1 Answers
পরমাণু চিকিৎসা বা নিউক্লিয়ার মেডিসিন ব্যাপারটি আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছেই অজানা ৷ অনেকেই জানেন না আসলে এটি কী, এটা দিয়ে কী চিকিৎসা হয় না রোগ নির্নয় হয় ৷ আসলে বর্তমান সময়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার হল এই পরমাণু চিকিৎসা ৷ এটি রোগের চিকিৎসা এবং রোগ নির্নয় উভয় ক্ষেত্রেই আমরা ব্যবহার করে থাকি ৷ মেডিসিনের সাথে পারমানবিক পদার্থ অর্থাৎ রেডিও একটিভ আইসোটোপ মিলিয়ে তৈরি করা হয় রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস ৷ ভিন্ন ভিন্ন রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস শরীরের ভিন্ন ভিন্ন স্থানের রোগের চিকিৎসা ও নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয় ৷ খুবই সামান্য পরিমাণে এ সকল রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস রোগীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে অথবা মুখে খাওয়ানো হয় ৷ এরপর নির্দিষ্ট সময় পর যখন এ সকল রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস তার ঐ রোগাক্রান্ত স্থানে পৌঁছায় তখন রেডিওলজিক্যাল ডিভাইস দিয়ে তার শরীরে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় যেমন এক্সরে, গামা-রে , আল্ট্রা সাউন্ড ৷ ফলে ঐ সকল অঙ্গে কী সমস্যা হয়েছে বা কোনো এবনরমান কোনো কিছু তৈরি হচ্ছে কিনা তা নির্ণীত হয় যেমন হৃদপিন্ড ঠিকমত স্পন্দিত হচ্ছে কিনা, মস্তিষ্কে ঠিকমত রক্ত পাচ্ছে কিনা বা তার নিউরন কোষগুলো ঠিকমত কাজ করছে কিনা , রক্তনালীতে সঠিকভাবে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে কিনা , কিডনী তার কাজ করছে কিনা বা তাতে কোনো নতুন এবনরমাল টিস্যু ম্যাস তৈরি হচ্ছে কিনা ইত্যাদি ৷ এছাড়াও হাইপারথাইরোইডিজমের রোগীর এবং বিভিন্ন ক্যান্সারের রোগীর চিকিৎসায় আমরা এই রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবহার করে থাকি ৷ তবে এ সকল রেডিওফার্মাসিউটিক্যালস ব্যবহারে কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে তা হল স্তন্যদানকারী মাকে অবশ্যই কয়েকদিন তার সন্তানকে স্তন্যদান হতে বিরত থাকতে হবে এবং এই পদ্ধতি ব্যবহার করার পর থেকে প্রচুর পানি খেতে হয় যাতে করে শরীরে থাকা বাকী রেডিওফার্মাসিউটিক্যালসগুলো বের হয়ে যায় ৷ পরমাণু চিকিৎসা দিয়ে থাকা চিকিৎসকরা এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী নেবার পরই এ সকল চিকিৎসা দেবার অনুমোদন পান ৷ বর্তমানে পুরাতন সবগুলো সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এই বিভাগ রয়েছে যা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্বাবধানে পরিচালিত হয় ৷ লিখেছেন : ডাঃ শুভ বড়ুয়া এমবিবিএস, আল্ট্রাসনোলজিস্ট ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