাধাপ্রাপ্ত হলে পরবর্তী বছর তা কাযা আদায় করার নির্দেশ প্রদান করেননি। অতএব আল্লাহর কিতাবে ও রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সুন্নাতে বাধাপ্রাপ্ত হজ্জ বা ওমরা কাযা আদায় করার বাধ্যবাধকতা নেই। আল্লাহ্‌ বলেন, ] فَإِنْ أُحْصِرْتُمْ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ [ “যদি বাধাগ্রস্ত হও, তবে সহজসাধ্য কুরবানী করবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬) এখানে কুরবানী করা ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করা হয়নি। আর পরবর্তী বছর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উমরা আদায়কে কাযা উমরা এজন্যই বলা হয়েছে যে, তিনি কুরায়শদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন যে পরবর্তী বছর ওমরা আদায় করবেন। এই কারণে নয় যে, ছুটে যাওয়া কাজের পূর্ণতার জন্য কাযা আদায় করেছিলেন। (আল্লাহ্‌ই অধিক জ্ঞান রাখেন) বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৬) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
ওমরাকারী মক্কা আগমণ করার সময় যদি নিয়ত করে যে, তওয়াফ, সাঈ ও মাথা মুন্ডন তথা ওমরার কার্যাদী সম্পন্ন করার সাথে সাথে ফেরত চলে যাবে, তবে তাকে বিদায়ী তওয়াফ করতে হবেনা। কেননা তওয়াফে কুদূমই তার জন্য ওমরার তওয়াফ ও বিদায়ী তওয়াফ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু ওমরা সম্পন্ন করার পর যদি মক্কায় অবস্থান করে তবে প্রাধান্যযোগ্য মত হচ্ছে, বিদায়ী তওয়াফ করা ওয়াজিব। একথার দীলল নিম্নরূপঃ প্রথমতঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ব্যাপক নির্দেশঃ ]لا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ[ “সর্বশেষ কাজ বায়তুল্লাহ্‌র তওয়াফ না করে কেউ যেন বের না হয়।” এখানে أَحَدٌ বা ‘কেউ’ শব্দটি অস্পষ্ট। যে কেউ বরে হলেই তার জন্য উক্ত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। অর্থাৎ- তওয়াফ না করে বের হবে না। সে হজ্জকারী হোক বা ওমরাকারী। দ্বিতীয়তঃ ওমরা হজ্জের মতই। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওমরাকে হজ্জ রূপে আখ্যা দিয়েছেন। আমর বিন হাযম কর্তৃক প্রসিদ্ধ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “ওমরা হচ্ছে ছোট হজ্জ।” হাদীছটি মুরসাল। কিন্তু উলামাগণ সাধারণভাবে হাদীছটি গ্রহণ করেছেন। তৃতীয়তঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ক্বিয়ামত পর্যন্ত ওমরা হজ্জের মধ্যে শামিল হয়ে গেছে। অর্থাৎ- হজ্জ করলে ওমরাও আদায় হয়ে গেল। চতুর্থতঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইয়ালা বিন উমাইয়াকে বলেন, ] وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ[ “হজ্জের মধ্যে যেভাবে কাজ করে থাক ওমারাতেও সেভাবে করো।” যদি তুমি হজ্জে বিদায়ী তওয়াফ করে থাক, তবে ওমরাতেও তা কর। তবে বিদ্বানদের ঐকমত্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উক্ত নির্দেশের বাইরে থাকবেঃ আরাফা, মুযদালিফা ও মিনাতে অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ। এগুলো ওমরাতে শরীয়ত সম্মত নয়। তাছাড়া সতর্কতার জন্য এবং যিম্মা মুক্ত হওয়ার জন্য বিদায়ী তওয়াফ করে নেয়াই উচিত। