3 Answers

অনেক বিধর্মীরাও ইসলামী পোশাক পরে। যেমন- মনমোহন সিংহ পাগড়ী ও পান্জাবী পড়ে। তাই বলে কি তাকে মুসলিম ধরে নেয়া যায়? ইসলামে পর্দা বা সতর ঢাকা ফরজ। সতর ঢাকার পর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত পোশাক পড়া হয় তাতে কোনো ধরণের সমস্যা নাই। বর্তমানে বিশ্বে ধর্মীও গবেষক ও আলোচক ড. জাকির নায়েকও কোর্ট, টাই পরিধান করেন। এটা পরিধান করা যাবে তবে ১০০% জায়েজ বলা যাবে না।

3719 views

ভাই, কোটের সাথে টাই পড়া যাবে কিনা প্রশ্নটির উত্তর এককথায় দেওয়া খুব মুশকিল। তাই বিস্ময় অ্যানসারে এই ক্ষুদে প্লাটফরমে এখটু ব্যাখ্যা করেই এর উত্তর দেওয়াটা সমুচিন মনে করে করছি। দেখুন, অনেকে কোটের সাথে নেক টাই ব্যবহারকে হারাম কাজ বা শিরকি গুনাহ মনে করেন। আসলে বিষয়টি তারা একটু উলটো বুঝে থাকেন। তাঁরা নেক টাইকে মিলিয়ে দেয় ক্রুশের সাথে। যে কোন জিনিসকে ক্রুশের সাথে মিলানোর পূর্বে ক্রুশ সম্বদ্ধে প্রথমে জানতে হবে। ক্রুশ প্রমাণিত হওয়ার জন্য কয়েকটি সর্ত আছে। যেমন: ১। সেটি অবশ্যই যোগ চিহ্নিত হতে হবে। ২। যোগ চিহ্নের উপরের অংশের চেয়ে নিচের অংশ লম্ব হতে হবে। ৩। যোগ চিহ্নের ডানে-বামের হাত সমান হতে হবে। ৪। চিহ্নটি ব্যবহারের সময় অবশ্যই বুকের মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। আমার প্রশ্ন হল,নেক টাই এর সাথে উপরের কোন সর্তের মিল আছে কি? যারা আসলে টাই সম্বন্ধে কথা বলেন,টাই কি এবং কেন ব্যবহার করা হয়, তা কিন্তু তারা মোটেও জানেন না। টাই হল আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক শিক্ষা সনদের বাহ্যিক প্রকাশ। ইংরেজ-গন যখন এ দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেন,তখন থেকেই আমাদের উপমহাদেশে তাদের সকল পদ্ধতি অনুসরণ চলতে থাকে। জানা উচিৎ যে,ডিগ্রী বা গ্র্যাজুয়েটের নিচে শিক্ষা অর্জন কারী ব্যক্তি কখনোই টাই পড়ার অধিকার রাখে না। যদিও বর্তমানে বাসার বা অফিসের দারোয়ানকেও টাই পড়া অবস্থায় দেখা যায়। এর পিছনে মূল কারণ হল,কিছু লোক হটাৎ করে অর্থের মালিক হয়ে কোট-টাই ব্যবহার করা শুরু করে দেয়। তারা মনে করে যে,অর্থশালী হলেই কোট-টাই পরা লাগে, তাই স্ট্যাটাস মেইনটেন করতে টাই পরে। যেহেতু মালিকই জানে না টাই এর মর্যাদা,কাজেই তার গেটের দারোয়ান টাই পরলে দোষের কি? যাদের এগুলো নিয়ে বাদী হওয়ার কথা, তাদের চাকুরী দাতা বা মালিকই টাইয়ের যোগ্য না হয়েই টাই পরে,তাহলে সে জিজ্ঞাসা করবে কাকে? যার ফলে টাইয়ের ব্যবহার আজ যত্র-তত্র। ইংরেজিতে Grade থেকে Graduate শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হল ‘মানসম্মত’। সেই অনুসারে যে ব্যক্তি ডিগ্রী পাস করবে, সে রাষ্ট্রের একটি মানসম্মত অবস্থানে পৌঁছুবে, যাকে বাহ্যিক ভাবে নেক টাই পরিহিত অবস্থায় দেখেই চেনা যাবে। এই ছিল নেক টাইয়ের মুল রহস্য। অথচ কিছু আলেম পূর্ণ তথ্য না জেনেই বলেন যে, নেক টাই ব্যবহার মুসলমানের জন্য নিষিদ্ধ। তাছাড়া পোশাকের ধরণের মধ্যেই ইসলাম ধর্মের সকল বিষয় নিহিত নয়। যেমন সৌদি আরবে সাধারণত ইসলামী পোশাক হল লুঙ্গি-জুব্বা, পাকিস্তানে কাবুলি- সালোয়ার, বাংলাদেশে পায়জামা-পাঞ্জাবী, ইন্দোনেশিয়ায় প্যান্ট-সাফারী ইত্যাদি। সুতরাং দেশ ভেদে পোশাকের পরিবর্তন থাকতেই পারে। তাই বলে না জেনে কোন পোশাককে নাজায়েজ বলা যাবে না। পুরুষদের পোশাক সম্বন্ধে একটাই নির্দেশিকা আছে,তাহলো কোন অবস্থায়ই টাকনার নিচে কাপড় পরিধান করা যাবে না। তবে কোটের সাথে টাই পড়াকে আমরা কোনভাবেই তাক্বওয়ার পোশাক বলতে পারিনা। আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দিন। আমীন!

3719 views

টাইয়ের ব্যাপারে বলতে গেলে এ বিষয়ে আলিমদের মতভেদ আছে। বাস্তবে টাই পড়াতে কোন সমস্যা থাকার কথা না কেননা এটা বিধর্মীদের চিহ্ন নয়। খ্রিষ্টানদের বাইবেলে এমন কিছু নেই যা বলছে যে টাই তাদের ধর্মের চিহ্নের মদ্ধে একটি। অন্যদিকে ক্রস হচ্ছে তাদের চিহ্ন যা পরিধান করা হারাম। আশা করি উত্তর পেয়েছেন।

3719 views

Related Questions