1 Answers

সূরা যিলযালের গুরুত্ব: (১) সূরাটিতে ক্বিয়ামত প্রাক্কালের চূড়ান্ত ভূকম্পনের ভয় প্রদর্শন করা হয়েছে এবং মানুষকে অণু পরিমান সৎকর্ম হ’লেও তা করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। (২) কবি ফারাযদাক্ব -এর চাচা (বরং দাদা) ছা‘ছা‘আহ বিন মু‘আবিয়া রাসূল (ছাঃ)-এর দরবারে এলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে সূরা যিলযাল পুরাটা শুনিয়ে দিলেন। শেষে পৌঁছে গেলে তিনি বলে উঠলেন, ﺣَﺴْﺒِﻰ ﻻَ ﺃُﺑَﺎﻟِﻰ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺃَﺳْﻤَﻊَ ﻏَﻴْﺮَﻫَﺎ ‘যথেষ্ট! এটা ব্যতীত কুরআনের আর কিছু না শুনলেও চলবে’। (৩) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) -এর কাছে এল। অতঃপর বলল, ﺃَﻗْﺮِﺋْﻨِﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে কুরআন শিক্ষা দিন’। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তুমি ‘আলিফ লাম রা’ বিশিষ্ট সূরা সমূহের তিনটি পাঠ কর। লোকটি বলল, আমার বয়স বেশী হয়ে গেছে, হৃদয় শক্ত হয়ে গেছে, জিহবা মোটা হয়ে গেছে। রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘হা-মীম’ বিশিষ্ট সূরা পড়। লোকটি আগের মতই বলল। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহ’লে ‘মুসাব্বিহাত’ থেকে তিনটি পড়। লোকটি আগের মতই বলল। অতঃপর বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি ব্যাপক অর্থপূর্ণ সূরা )ﺳُﻮْﺭَﺓٌ ﺟَﺎﻣِﻌَﺔٌ ( শিক্ষা দিন। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাকে সূরা যিলযাল পাঠ করে শুনালেন। ক্বিরাআত শেষ হ’লে লোকটি বলল, ﻭَﺍﻟَّﺬِﻯ ﺑَﻌَﺜَﻚَ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﻻَ ﺃَﺯِﻳﺪُ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ ﺃَﺑَﺪﺍً ‘যে মহান সত্তা আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম করে বলছি, আমি এর উপরে মোটেই বৃদ্ধি করব না’। অতঃপর লোকটি পিঠ ফিরে চলে যেতে থাকল। তখন রাসূল (ছাঃ) দু’বার বললেন, ﺃَﻓْﻠَﺢَ ﺍﻟﺮُّﻭَﻳْﺠِﻞُ ‘লোকটি সফলকাম হ’ল’। অতঃপর বললেন, ﻋَﻠَﻰَّ ﺑِﻪِ ‘ওকে আমার কাছে ডেকে আনো’। লোকটিকে ফিরিয়ে আনা হ’ল। তখন রাসূল (ছাঃ) তাকে বললেন, ﺃُﻣِﺮْﺕُ ﺑِﻴَﻮْﻡِ ﺍﻷَﺿْﺤَﻰ ﺟَﻌَﻠَﻪُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋِﻴﺪﺍً ﻟِﻬَﺬِﻩِ ﺍﻷُﻣَّﺔِ ‘আমি ঈদুল আযহা সম্পর্কে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ এদিনকে এ উম্মতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্ধারিত করেছেন’। লোকটি বলল, হে রাসূল! আমি যদি ছোট একটি মাদী বকরীছানা ব্যতীত কিছুই না পাই, তাহ’লে আমি কি সেটাকে কুরবানী করব? রাসূল (ছাঃ) বললেন, না। বরং তুমি ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﺗَﺄْﺧُﺬُ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺮِﻙَ ﻭَﺗُﻘَﻠِّﻢُ ﺃَﻇْﻔَﺎﺭَﻙَ ﻭَﺗَﻘُﺺُّ ﺷَﺎﺭِﺑَﻚَ ﻭَﺗَﺤْﻠِﻖُ ﻋَﺎﻧَﺘَﻚَ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﺗَﻤَﺎﻡُ ﺃُﺿْﺤِﻴَﺘِﻚَ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ‘তোমার চুল-নখ কাটো, গোফ ছাটো, গুপ্তাঙ্গের লোম ছাফ কর, এটাই তোমার জন্য আল্লাহর নিকটে পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হবে’। (৪) আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল ‘আছ (রাঃ) বলেন, সূরা যিলযাল নাযিল হ’লে আবুবকর (রাঃ) কাঁদতে থাকেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, ﻟَﻮْﻻ ﺃﻧَّﻜُﻢْ ﺗُﺬْﻧِﺒُﻮْﻥَ ﻟَﺨَﻠَﻖَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺧَﻠْﻘًﺎ ﻳُﺬْﻧِﺒُﻮْﻥَ ﻭَﻳَﻐْﻔﺮُ ﻟَﻬُﻢْ ‘যদি তোমরা পাপ’ না হ’তে, তাহ’লে অবশ্যই আল্লাহ আরেকটি সম্প্রদায় সৃষ্টি করতেন, যারা পাপী হ’ত এবং তিনি তাদের ক্ষমা করতেন’। (৫) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) অত্র সূরার শেষ দু’টি আয়াতকে একত্রে ﺍﻵﻳَﺔُ ﺍﻟْﻔَﺎﺫَّﺓُ ﺍﻟْﺠَﺎﻣِﻌَﺔُ ‘অনন্য ও সারগর্ভ আয়াত’ বলে অভিহিত করেছেন।

2844 views

Related Questions