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৫) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
হজ্জ ও ওমরা উভয় ক্ষেত্রে তাকে পুনরায় বিদায়ী তওয়াফ করতে হবে। কেননা নবী (সাঃ) বলেনঃ لا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ “সর্বশেষ কাজ বায়তুল্লাহ্‌র তওয়াফ না করে কেউ যেন বের না হয়।” একথাটি নবীজি বিদায় হজ্জে বলেছেন। সুতরাং বিদায়ী তওয়াফের বিধান সেই সময় থেকে শুরু হয়েছে। একথা বলা ঠিক হবে না যে, নবী তো বিদায় হজ্জের পূর্বে ওমরা করেছেন কিন্তু বিদায়ী তওয়াফ তো করেননি। কেননা বিদায়ী তওয়াফের আবশ্যকতার নির্দেশ তো বিদায় হজ্জে পাওয়া গেছে। আর তিনি এরশাদ করেছেন: وَاصْنَعْ فِي عُمْرَتِكَ كَمَا تَصْنَعُ فِي حَجَّتِكَ “হজ্জের মধ্যে যেভাবে কাজ করে থাক ওমারাতেও সেভাবে করো।” এ নির্দেশটি ব্যাপক অর্থবোধক। কিন্তু তার মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছে আরাফা, মুযদালিফা ও মিনাতে অবস্থান ও কঙ্কর নিক্ষেপ। কেননা সর্বসম্মতিক্রমে একাজগুলো হজ্জের সাথে সম্পর্কিত। এগুলো ছাড়া বাকী কাজ উক্ত হাদীছের আওতাধীন থাকবে। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওমরাকে ছোট হজ্জ রূপে আখ্যা দিয়েছেন। যেমনটি আমর বিন হাযম কর্তৃক প্রসিদ্ধ দীর্ঘ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। হাদীছটি মুরসাল। কিন্তু উলামাগণ সাধারণভাবে হাদীছটি গ্রহণ করেছেন। তাছাড়া আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “তোমরা আল্লাহর জন্য হজ্জ ও ওমরা পূর্ণ কর।” বিদায়ী তওয়াফ যদি হজ্জের পূর্ণতার অংশ হয়, তবে উহা ওমরারও পূর্ণতার অংশ হবে। ওমরাকারী মসজিদে হারামের তাহিয়্যাত হিসেবে তওয়াফের মাধ্যমে ভিতরে প্রবেশ করেছে। সুতরাং কোন তাহিয়্যাত ছাড়া চলে যাওয়াও উচিত হবে না। তাই সে বিদায়ী তওয়াফ করবে। অতএব এই ভিত্তিতে হজ্জের ন্যায় ওমরাতেও বিদায়ী তওয়াফ করা ওয়াজিব। তিরমিযীতে একটি হাদীছ পাওয়া যায়ঃ বলা হয়েছে, “কোন লোক যদি হজ্জ বা ওমরা করে, সে আল্লাহর ঘরের বিদায়ী তওয়াফ না করে যেন বের না হয়।” কিন্তু এই হাদীছটি যঈফ। কেননা এর সনদে হাজ্জাজ বিন আরত্বাত নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছে। সে দুর্বল। এ হাদীছটি দুর্বল না হলে এই মাসআলার সুস্পষ্ট দলীল হিসেবে বিবেচিত হত এবং সকল মতভেদ বিদূরীত হত। কিন্তু দুর্বল হওয়ার কারণে তা দ্বারা দলীল গ্রহণ করার কোন ভিত্তি নেই। তবে আমরা পূর্বে যে সমস্ত মূলনীতি, দলীল ও যুক্তি উপস্থাপন করেছি তার ভিত্তিতে প্রমাণিত হয় যে, ওমরায় বিদায়ী তওয়াফ ওয়াজিব। তাছাড়া এই তওয়াফ সতর্কতা ও যিম্মা মুক্তি স্বরূপও হয়ে যায়। কেননা ওমরাতে আপনি বিদায়ী তওয়াফ করলে তো কেউ আপনাকে বলবে না যে আপনি ভুল করছেন। কিন্তু তা না করলে তো যারা তা ওয়াজিব মনে করে তারা বলবে, আপনি ভুল করলেন। এই কারণে তওয়াফ করাটাই সঠিক হবে। আর তওয়াফ না করলে আশংকা রয়ে যাবে এবং বিদ্বানদের কারো মতে তা ভুল হবে। (আল্লাহই অধিক জ্ঞানী) বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৪) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
তার এই কাজ যথেষ্ট হবে। কিন্তু এর বিপরীত করাই উত্তম। উচিত হচ্ছে, হাজী সাহেব রাত ও দিনের পূরা সময় মিনাতেই অতিবাহিত করবে। ভালভাবে অনুসন্ধান করার পরও যদি কোন মতেই মিনার অভ্যন্তরে স্থান করতে না পারে, তবে সর্বশেষ (খীমা বা) তাঁবুর সংলগ্ন স্থানে তাঁবু করে সেখানে অবস্থান করবে যদিও তা মিনার বাইরে পড়ে। বর্তমান যুগের কোন কোন বিদ্বান মত প্রকাশ করেছেন যে, কোন মানুষ যদি মিনায় অবস্থান করার স্থান না পায়, তবে মিনায় রাত কাটানো রহিত হয়ে যাবে। তখন তার জন্য জায়েয হয়ে যাবে মক্কা বা অন্য কোন স্থানে রাত কাটানো। তাদের কিয়াস হচ্ছে, কোন মানুষের ওযুর কোন অঙ্গ যদি কাটা থাকে তখন সেটা ধৌত করা রহিত হয়ে যায়। কিন্তু তাদের এই মত যুক্তি সংগত নয়। কেননা ওযুর অঙ্গের বিষয়টি ঐ ব্যক্তির পবিত্রতার সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু মিনায় রাত কাটানোর বিষয়টির উদ্দেশ্য হচ্ছে, সমস্ত লোকের একস্থানে সমবেত থাকা। সকলে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে প্রকাশ ঘটানো। সুতরাং ওয়াজিব হচ্ছে, মিনার শেষ তাঁবুর পাশে তাঁবু বানিয়ে থাকা, যাতে করে সে হাজীদের সাথেই রাত কাটাতে পারে। এর উদাহরণ হচ্ছে, নামাযের জামাতে যদি মসজিদ পূর্ণ হয়ে যায়, আর লোকেরা মসজিদের আশে-পাশে বাইরে নামাযে দাঁড়ায়, তবে আবশ্যক হচ্ছে কাতার মিলিত হওয়া। যাতে করে তারা একই জামাতভুক্ত একথা প্রমাণ হয়। রাত কাটানোর বিষয়টি এর সাথে সামঞ্জস্যশীল, শরীরের কর্তিত অঙ্গের সাথে এর তুলনা করা উচিত নয়। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩৩) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
তার হজ্জ বিশুদ্ধ। কেননা সে হজ্জের কোন রুকন পরিত্যাগ করেনি। কিন্তু সে তিনটি ওয়াজিব পরিত্যাগ করেছে- যদি ১২ তারিখের রাত মিনায় না কাটিয়ে থাকে। প্রথম ওয়াজিবঃ ১২ তারিখের রাত মিনায় কাটানো। দ্বিতীয় ওয়াজিবঃ ১২ তারিখে কঙ্কর নিক্ষেপ করা। তৃতীয় ওয়াজিবঃ বিদায়ী তওয়াফ। তার উপর আবশ্যক হচ্ছে প্রতিটি ছেড়ে দেয়া ওয়াজিবের বিনিময়ে একটি করে দম দেয়া। অর্থাৎ মোট তিনটি কুরবানী করে তা মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করে দেয়া। কেননা বিদ্বানদের মতে কেউ যদি হজ্জের কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করে, তবে তার বিনিময়ে কুরবানী করে তা মক্কার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এ উপলক্ষে আমি হাজী সাহেবানদের সতর্ক করতে চাই, প্রশ্নকারী যে রকম ভুল করেছে অধিকাংশ হাজী এরকমই বুঝে থাকে এবং অনুরূপ ভুল করে থাকে। আল্লাহ্‌র বাণীঃ “যে ব্যক্তি দু’দিন থেকে তাড়াহুড়া করে চলে যেতে চায়, তার কোন গুনাহ্‌ নেই।” তারা মনে করে এখানে দু’দিন বলতে ঈদের দিন ও ১১তম দিনকে বুঝানো হয়েছে। তাই তারা ১১ তারিখে কঙ্কর মেরেই মিনা ত্যাগ করে। কিন্তু বিষয়টি এরূপ নয়। এটা একটা মারাত্মক ভুল। কেননা আল্লাহ বলেন, ] وَاذْكُرُوا اللَّهَ فِي أَيَّامٍ مَعْدُودَاتٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ [ “তোমরা নির্দিষ্ট কতিপয় দিনে আল্লাহর যিকির কর। অতঃপর যে ব্যক্তি দু’দিন থাকার পর তাড়াহুড়া করে চলে যেতে চায়, তার কোন গুনাহ্‌ নেই।” (সূরা বাক্বারাঃ ২০৩) এ আয়াতে নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন বলতে আইয়্যামে তাশরীকের দিন সমূহ (তথা জিলহজ্জের ১১, ১২ ও ১৩)কে বুঝানো হয়েছে। আর আইয়ামে তাশরীকের প্রথম দিন হচ্ছে ১১ তারিখ। অতএব উক্ত আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে ব্যক্তি আইয়ামে তাশরীকের মধ্যে থেকে প্রথম দু’দিনে তাড়াহুড়া করে চলে আসবে তার কোন গুনাহ্‌ নেই। আর উক্ত দু’দিনের দ্বিতীয় দিন হচ্ছে ১২তম দিন। সুতরাং প্রত্যেকের উচিত এ মাসআলাটি ভালভাবে অনুধাবন করা এবং ভুল সংশোধন করে নেয়া। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩২) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
কোন অবস্থাতেই যোহরের পূর্বে কঙ্কর মারা জায়েয নয়। জরূরী অবস্থা হিসেবে কঙ্কর নিক্ষেপ করা রহিত হবে না। তবে তার সমাধান হচ্ছে এ অবস্থায় কঙ্কর না মেরেই সে চলে যাবে এবং তার ফিদিয়া প্রদান করবে। আর তা হচ্ছে মক্কা বা মিনায় একটি কুরবানী করবে অথবা কাউকে এর দায়িত্ব প্রদান করবে। এবং উক্ত কুরবানী সেখানকার ফকীরদের মাঝে বিতরণ করে দিবে। এরপর বিদায়ী তওয়াফ করে মক্কা ত্যাগ করবে। হ্যাঁ, যোহরের পূর্বে কঙ্কর মারার বৈধতার ব্যাপারে মত পাওয়া যায়, কিন্তু তা বিশুদ্ধ নয়। সঠিক কথা হচ্ছে, ঈদের পর আইয়্যামে তাশরীকের দিনগুলোতে কোন অবস্থাতেই যোহরের সময়ের পূর্বে কঙ্কর মারা জায়েয নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা আমার নিকট থেকে ইবাদতের (হজ্জ-ওমরার) নিয়ম শিখে নাও।” আর তিনি এই দিনগুলোতে যোহরের পূর্বে কঙ্কর মারেন নি। কেউ যদি বলে যে, যোহরের পর নবীজির কঙ্কর নিক্ষেপ তার সাধারণ একটি কর্ম। আর সাধারণ কর্ম দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় না। জবাবে আমরা বলব, একথা সত্য যে এটি তাঁর সাধারণ কর্ম। তিনি যোহরের পর কঙ্কর নিক্ষেপ করেছেন। এরকম বাচনিক নির্দেশ প্রদান করেন নি যে, ‘কঙ্কর নিক্ষেপ যোহরের পরেই হতে হবে’। তাছাড়া এ সময়ের পূর্বে নিক্ষেপের ব্যাপারে কোন নিষেধও করেন নি। আর তাঁর কর্ম ওয়াজিবের অর্থ বহণ করে না। নির্দেশ সূচক শব্দ ছাড়া কোন কাজ বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব হয় না বা নিষেধ সূচক শব্দ ছাড়া পরিত্যাগ করা ওয়াজিব প্রমাণিত হয় না। কিন্তু আমি বলব, নবীজির উক্ত কর্ম যে ওয়াজিব তার পক্ষে কারণ আছে। আর তা হচ্ছে, কঙ্কর মারার ব্যাপারে যোহরের সময় পর্যন্ত নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর অপেক্ষা করাটাই প্রমাণ করে যে এটা ওয়াজিব। কেননা যোহরের পূর্বে কঙ্কর মারা যদি জায়েয হত, তবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেটাই করতেন। কারণ উম্মতের জন্য এটাই সহজ। আর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে যখন দু’টি বিষয়ের মাঝে স্বাধীনতা দেয়া হত, তখন তিনি উভয়টির মধ্যে থেকে সহজটি গ্রহণ করতেন্ত যদি তাতে কোন পাপ না থাকত। সুতরাং এখানে যখন তিনি সহজ অবস্থাটি গ্রহণ করেন নি অর্থাৎ যোহরের সময় হওয়ার পূর্বে কঙ্কর নিক্ষেপ করেন নি, তখন বুঝা যায় এতে পাপ আছে। অতএব যোহরের সময় হওয়ার পরই কঙ্কর মারা ওয়াজিব। এ কাজটি ওয়াজিব হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার সাথে সাথে যোহরের নামায আদায় করার পূর্বেই কঙ্কর মেরেছেন। যেন তিনি অধির আগ্রহে সূর্য ঢলার অপেক্ষা করছিলেন। যাতে করে দ্রুত কঙ্কর মারতে পারেন। আর একারণেই যোহর নামায দেরী করে আদায় করেছেন। অথচ প্রথম সময়ে অর্থাৎ সময় হওয়ার সাথে সাথেই নামায আদায় করা উত্তম। এথেকেই বুঝা যায় যোহরের সময় হওয়ার পূর্বে কঙ্কর মারা জায়েয হবে না। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩১) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
না, মিনায় রাত থাকা তার উপর আবশ্যক হবে না। সে তাড়াহুড়াকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা সে হজ্জের যাবতীয় কার্যাদী সম্পন্ন করে ফেলেছে। কাজের জন্য মিনায় ফিরে আসা তাড়াহুড়ার পরিপন্থী নয়। কেননা তার মিনায় ফিরে আসার নিয়ত নির্দিষ্ট কাজের জন্য হজ্জের জন্য নয়। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৩০) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
রাত বারোটা যদি মধ্য রাত্রি হয়, তবে তারপর মিনা থেকে বের হলে কোন অসুবিধা নেই। যদিও উত্তম হচ্ছে রাত ও দিনের পূর্ণ অংশ মিনাতেই অবস্থান করা। আর রাত বারোটা যদি মধ্য রাত্রি না হয় তবে বের হওয়া জায়েয হবে না। কেননা মিনায় অবস্থান করার শর্ত হচ্ছে রাতের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হওয়া। যেমনটি ফিক্বাহবিদগণ (রহঃ) উল্লেখ করেছেন। বিষয়/প্রশ্নঃ (৫২৯) গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম বিভাগের নামঃ কিতাবুল হজ্জ লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ) অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী